English / বাংলা
Editorial News 24

ইপিজেড থানায় অভিযোগ, বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন; নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তি দাবি

মা ইলিশ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা


প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

মা ইলিশ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা
হামলার শিকার হওয়া সাংবাদিক

চট্টগ্রামে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার ও পাচারের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক হামলা, লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নগরীর আকমল আলী ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ইপিজেড থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৮ থেকে ১০ জন সংবাদকর্মী মা ইলিশ শিকারের নিষিদ্ধ সময়ের কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ করতে আকমল আলী ঘাটে যান। এ সময় বস্তায় করে ইলিশ মাছ সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্য তাঁদের নজরে আসে। বিষয়টি জানতে চাইলে এবং ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়।অভিযোগে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে মিজান উল্লাহ সমরকন্দি নামের এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত লোকজনকে লাঠি নিয়ে সাংবাদিকদের আটকে রাখার নির্দেশ দেন। এরপর ঘাটের রহমান মাঝির নেতৃত্বে তাঁর সহযোগীরা সাংবাদিকদের ঘিরে ধরেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সাংবাদিকেরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে ইপিজেড থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এ সময় হামলাকারীদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। তাঁদের দাবি, প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ তাঁদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাংবাদিকদের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এসব আবেদনের অনুলিপি মৎস্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার, নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার, কোস্ট গার্ড এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ জোন) বরাবর পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলাকালে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বাধার মুখে পড়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। গত বছরও পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সংবাদকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

বারবার এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতারা। তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


মা ইলিশ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার ও পাচারের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক হামলা, লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নগরীর আকমল আলী ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ইপিজেড থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৮ থেকে ১০ জন সংবাদকর্মী মা ইলিশ শিকারের নিষিদ্ধ সময়ের কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ করতে আকমল আলী ঘাটে যান। এ সময় বস্তায় করে ইলিশ মাছ সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্য তাঁদের নজরে আসে। বিষয়টি জানতে চাইলে এবং ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়।অভিযোগে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে মিজান উল্লাহ সমরকন্দি নামের এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত লোকজনকে লাঠি নিয়ে সাংবাদিকদের আটকে রাখার নির্দেশ দেন। এরপর ঘাটের রহমান মাঝির নেতৃত্বে তাঁর সহযোগীরা সাংবাদিকদের ঘিরে ধরেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সাংবাদিকেরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে ইপিজেড থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এ সময় হামলাকারীদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। তাঁদের দাবি, প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ তাঁদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাংবাদিকদের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এসব আবেদনের অনুলিপি মৎস্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার, নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার, কোস্ট গার্ড এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ জোন) বরাবর পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলাকালে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বাধার মুখে পড়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। গত বছরও পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সংবাদকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

বারবার এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক নেতারা। তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0