English / বাংলা
Editorial News 24

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার ১৫তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন।

জোবায়েদ হত্যা মামলায় তিনজনের বিচার শুরু


প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

জোবায়েদ হত্যা মামলায় তিনজনের বিচার শুরু

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার ১৫তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৯ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন।মামলার তিন আসামি হলেন জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, তার প্রেমিক মো. মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। বর্তমানে তিনজনই কারাগারে রয়েছেন। শুনানির দিন তাদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু।

এর আগে গত ৩০ জুন তদন্ত শেষে তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফ হোসেন মামলাটির তদন্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার নথি অনুযায়ী, তিন আসামিই হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, নিহত মো. জোবায়েদ হোসেনের বয়স ছিল ২৫ বছর। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে বর্ষার বাসায় গৃহশিক্ষক হিসেবে পড়ানোর সুবাদে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়।তদন্তে জানা যায়, বর্ষার সঙ্গে মাহিরের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে এর মধ্যে জোবায়েদের সঙ্গেও বর্ষার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। জোবায়েদ ও বর্ষার শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন মাহির।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, জোবায়েদের কাছে বর্ষার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও রয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে তাকে হত্যার জন্য মাহিরকে প্ররোচিত করেন বর্ষা। পরে মাহির বিষয়টি তার বন্ধু আয়লানকে জানান। এরপর দুজন মিলে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি সুইচ গিয়ার চাকু সংগ্রহ করেন তারা এবং কয়েক দিন ধরে ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করেন।অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, উদ্ধার করা ডিজিটাল আলামত এবং বর্ষা ও জোবায়েদের মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে তাদের মধ্যে নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার দিন বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে তারা পরস্পরের সঙ্গে লাইভ লোকেশনও আদান-প্রদান করেন। একই সময়ে বর্ষা ও মাহিরের মধ্যেও একাধিকবার যোগাযোগ হয়। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, এসব যোগাযোগের মাধ্যমে জোবায়েদের অবস্থান ও চলাচলের তথ্য মাহিরকে জানাচ্ছিলেন বর্ষা।

অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর বিকেলে বর্ষার বাসায় পড়াতে যান জোবায়েদ। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন মাহির ও আয়লান। জোবায়েদ ভবনের নিচতলায় প্রবেশ করলে কথোপকথনের কথা বলে তাকে থামান মাহির। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডার মধ্যে সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে জোবায়েদের গলায় আঘাত করেন তিনি। গুরুতর আহত জোবায়েদ আত্মরক্ষার চেষ্টা করে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার সময় তৃতীয় তলায় লুটিয়ে পড়েন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে বর্ষা জোবায়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই সৈকতকে মেসেঞ্জারে হত্যার খবর জানান। পরে রাত ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান ফোন করে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে এনায়েত হোসেন তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে নিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বংশাল থানাধীন নুর বক্স লেনের ১৫ নম্বর হোল্ডিংয়ের রৌশান ভিলায় যান। সেখানে ভবনের সিঁড়ি ও দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান তারা। পরে তৃতীয় তলার সিঁড়িতে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

ময়নাতদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর কুমিল্লার কৃষ্ণপুর গ্রামে জোবায়েদকে দাফন করা হয়। পরদিন ২১ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে তার ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। এজাহার দায়েরের দিনই তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।এ মামলায় প্রীতম নামে আরও এক ব্যক্তি আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। আগামী ৯ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


জোবায়েদ হত্যা মামলায় তিনজনের বিচার শুরু

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার ১৫তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৯ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন।মামলার তিন আসামি হলেন জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, তার প্রেমিক মো. মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। বর্তমানে তিনজনই কারাগারে রয়েছেন। শুনানির দিন তাদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু।

এর আগে গত ৩০ জুন তদন্ত শেষে তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফ হোসেন মামলাটির তদন্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার নথি অনুযায়ী, তিন আসামিই হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, নিহত মো. জোবায়েদ হোসেনের বয়স ছিল ২৫ বছর। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে বর্ষার বাসায় গৃহশিক্ষক হিসেবে পড়ানোর সুবাদে তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়।তদন্তে জানা যায়, বর্ষার সঙ্গে মাহিরের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে এর মধ্যে জোবায়েদের সঙ্গেও বর্ষার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। জোবায়েদ ও বর্ষার শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন মাহির।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, জোবায়েদের কাছে বর্ষার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও রয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে তাকে হত্যার জন্য মাহিরকে প্ররোচিত করেন বর্ষা। পরে মাহির বিষয়টি তার বন্ধু আয়লানকে জানান। এরপর দুজন মিলে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি সুইচ গিয়ার চাকু সংগ্রহ করেন তারা এবং কয়েক দিন ধরে ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করেন।অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, উদ্ধার করা ডিজিটাল আলামত এবং বর্ষা ও জোবায়েদের মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে তাদের মধ্যে নিয়মিত হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার দিন বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে তারা পরস্পরের সঙ্গে লাইভ লোকেশনও আদান-প্রদান করেন। একই সময়ে বর্ষা ও মাহিরের মধ্যেও একাধিকবার যোগাযোগ হয়। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, এসব যোগাযোগের মাধ্যমে জোবায়েদের অবস্থান ও চলাচলের তথ্য মাহিরকে জানাচ্ছিলেন বর্ষা।

অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর বিকেলে বর্ষার বাসায় পড়াতে যান জোবায়েদ। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন মাহির ও আয়লান। জোবায়েদ ভবনের নিচতলায় প্রবেশ করলে কথোপকথনের কথা বলে তাকে থামান মাহির। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডার মধ্যে সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে জোবায়েদের গলায় আঘাত করেন তিনি। গুরুতর আহত জোবায়েদ আত্মরক্ষার চেষ্টা করে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার সময় তৃতীয় তলায় লুটিয়ে পড়েন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে বর্ষা জোবায়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই সৈকতকে মেসেঞ্জারে হত্যার খবর জানান। পরে রাত ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান ফোন করে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে এনায়েত হোসেন তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে নিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বংশাল থানাধীন নুর বক্স লেনের ১৫ নম্বর হোল্ডিংয়ের রৌশান ভিলায় যান। সেখানে ভবনের সিঁড়ি ও দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান তারা। পরে তৃতীয় তলার সিঁড়িতে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

ময়নাতদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর কুমিল্লার কৃষ্ণপুর গ্রামে জোবায়েদকে দাফন করা হয়। পরদিন ২১ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে তার ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। এজাহার দায়েরের দিনই তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।এ মামলায় প্রীতম নামে আরও এক ব্যক্তি আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। আগামী ৯ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে।


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0