বাংলাদেশের বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরুর আগেই বেশ বড়সড় অস্বস্তিতে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। দলের নির্ভরযোগ্য উইকেটকিপার-ব্যাটার জশ ইংলিসের প্রথম টেস্টে খেলা নিয়ে আগেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন অভিজ্ঞ পেসার মাইকেল নেসার। অনুশীলনের সময় ডান পায়ের কাফে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে গেছেন তিনি।
চলতি সপ্তাহে অজি দলের নিয়মিত দৌড়ের অনুশীলনের সময় ডান পায়ের কাফে মারাত্মক টান লাগে নেসারের। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের মেডিকেল দল তার চোট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত করেছে যে, মাঠে ফিরতে তাকে অন্তত এক মাসের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। চোটের স্থানটি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে তার বোলিংয়ের চাপ বাড়ানো হবে। মেডিকেল টিমের পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে আগামী অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এই অভিজ্ঞ পেসারের।
যদিও বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘোষিত ১৩ সদস্যের মূল দলে জায়গা হয়নি নেসারের। অজি পেস আক্রমণের দুই প্রধান হাতিয়ার প্যাট কামিন্স এবং জশ হ্যাজলউড চোট কাটিয়ে দলে ফেরায় স্কোয়াড থেকে বাদ পড়তে হয়েছিল তাকে। তবে চার মূল পেসারের কেউ যদি সিরিজ চলাকালীন আকস্মিক চোটে পড়েন, তবে বিকল্প হিসেবে যেন তৈরি থাকা যায়—সেই লক্ষ্যেই পূর্ণোদ্যমে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নেসার। কিন্তু অনুশীলন চলাকালীন এই চোট তার সেই প্রস্তুতিতে জল ঢেলে দিল।
সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়া দলের অন্যতম আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন মাইকেল নেসার। বিশেষ করে গত অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার ৪-১ ব্যবধানের গৌরবময় জয়ে তার অবদান ছিল অনন্য। কামিন্স ও হ্যাজলউডের অনুপস্থিতিতে সিরিজের পাঁচ ম্যাচে বল হাতে একাই ১৫টি উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি। ব্রিসবেন টেস্টে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট নেওয়ার অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়ার পাশাপাশি মেলবোর্ন ও সিডনি টেস্টে দুটি চার উইকেটের দারুণ স্পেল উপহার দেন। পুরো সিরিজে মাত্র ১৯.৯৩ গড়ে বোলিং করে অজিদের সিরিজ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
খেলোয়াড়ি জীবনে চোট নেসারের জন্য নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে হ্যামস্ট্রিংয়ের গুরুতর চোট কাটিয়ে দুর্দান্তভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন তিনি। অ্যাশেজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুফল হিসেবে পরবর্তীতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও জায়গা করে নেন এই পেসার। সামনে দলের ব্যস্ত টেস্ট সূচির কথা বিবেচনায় রেখে নিজেকে ফিট ও সতেজ রাখতে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী কাউন্টি ক্রিকেটের সুযোগও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তবে বাংলাদেশ সিরিজের আগে আবারও চোটের মুখে পড়াটা অজিদের বোলিং ব্যাকআপের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিষয় : ক্রিকেট বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বাংলাদেশ
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের বিপক্ষে বহুল প্রতীক্ষিত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরুর আগেই বেশ বড়সড় অস্বস্তিতে পড়েছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। দলের নির্ভরযোগ্য উইকেটকিপার-ব্যাটার জশ ইংলিসের প্রথম টেস্টে খেলা নিয়ে আগেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন অভিজ্ঞ পেসার মাইকেল নেসার। অনুশীলনের সময় ডান পায়ের কাফে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে গেছেন তিনি।
চলতি সপ্তাহে অজি দলের নিয়মিত দৌড়ের অনুশীলনের সময় ডান পায়ের কাফে মারাত্মক টান লাগে নেসারের। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের মেডিকেল দল তার চোট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত করেছে যে, মাঠে ফিরতে তাকে অন্তত এক মাসের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। চোটের স্থানটি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে তার বোলিংয়ের চাপ বাড়ানো হবে। মেডিকেল টিমের পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে আগামী অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এই অভিজ্ঞ পেসারের।
যদিও বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘোষিত ১৩ সদস্যের মূল দলে জায়গা হয়নি নেসারের। অজি পেস আক্রমণের দুই প্রধান হাতিয়ার প্যাট কামিন্স এবং জশ হ্যাজলউড চোট কাটিয়ে দলে ফেরায় স্কোয়াড থেকে বাদ পড়তে হয়েছিল তাকে। তবে চার মূল পেসারের কেউ যদি সিরিজ চলাকালীন আকস্মিক চোটে পড়েন, তবে বিকল্প হিসেবে যেন তৈরি থাকা যায়—সেই লক্ষ্যেই পূর্ণোদ্যমে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নেসার। কিন্তু অনুশীলন চলাকালীন এই চোট তার সেই প্রস্তুতিতে জল ঢেলে দিল।
সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়া দলের অন্যতম আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন মাইকেল নেসার। বিশেষ করে গত অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার ৪-১ ব্যবধানের গৌরবময় জয়ে তার অবদান ছিল অনন্য। কামিন্স ও হ্যাজলউডের অনুপস্থিতিতে সিরিজের পাঁচ ম্যাচে বল হাতে একাই ১৫টি উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি। ব্রিসবেন টেস্টে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট নেওয়ার অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়ার পাশাপাশি মেলবোর্ন ও সিডনি টেস্টে দুটি চার উইকেটের দারুণ স্পেল উপহার দেন। পুরো সিরিজে মাত্র ১৯.৯৩ গড়ে বোলিং করে অজিদের সিরিজ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
খেলোয়াড়ি জীবনে চোট নেসারের জন্য নতুন কিছু নয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে হ্যামস্ট্রিংয়ের গুরুতর চোট কাটিয়ে দুর্দান্তভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন তিনি। অ্যাশেজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুফল হিসেবে পরবর্তীতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও জায়গা করে নেন এই পেসার। সামনে দলের ব্যস্ত টেস্ট সূচির কথা বিবেচনায় রেখে নিজেকে ফিট ও সতেজ রাখতে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী কাউন্টি ক্রিকেটের সুযোগও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তবে বাংলাদেশ সিরিজের আগে আবারও চোটের মুখে পড়াটা অজিদের বোলিং ব্যাকআপের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন