English / বাংলা
Editorial News 24

অডিটে আরও উঠে এসেছে, গত নয় বছরে ব্যাংকিং বিধি লঙ্ঘন করে ৭২ লাখ ৭৭ হাজার ২১৯ টাকা নগদে ব্যয় করা হয়েছে

ঢাকা সিটি কলেজে ১০৫ শিক্ষকের নিয়োগে অনিয়ম


প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

ঢাকা সিটি কলেজে ১০৫ শিক্ষকের নিয়োগে অনিয়ম

রাজধানীর ঢাকা সিটি কলেজে শিক্ষক নিয়োগ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) অডিট প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলেজটির ১৯৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ১০৫ জনের নিয়োগে সরকারি আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করা হয়নি।

অডিটে আরও উঠে এসেছে, গত নয় বছরে ব্যাংকিং বিধি লঙ্ঘন করে ৭২ লাখ ৭৭ হাজার ২১৯ টাকা নগদে ব্যয় করা হয়েছে। একই সময়ে ভ্যাট ও উৎসে আয়কর বাবদ ৩১ লাখ ২৪ হাজার ৭৫৯ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া গভর্নিং বডির সদস্যদের নিয়মবহির্ভূতভাবে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩০ টাকা সম্মানী দেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

ডিআইএ এসব অনিয়মকে আর্থিক বিধির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংশ্লিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে চালানের কপি মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

১০৫ শিক্ষকের নিয়োগে অনিয়ম

অডিট প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলেজে অনুমোদিত ১৯৮টি শিক্ষক পদের মধ্যে ১০৫ জনের নিয়োগে গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে। প্রথম ১০০ জনের নিয়োগে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও সাক্ষাৎকার নেওয়া হলেও নিয়োগ কমিটিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না।

এ ছাড়া পৃথক নিয়োগ কমিটি গঠন এবং গভর্নিং বডির বৈধ অনুমোদনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণও কলেজ কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি।

অন্য পাঁচজন শিক্ষকের নিয়োগে অনিয়ম আরও গুরুতর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো বিজ্ঞপ্তি, সাক্ষাৎকার, নিয়োগ কমিটি বা গভর্নিং বডির অনুমোদনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এসব নিয়োগকে অবৈধ ও বিধিবহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত করেছে ডিআইএ।

অতিরিক্ত শিক্ষক পদায়ন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুসরণ না করে কলেজটিতে অতিরিক্ত ৩৪ জন অধ্যাপক ও ৪৭ জন সহযোগী অধ্যাপক পদে শিক্ষক পদায়ন করা হয়েছে। তাঁদের চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডে বেতন-ভাতা দেওয়াকেও বিধিবহির্ভূত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নগদ ব্যয় ও রাজস্ব ফাঁকি

সরকারি বিধি অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যাংকে জমা রেখে চেকের মাধ্যমে ব্যয় করার কথা। তবে ২০১২-১৩ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত ঢাকা সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষ ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার না করে নগদে ৭২ লাখ ৭৭ হাজার ২১৯ টাকা ব্যয় করেছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন কেনাকাটা, নির্মাণকাজ, আপ্যায়ন ও অন্যান্য খাতে ভ্যাট এবং উৎসে আয়কর কর্তন না করায় সরকার ৩১ লাখ ২৪ হাজার ৭৫৯ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অডিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

গভর্নিং বডির সদস্যদের সম্মানী

অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে পরিদর্শনের সময় পর্যন্ত গভর্নিং বডির সদস্যদের ‘সিটিং অ্যালাউন্স’ বা সম্মানী হিসেবে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩০ টাকা দেওয়া হয়েছে। ডিআইএর মতে, এ ধরনের সম্মানী দেওয়ার কোনো বিধান নেই। তাই পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কলেজ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন প্রশাসনিক ও একাডেমিক নথি পরিদর্শন দলের কাছে উপস্থাপন করতে পারেনি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব

অডিট প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী কর্মকর্তারা ঢাকা সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ ‘ব্রডশিট’ আকারে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

ডিআইএ পরিচালক প্রফেসর এম. এম. সহিদুল ইসলাম বলেন, অডিট প্রতিবেদনের জবাব ও প্রমাণক পর্যালোচনার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবে।


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬


ঢাকা সিটি কলেজে ১০৫ শিক্ষকের নিয়োগে অনিয়ম

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬

featured Image

রাজধানীর ঢাকা সিটি কলেজে শিক্ষক নিয়োগ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) অডিট প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলেজটির ১৯৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ১০৫ জনের নিয়োগে সরকারি আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করা হয়নি।

অডিটে আরও উঠে এসেছে, গত নয় বছরে ব্যাংকিং বিধি লঙ্ঘন করে ৭২ লাখ ৭৭ হাজার ২১৯ টাকা নগদে ব্যয় করা হয়েছে। একই সময়ে ভ্যাট ও উৎসে আয়কর বাবদ ৩১ লাখ ২৪ হাজার ৭৫৯ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া গভর্নিং বডির সদস্যদের নিয়মবহির্ভূতভাবে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩০ টাকা সম্মানী দেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে।

ডিআইএ এসব অনিয়মকে আর্থিক বিধির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংশ্লিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে চালানের কপি মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

১০৫ শিক্ষকের নিয়োগে অনিয়ম

অডিট প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলেজে অনুমোদিত ১৯৮টি শিক্ষক পদের মধ্যে ১০৫ জনের নিয়োগে গুরুতর অনিয়ম পাওয়া গেছে। প্রথম ১০০ জনের নিয়োগে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও সাক্ষাৎকার নেওয়া হলেও নিয়োগ কমিটিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না।

এ ছাড়া পৃথক নিয়োগ কমিটি গঠন এবং গভর্নিং বডির বৈধ অনুমোদনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণও কলেজ কর্তৃপক্ষ দেখাতে পারেনি।

অন্য পাঁচজন শিক্ষকের নিয়োগে অনিয়ম আরও গুরুতর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো বিজ্ঞপ্তি, সাক্ষাৎকার, নিয়োগ কমিটি বা গভর্নিং বডির অনুমোদনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এসব নিয়োগকে অবৈধ ও বিধিবহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত করেছে ডিআইএ।

অতিরিক্ত শিক্ষক পদায়ন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুসরণ না করে কলেজটিতে অতিরিক্ত ৩৪ জন অধ্যাপক ও ৪৭ জন সহযোগী অধ্যাপক পদে শিক্ষক পদায়ন করা হয়েছে। তাঁদের চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডে বেতন-ভাতা দেওয়াকেও বিধিবহির্ভূত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নগদ ব্যয় ও রাজস্ব ফাঁকি

সরকারি বিধি অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যাংকে জমা রেখে চেকের মাধ্যমে ব্যয় করার কথা। তবে ২০১২-১৩ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত ঢাকা সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষ ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার না করে নগদে ৭২ লাখ ৭৭ হাজার ২১৯ টাকা ব্যয় করেছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন কেনাকাটা, নির্মাণকাজ, আপ্যায়ন ও অন্যান্য খাতে ভ্যাট এবং উৎসে আয়কর কর্তন না করায় সরকার ৩১ লাখ ২৪ হাজার ৭৫৯ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অডিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

গভর্নিং বডির সদস্যদের সম্মানী

অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে পরিদর্শনের সময় পর্যন্ত গভর্নিং বডির সদস্যদের ‘সিটিং অ্যালাউন্স’ বা সম্মানী হিসেবে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৩৪ হাজার ৮৩০ টাকা দেওয়া হয়েছে। ডিআইএর মতে, এ ধরনের সম্মানী দেওয়ার কোনো বিধান নেই। তাই পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কলেজ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন প্রশাসনিক ও একাডেমিক নথি পরিদর্শন দলের কাছে উপস্থাপন করতে পারেনি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব

অডিট প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী কর্মকর্তারা ঢাকা সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ ‘ব্রডশিট’ আকারে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

ডিআইএ পরিচালক প্রফেসর এম. এম. সহিদুল ইসলাম বলেন, অডিট প্রতিবেদনের জবাব ও প্রমাণক পর্যালোচনার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেবে।



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।