সাড়ে চার ঘণ্টা বন্ধ ট্রেন ও যান চলাচল, দাবি পূরণে তিন দিনের আলটিমেটাম আন্দোলনকারীদের
Editorial News24 | ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বরিশল’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে রেলপথ ও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা লেভেলক্রসিং এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে ঢাকা–সিলেট ও ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথের পাশাপাশি আখাউড়া–আগরতলা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
টানা প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা অবরোধের পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্থতায় আলোচনার আশ্বাস পেয়ে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা। তবে দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনকে তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তাঁরা।
অবরোধের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে সকাল ৮টা থেকে আটকে থাকে সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস। অবরোধ প্রত্যাহারের পর বেলা ১১টা ৫৪ মিনিটে ট্রেনটি কোড্ডা এলাকা অতিক্রম করে সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার রফিকুল ইসলাম জানান, কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ভৈরব স্টেশনে আটকা পড়ে। এ ছাড়া মহানগর এক্সপ্রেস, চট্টলা এক্সপ্রেস ও উপকূল এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি ট্রেনের চলাচলেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
অন্যদিকে আখাউড়া–আগরতলা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। অনেককে বাধ্য হয়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা যায়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন, বিজয়নগর উপজেলার একটি ইউনিয়ন এবং নবগঠিত বরিশল ইউনিয়ন নিয়ে ‘বরিশল’ নামে নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়া।
তাঁদের দাবি, প্রস্তাবটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসন গোপন রেখেছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
বিক্ষোভকারীরা জানান, সদর উপজেলার সীমানা পরিবর্তন এবং বাসুদেব ইউনিয়নকে বিভক্ত করার উদ্যোগ তাঁরা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
কোড্ডা লেভেলক্রসিং এলাকায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন বাসুদেব ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন ভুইয়া, সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নেসার উদ্দিন শের শাহ, জেলা আইন ফোরামের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন পাঠান এবং সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য শিপন ভুইয়া।
বক্তারা নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব বাতিলের পাশাপাশি বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে পৃথক করা ছয়টি গ্রাম পুনরায় আগের ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি জানান।
মামুন পাঠান বলেন, সদর উপজেলা বিভক্ত করার উদ্যোগ কোনোভাবেই বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে এর আগেও জেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেনের প্রতিনিধি হিসেবে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি তারেকুল ইসলাম খান এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন।
সিরাজুল ইসলাম জানান, আন্দোলনকারীদের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলোচনায় বসবে। এই আশ্বাসের পর তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করেন বিক্ষোভকারীরা।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাইরুল আলম জানান, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশল—এই ছয়টি গ্রাম নিয়ে ‘বরিশল’ নামে নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। পরে সেটি আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে ৪ জুন গেজেট প্রকাশিত হয়।
ওই সিদ্ধান্তের পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। এর মধ্যে ‘বরিশল’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় নতুন করে অসন্তোষ দেখা দেয়।
এদিকে প্রস্তাবের সঙ্গে নাম আসা জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়া বরিশল গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা ফজলুর রহমান ভূঁইয়া বর্তমানে বরিশল ইউনিয়নের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
তিন দিনের মধ্যে দাবি নিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত না এলে আন্দোলনকারীরা পরবর্তী কর্মসূচিতে যেতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
সাড়ে চার ঘণ্টা বন্ধ ট্রেন ও যান চলাচল, দাবি পূরণে তিন দিনের আলটিমেটাম আন্দোলনকারীদের
Editorial News24 | ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বরিশল’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে রেলপথ ও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা লেভেলক্রসিং এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে ঢাকা–সিলেট ও ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথের পাশাপাশি আখাউড়া–আগরতলা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
টানা প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা অবরোধের পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যস্থতায় আলোচনার আশ্বাস পেয়ে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা। তবে দাবি বাস্তবায়নে প্রশাসনকে তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তাঁরা।
অবরোধের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে সকাল ৮টা থেকে আটকে থাকে সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস। অবরোধ প্রত্যাহারের পর বেলা ১১টা ৫৪ মিনিটে ট্রেনটি কোড্ডা এলাকা অতিক্রম করে সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার রফিকুল ইসলাম জানান, কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ভৈরব স্টেশনে আটকা পড়ে। এ ছাড়া মহানগর এক্সপ্রেস, চট্টলা এক্সপ্রেস ও উপকূল এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি ট্রেনের চলাচলেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
অন্যদিকে আখাউড়া–আগরতলা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। অনেককে বাধ্য হয়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা যায়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন, বিজয়নগর উপজেলার একটি ইউনিয়ন এবং নবগঠিত বরিশল ইউনিয়ন নিয়ে ‘বরিশল’ নামে নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়া।
তাঁদের দাবি, প্রস্তাবটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসন গোপন রেখেছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
বিক্ষোভকারীরা জানান, সদর উপজেলার সীমানা পরিবর্তন এবং বাসুদেব ইউনিয়নকে বিভক্ত করার উদ্যোগ তাঁরা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
কোড্ডা লেভেলক্রসিং এলাকায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন বাসুদেব ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন ভুইয়া, সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নেসার উদ্দিন শের শাহ, জেলা আইন ফোরামের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন পাঠান এবং সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য শিপন ভুইয়া।
বক্তারা নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব বাতিলের পাশাপাশি বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে পৃথক করা ছয়টি গ্রাম পুনরায় আগের ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি জানান।
মামুন পাঠান বলেন, সদর উপজেলা বিভক্ত করার উদ্যোগ কোনোভাবেই বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে এর আগেও জেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেনের প্রতিনিধি হিসেবে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি তারেকুল ইসলাম খান এবং সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন।
সিরাজুল ইসলাম জানান, আন্দোলনকারীদের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আলোচনায় বসবে। এই আশ্বাসের পর তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করেন বিক্ষোভকারীরা।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাইরুল আলম জানান, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশল—এই ছয়টি গ্রাম নিয়ে ‘বরিশল’ নামে নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। পরে সেটি আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এ বিষয়ে ৪ জুন গেজেট প্রকাশিত হয়।
ওই সিদ্ধান্তের পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। এর মধ্যে ‘বরিশল’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাবের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় নতুন করে অসন্তোষ দেখা দেয়।
এদিকে প্রস্তাবের সঙ্গে নাম আসা জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়া বরিশল গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা ফজলুর রহমান ভূঁইয়া বর্তমানে বরিশল ইউনিয়নের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
তিন দিনের মধ্যে দাবি নিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত না এলে আন্দোলনকারীরা পরবর্তী কর্মসূচিতে যেতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন