মরক্কো থেকে ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও ফেডারেশনের সহসভাপতিরা তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তাবিথ আউয়াল জানান, সংক্ষিপ্ত এই বৈঠকে বাংলাদেশের ফুটবলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের অর্থের ব্যবহার এবং তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবল ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের অর্থ ছাড় ও তা ব্যবহারের বিষয়টি। বাফুফে সভাপতি জানান, সরকার ইতোমধ্যে ফেডারেশনকে ১৫ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি দুটি স্টেডিয়াম পরিচালনার দায়িত্বও পেয়েছে বাফুফে।তাবিথ আউয়াল বলেন, ফিফার বরাদ্দ করা অর্থ দিয়ে স্টেডিয়াম সংস্কার, আধুনিক ফ্লাডলাইট স্থাপন, টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণ এবং সিলেটে একটি অত্যাধুনিক হাইব্রিড পিচ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই এসব প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ সফরে ফিফা সভাপতির সম্ভাব্য আগমন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাবিথ আউয়াল জানান, টেকনিক্যাল সেন্টার, সিলেটের হাইব্রিড পিচ ও স্টেডিয়াম সংস্কারের কাজ দৃশ্যমান হলে সেগুলোর উদ্বোধনে ইনফান্তিনোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আমন্ত্রণে সাড়া দিতে ফিফা সভাপতি আগ্রহী। তবে সফরের বিষয়টি নির্ভর করবে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির ওপর।বাফুফে সভাপতি আরও জানান, বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নে সরকারের নেওয়া দুটি উদ্যোগের কথা শুনে ফিফা সভাপতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। উদ্যোগ দুটি হলো স্টেডিয়ামগুলোতে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার এবং চতুর্থ শ্রেণি থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফুটবলসহ অন্যান্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা।
এদিকে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ফুটবলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও ফিফা সভাপতিকে জানিয়েছে বাফুফে। যুক্তরাজ্য, ইতালি, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করায় এসব দেশে ফুটবল কার্যক্রম সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে ফেডারেশন।
বৈঠকে সম্প্রতি আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সান মারিনোর মতো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলার আগ্রহের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তাবিথ আউয়াল বলেন, বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নে সরকার ও বাফুফের আন্তরিকতা ফিফা সভাপতির নজর কেড়েছে। ঢাকা ছাড়ার আগে ইনফান্তিনো বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমী ও বাফুফের উদ্দেশে একটি বিশেষ ভিডিও বার্তাও দিয়ে গেছেন। আগামী দিনে ফিফার কাছ থেকে বাংলাদেশ আরও বড় পরিসরে সহযোগিতা ও সমর্থন পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬
মরক্কো থেকে ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও ফেডারেশনের সহসভাপতিরা তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তাবিথ আউয়াল জানান, সংক্ষিপ্ত এই বৈঠকে বাংলাদেশের ফুটবলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের অর্থের ব্যবহার এবং তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবল ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের অর্থ ছাড় ও তা ব্যবহারের বিষয়টি। বাফুফে সভাপতি জানান, সরকার ইতোমধ্যে ফেডারেশনকে ১৫ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে। পাশাপাশি দুটি স্টেডিয়াম পরিচালনার দায়িত্বও পেয়েছে বাফুফে।তাবিথ আউয়াল বলেন, ফিফার বরাদ্দ করা অর্থ দিয়ে স্টেডিয়াম সংস্কার, আধুনিক ফ্লাডলাইট স্থাপন, টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণ এবং সিলেটে একটি অত্যাধুনিক হাইব্রিড পিচ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই এসব প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ সফরে ফিফা সভাপতির সম্ভাব্য আগমন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাবিথ আউয়াল জানান, টেকনিক্যাল সেন্টার, সিলেটের হাইব্রিড পিচ ও স্টেডিয়াম সংস্কারের কাজ দৃশ্যমান হলে সেগুলোর উদ্বোধনে ইনফান্তিনোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আমন্ত্রণে সাড়া দিতে ফিফা সভাপতি আগ্রহী। তবে সফরের বিষয়টি নির্ভর করবে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির ওপর।বাফুফে সভাপতি আরও জানান, বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নে সরকারের নেওয়া দুটি উদ্যোগের কথা শুনে ফিফা সভাপতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। উদ্যোগ দুটি হলো স্টেডিয়ামগুলোতে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার এবং চতুর্থ শ্রেণি থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফুটবলসহ অন্যান্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা।
এদিকে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ফুটবলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও ফিফা সভাপতিকে জানিয়েছে বাফুফে। যুক্তরাজ্য, ইতালি, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করায় এসব দেশে ফুটবল কার্যক্রম সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে ফেডারেশন।
বৈঠকে সম্প্রতি আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সান মারিনোর মতো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলার আগ্রহের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তাবিথ আউয়াল বলেন, বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নে সরকার ও বাফুফের আন্তরিকতা ফিফা সভাপতির নজর কেড়েছে। ঢাকা ছাড়ার আগে ইনফান্তিনো বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমী ও বাফুফের উদ্দেশে একটি বিশেষ ভিডিও বার্তাও দিয়ে গেছেন। আগামী দিনে ফিফার কাছ থেকে বাংলাদেশ আরও বড় পরিসরে সহযোগিতা ও সমর্থন পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন