স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের মসৃণ, টেকসই ও স্থায়ী উত্তরণ নিশ্চিত করতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং গ্রুপ অব সেভেনটি সেভেন অ্যান্ড চায়না (জি৭৭)।শুক্রবার ঢাকায় প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পৃথক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতি এ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়।বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে জাতিসংঘে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্তাভরস লামব্রিনিদিস এবং জি৭৭ ও চীনের চেয়ার ও জাতিসংঘে উরুগুয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশের অনুরোধের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় দরকার।তিনি আরও বলেন, বাড়তি সময় পেলে সুশাসন জোরদার, আর্থিক খাতের উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, দেশীয় সম্পদ আহরণ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ আরও সুসংহত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও বাড়বে।ইইউ রাষ্ট্রদূত স্তাভরস লামব্রিনিদিস বাংলাদেশের সুশাসন ও টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণে ইইউর সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।অন্যদিকে রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশের যুক্তিকে শক্তিশালী বলে উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশের সংস্কার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে এ বিষয়ে জি৭৭-এর সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানান।এ ছাড়া বাংলাদেশের উত্তরণ কৌশল নিয়ে জি৭৭ভুক্ত দেশগুলোর জন্য একটি পৃথক ব্রিফিং আয়োজনের প্রস্তাব দেন তিনি। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানায়।বৈঠক শেষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী জানান, বাংলাদেশের মসৃণ, টেকসই ও স্থায়ী এলডিসি উত্তরণে ইইউ তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।