English / বাংলা
Editorial News 24

নির্বাচন

নিজেদের প্রণীত আইনেই আওয়ামী লীগের বিচার হবে: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগের প্রণীত আইনেই দলটির বিচার করার সুযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-১৯৭৩ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯–এ সংগঠনের বিরুদ্ধে বিচারের বিধান থাকায় প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র পরিচালনার সময় আওয়ামী লীগ দল হিসেবে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় থেকেও দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিচার বিদ্যমান আইনেই করা সম্ভব।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আমিনুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণয়ন করে। পরে ২০১০ সালে সেই আইনের আওতায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ২০১৩ সালে আইনটি সংশোধন করে সেখানে ‘অর্গানাইজেশন’ বা সংগঠনের বিষয়টি যুক্ত করা হয়। এছাড়া ২০০৯ সালে প্রণীত সন্ত্রাসবিরোধী আইনেও ব্যক্তি ছাড়াও কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে বিচারের বিধান রাখা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা ব্যবহার করেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। অর্থাৎ সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামো আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ই তৈরি করা হয়েছিল।চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য, বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-১৯৭৩ অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে। একই আইনের আওতায় তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।তিনি অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে নির্বিচারে সহিংসতা চালানোর অভিযোগও রয়েছে।আমিনুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় অভিযোগগুলোও আলাদাভাবে তদন্তের সুযোগ রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিজেদের প্রণীত আইনেই আওয়ামী লীগের বিচার হবে: চিফ প্রসিকিউটর