English / বাংলা
Editorial News 24

ইন্টারপোলের মাধ্যমে পাঠানো দুবাই পুলিশের চিঠি পাঁচ দিন আগে বাংলাদেশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক সূত্র

বেনজীরকে ফেরাতে দুবাই পুলিশের চার প্রশ্ন


প্রকাশ : ২০ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

বেনজীরকে ফেরাতে দুবাই পুলিশের চার প্রশ্ন

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে দুবাই পুলিশ। তবে প্রত্যর্পণের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে তারা।

ইন্টারপোলের মাধ্যমে পাঠানো দুবাই পুলিশের চিঠি পাঁচ দিন আগে বাংলাদেশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক সূত্র। বর্তমানে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখার সহযোগিতায় চিঠির জবাব প্রস্তুত করছে দুদক।দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম জানান, চিঠি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত জবাব পাঠিয়ে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুবাই পুলিশের চিঠিতে মূলত চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—বাংলাদেশ কোন আইন ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরত নিতে চায়। কারণ, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ বিষয়ে কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নেই।

এ ছাড়া বাংলাদেশের আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি, এর কার্যকারিতা এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় আইন মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন সমন্বয় করছে—এসব বিষয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই কর্তৃপক্ষ।কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় এ ধরনের প্রশ্ন স্বাভাবিক। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যাখ্যা ও নথিপত্রসহ দ্রুত জবাব পাঠানো হবে। তাঁদের মতে, দুবাই পুলিশের চিঠি থেকে বেনজীরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে তাদের ইতিবাচক অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে। এরপর ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাঁর প্রত্যর্পণের আবেদন জানায় বাংলাদেশ। দুদকের প্রস্তুত করা প্রায় ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠানো হয়।বেনজীর বর্তমানে দুবাইয়ের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বেনজীর আহমেদ ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, র‍্যাবের মহাপরিচালক এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে দুদক। পরে আদালতের আদেশে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সম্পদ জব্দ করা হয়।পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোল তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার ও জালিয়াতিসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬


বেনজীরকে ফেরাতে দুবাই পুলিশের চার প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬

featured Image

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে দুবাই পুলিশ। তবে প্রত্যর্পণের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে তারা।

ইন্টারপোলের মাধ্যমে পাঠানো দুবাই পুলিশের চিঠি পাঁচ দিন আগে বাংলাদেশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক সূত্র। বর্তমানে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখার সহযোগিতায় চিঠির জবাব প্রস্তুত করছে দুদক।দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম জানান, চিঠি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত জবাব পাঠিয়ে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুবাই পুলিশের চিঠিতে মূলত চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—বাংলাদেশ কোন আইন ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরত নিতে চায়। কারণ, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ বিষয়ে কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নেই।

এ ছাড়া বাংলাদেশের আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি, এর কার্যকারিতা এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় আইন মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন সমন্বয় করছে—এসব বিষয়েও ব্যাখ্যা চেয়েছে দুবাই কর্তৃপক্ষ।কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় এ ধরনের প্রশ্ন স্বাভাবিক। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যাখ্যা ও নথিপত্রসহ দ্রুত জবাব পাঠানো হবে। তাঁদের মতে, দুবাই পুলিশের চিঠি থেকে বেনজীরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে তাদের ইতিবাচক অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে। এরপর ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাঁর প্রত্যর্পণের আবেদন জানায় বাংলাদেশ। দুদকের প্রস্তুত করা প্রায় ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠানো হয়।বেনজীর বর্তমানে দুবাইয়ের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বেনজীর আহমেদ ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, র‍্যাবের মহাপরিচালক এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে দুদক। পরে আদালতের আদেশে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সম্পদ জব্দ করা হয়।পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোল তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার ও জালিয়াতিসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।