English / বাংলা
Editorial News 24

পুলিশ তাদের কাছ থেকে রক্তমাখা কিছু নোটসহ ১ লাখ ৫৪ হাজার রুপি নগদ, চুরি করা টাকায় কেনা একটি আইফোন এবং নিহত রূপা রেড্ডির মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।গ্রেপ্তার দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

‘বাবু’ শব্দের সূত্র ধরে প্রধান শিক্ষিকা হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার দুই শিক্ষার্থী


প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

‘বাবু’ শব্দের সূত্র ধরে প্রধান শিক্ষিকা হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার দুই শিক্ষার্থী

ভারতের তেলেঙ্গানার নালগোন্ডায় স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে হত্যার ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৪৮ বছর বয়সী ওই নারীকে ২৭ বার ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে তার শেষ ফোনকলের একটি শব্দ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পায় পুলিশ।

নিহতের নাম কাল্লু রূপা রেড্ডি। তিনি কোন্ডামাল্লেপল্লী এলাকার নাগার্জুন পাবলিক স্কুলের প্রিন্সিপাল ও পরিচালক ছিলেন। গত ১২ আগস্ট সকালে নিজ বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানায়, ওই সময় রূপা রেড্ডির স্বামী হায়দরাবাদে ছিলেন। স্ত্রীর ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে তিনি প্রতিবেশীদের বাসায় গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। পরে প্রতিবেশীরা বাসায় গিয়ে রূপা রেড্ডির মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পাঁচটি বিশেষ দল গঠন করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক আলামত, আঙুলের ছাপ ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি ৮০ জনের বেশি মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে শুরুতে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সূত্র পাওয়া যাচ্ছিল না।পরে রূপা রেড্ডির শেষ ফোনকলের রেকর্ড তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ফোন বন্ধ হওয়ার আগে তিনি তার ফুফুর সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেই কথোপকথনে তার শেষ উচ্চারিত শব্দ ছিল ‘বাবু’।

জেলা পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তা শরথ চন্দ্র পাওয়ার জানান, ওই একটি শব্দের সূত্র ধরেই পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে। তদন্তকারীরা ধারণা করেন, ‘বাবু’ শব্দটি স্কুলের কোনো শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ করে বলা হয়ে থাকতে পারে।এরপর স্কুলে অনুপস্থিত থাকা দশম শ্রেণির পাঁচ শিক্ষার্থীর ওপর নজরদারি শুরু করে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুই শিক্ষার্থীর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। তারা হঠাৎ করে প্রচুর অর্থ খরচ করছিল এবং বন্ধুদের নিয়ে ব্যয়বহুল পার্টিও করছিল।বুধবার সকালে ওই দুই শিক্ষার্থীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা হত্যার কথা স্বীকার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তে জানা যায়, এর আগে ওই দুই শিক্ষার্থী হোস্টেলে থাকার সময় তাদের ব্যাগ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছিলেন রূপা রেড্ডি। পরে বিষয়টি তাদের অভিভাবকদের জানিয়ে তাদের হোস্টেল থেকে সরিয়ে ডে-স্কলার করা হয়। ওই ঘটনার ক্ষোভও হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, দ্রুত অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে দুই শিক্ষার্থী আগে থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করে। তারা কয়েক দিন ধরে অনলাইনে চুরি ও অপরাধের বিভিন্ন পদ্ধতি খোঁজে এবং রূপা রেড্ডির বাড়ি রেকি করে। পরিচয় গোপন রাখতে তারা একটি ধারালো ছুরি ও গ্লাভসও কিনে নেয়।

ঘটনার দিন একজন শিক্ষার্থী মাঙ্কি ক্যাপ ও গ্লাভস পরে রূপা রেড্ডির শোবার ঘরে ঢুকে আড়াই লাখ রুপি চুরি করে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় তার মাথা থেকে মাঙ্কি ক্যাপ খুলে পড়ে গেলে রূপা রেড্ডি তাকে চিনে ফেলেন। পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ওই শিক্ষার্থী ছুরি দিয়ে তাকে ২৭ বার আঘাত করে হত্যা করে বলে পুলিশের দাবি।হত্যার পর দুই শিক্ষার্থী রক্তমাখা পোশাক ও মাঙ্কি ক্যাপ মাটিতে পুঁতে ফেলে। এরপর চুরি করা টাকা নিয়ে তারা গোয়ায় চলে যায়।

পুলিশ তাদের কাছ থেকে রক্তমাখা কিছু নোটসহ ১ লাখ ৫৪ হাজার রুপি নগদ, চুরি করা টাকায় কেনা একটি আইফোন এবং নিহত রূপা রেড্ডির মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।গ্রেপ্তার দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


সূত্র: এনডিটিভি


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


‘বাবু’ শব্দের সূত্র ধরে প্রধান শিক্ষিকা হত্যার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার দুই শিক্ষার্থী

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারতের তেলেঙ্গানার নালগোন্ডায় স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে হত্যার ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৪৮ বছর বয়সী ওই নারীকে ২৭ বার ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে তার শেষ ফোনকলের একটি শব্দ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পায় পুলিশ।

নিহতের নাম কাল্লু রূপা রেড্ডি। তিনি কোন্ডামাল্লেপল্লী এলাকার নাগার্জুন পাবলিক স্কুলের প্রিন্সিপাল ও পরিচালক ছিলেন। গত ১২ আগস্ট সকালে নিজ বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানায়, ওই সময় রূপা রেড্ডির স্বামী হায়দরাবাদে ছিলেন। স্ত্রীর ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে তিনি প্রতিবেশীদের বাসায় গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। পরে প্রতিবেশীরা বাসায় গিয়ে রূপা রেড্ডির মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পাঁচটি বিশেষ দল গঠন করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক আলামত, আঙুলের ছাপ ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি ৮০ জনের বেশি মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে শুরুতে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সূত্র পাওয়া যাচ্ছিল না।পরে রূপা রেড্ডির শেষ ফোনকলের রেকর্ড তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ফোন বন্ধ হওয়ার আগে তিনি তার ফুফুর সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেই কথোপকথনে তার শেষ উচ্চারিত শব্দ ছিল ‘বাবু’।

জেলা পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তা শরথ চন্দ্র পাওয়ার জানান, ওই একটি শব্দের সূত্র ধরেই পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে। তদন্তকারীরা ধারণা করেন, ‘বাবু’ শব্দটি স্কুলের কোনো শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ করে বলা হয়ে থাকতে পারে।এরপর স্কুলে অনুপস্থিত থাকা দশম শ্রেণির পাঁচ শিক্ষার্থীর ওপর নজরদারি শুরু করে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুই শিক্ষার্থীর আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। তারা হঠাৎ করে প্রচুর অর্থ খরচ করছিল এবং বন্ধুদের নিয়ে ব্যয়বহুল পার্টিও করছিল।বুধবার সকালে ওই দুই শিক্ষার্থীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা হত্যার কথা স্বীকার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তে জানা যায়, এর আগে ওই দুই শিক্ষার্থী হোস্টেলে থাকার সময় তাদের ব্যাগ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছিলেন রূপা রেড্ডি। পরে বিষয়টি তাদের অভিভাবকদের জানিয়ে তাদের হোস্টেল থেকে সরিয়ে ডে-স্কলার করা হয়। ওই ঘটনার ক্ষোভও হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, দ্রুত অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে দুই শিক্ষার্থী আগে থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করে। তারা কয়েক দিন ধরে অনলাইনে চুরি ও অপরাধের বিভিন্ন পদ্ধতি খোঁজে এবং রূপা রেড্ডির বাড়ি রেকি করে। পরিচয় গোপন রাখতে তারা একটি ধারালো ছুরি ও গ্লাভসও কিনে নেয়।

ঘটনার দিন একজন শিক্ষার্থী মাঙ্কি ক্যাপ ও গ্লাভস পরে রূপা রেড্ডির শোবার ঘরে ঢুকে আড়াই লাখ রুপি চুরি করে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় তার মাথা থেকে মাঙ্কি ক্যাপ খুলে পড়ে গেলে রূপা রেড্ডি তাকে চিনে ফেলেন। পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ওই শিক্ষার্থী ছুরি দিয়ে তাকে ২৭ বার আঘাত করে হত্যা করে বলে পুলিশের দাবি।হত্যার পর দুই শিক্ষার্থী রক্তমাখা পোশাক ও মাঙ্কি ক্যাপ মাটিতে পুঁতে ফেলে। এরপর চুরি করা টাকা নিয়ে তারা গোয়ায় চলে যায়।

পুলিশ তাদের কাছ থেকে রক্তমাখা কিছু নোটসহ ১ লাখ ৫৪ হাজার রুপি নগদ, চুরি করা টাকায় কেনা একটি আইফোন এবং নিহত রূপা রেড্ডির মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।গ্রেপ্তার দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


সূত্র: এনডিটিভি



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0