English / বাংলা
Editorial News 24

খেলা

স্পেনের সামনে একাই লড়লেন মার্টিনেজ

বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে ভাঙা আঙুলের ব্যথা নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। পুরো টুর্নামেন্টে নিজের সেরা ছন্দে না থাকলেও ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছিলেন এই গোলরক্ষক।দাপুটে স্পেনের সামনে আর্জেন্টিনার প্রায় সব বিভাগই যখন অসহায়, তখন একাই দলকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছিলেন মার্টিনেজ। ১২০ মিনিটের ম্যাচে স্পেনের ১১টি শট ঠেকান তিনি। বিপরীতে টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জেতা স্পেনের উনাই সিমনের মোট সেভ ছিল ১০টি।ম্যাচের শুরুতেই লামিনে ইয়ামালের শট ঠেকিয়ে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন মার্টিনেজ। এরপর মিকেল ওয়ারজাবাল, আলেক্স বায়েনা, দানি ওলমো, ফেরান তোরেস, পেদ্রি, পাউ কুবারসি, আইমেরিক লাপোর্ত, নিকো উইলিয়ামস ও ইয়ামালের একাধিক প্রচেষ্টাও প্রতিহত করেন তিনি।তবে এত দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও একটি মুহূর্ত হয়তো মার্টিনেজকে দীর্ঘদিন তাড়িয়ে বেড়াবে। নাহুয়েল মোলিনার পেছনে পড়ে যাওয়া একটি ক্রস নিকো উইলিয়ামস হেড করে মাঠের ভেতরে ফেরান। সেই বল থেকেই ফেরান তোরেস গোল করে আর্জেন্টিনার জালে বল জড়ান।অনেকের মতে, ক্রসটি আটকানোর সুযোগ ছিল মার্টিনেজের। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে ছয় গজের বক্সেই থেকে যান। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্পেন এগিয়ে যায় এবং ভেঙে যায় আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন।২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর মার্টিনেজ জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালে আরও একটি বিশ্বকাপ জিততে চান। সেই লক্ষ্যেই ইউরোপা লিগের ফাইনালে ডান হাতের অনামিকা আঙুল ভাঙার পরও অস্ত্রোপচার না করে খেলতে থাকেন তিনি। ফাইনালের আগে স্বীকার করেছিলেন, প্রতিটি ম্যাচেই ব্যথা নিয়ে খেলেছেন।শেষ বাঁশির পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা যখন হতাশায় ভেঙে পড়েছিলেন, তখনও সতীর্থদের পাশে ছিলেন মার্টিনেজ। একে একে সবার পিঠ চাপড়ে দিচ্ছিলেন, কথা বলছিলেন, সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। ভেতরে ভেতরে তিনিও যে ভেঙে পড়েছিলেন, তাতে সন্দেহ নেই। তবে মাঠের লড়াই শেষ হলেও সতীর্থদের জন্য তাঁর লড়াই যেন তখনও চলছিল।

স্পেনের সামনে একাই লড়লেন মার্টিনেজ