কঠিন বিপদে করণীয় কী? শায়খ আহমাদুল্লাহর পরামর্শে ৪ আমল যা বদলে দিতে পারে জীবন
মানুষের জীবন সুখ-দুঃখ, স্বস্তি-সংকট এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার সমন্বয়ে গঠিত। কখনও অর্থকষ্ট, কখনও অসুস্থতা, পারিবারিক অশান্তি, চাকরি হারানো কিংবা মানসিক চাপ—নানাভাবে মানুষ বিপদের মুখোমুখি হয়। ইসলাম এমন পরিস্থিতিতে হতাশ না হয়ে ধৈর্য, দোয়া ও আল্লাহর ওপর ভরসা করার শিক্ষা দেয়।আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ সম্প্রতি এক আলোচনায় কঠিন বিপদের সময় চারটি গুরুত্বপূর্ণ আমল নিয়মিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই আমলগুলো অনেক মানুষকে করতে বলেছেন এবং যারা আন্তরিকভাবে করেছেন, তাদের অনেকেই সুফল পেয়েছেন।তিনি আরও বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি এসব আমল করার পরও বিপদ থেকে মুক্তি না পান, তাহলে বুঝতে হবে হয় আমলে আন্তরিকতার ঘাটতি ছিল, নয়তো সেই বিপদের মধ্যেই আল্লাহ কোনো কল্যাণ নির্ধারণ করে রেখেছেন।১. বেশি বেশি ইস্তেগফার করাশায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, বিপদে পড়লে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে ইস্তেগফার বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনাকে।রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করবে, আল্লাহ তার জন্য প্রতিটি সংকট থেকে বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেবেন এবং অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করবেন।পড়া যেতে পারে—
আস্তাগফিরুল্লাহ
আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি
রাব্বিগ ফিরলি ওয়া তুব আলাইয়া, ইন্নাকা আন্তাত তাওয়াবুর রহিম
২. বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠআল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন—
"নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পাঠ করো।"
(সুরা আহযাব: ৫৬)
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করলে আল্লাহ বান্দার দুশ্চিন্তা দূর করেন এবং রহমত নাজিল করেন।সংক্ষিপ্ত দরুদ হিসেবে পড়া যেতে পারে—
আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহি
৩. দোয়া ইউনুস নিয়মিত পাঠসংকট, ভয়, দুশ্চিন্তা ও অসহায় অবস্থায় দোয়া ইউনুস অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি দোয়া।হজরত ইউনুস (আ.) মাছের পেটের অন্ধকারে এই দোয়া পাঠ করেছিলেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করে তাঁকে মুক্তি দিয়েছিলেন।দোয়া—
লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জালিমিন।
হাদিসে এসেছে, এই দোয়া পড়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলে তিনি বান্দার দুশ্চিন্তা দূর করে দেন।৪. ‘ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম’ বেশি বেশি পড়াশায়খ আহমাদুল্লাহ চতুর্থ আমল হিসেবে "ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম" জিকিরটি বেশি বেশি পড়ার পরামর্শ দেন।রাসুলুল্লাহ (সা.) এ জিকিরকে আঁকড়ে ধরতে বলেছেন। এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর মহিমা, মর্যাদা ও করুণার কাছে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ করে।তাহাজ্জুদ ও নফল ইবাদতের গুরুত্বচারটি আমলের পাশাপাশি তিনি তাহাজ্জুদ নামাজ, নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত এবং আন্তরিক দোয়ার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন। কারণ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যমে মানুষ মানসিক প্রশান্তি লাভ করে এবং কঠিন সময় মোকাবিলার শক্তি পায়।ইসলামের শিক্ষা
ইসলাম শেখায়, বিপদে হতাশ হওয়া নয়; বরং ধৈর্য ধরা, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা, দোয়া করা এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখাই একজন মুমিনের প্রকৃত পথ। আন্তরিক ইবাদত ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহ যেকোনো সংকট সহজ করে দিতে সক্ষম।