English / বাংলা
Editorial News 24

ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে বিধ্বস্ত অস্ট্রেলিয়া, সংবাদমাধ্যমে ঝড়

ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক পরাজয়ের পর অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। নিজেদের চেনা কন্ডিশনে বিশ্বসেরা দলের এমন ভরাডুবির পর অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও তার দলের ব্যাটিং ব্যর্থতা, একাদশ নির্বাচন এবং পুরো ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়ে দেশটির ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ ও সংবাদমাধ্যমগুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছে।অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ডট কম ডট এইউ ম্যাচের পর কড়া শিরোনাম করে লিখেছে, ‘অসিজ হিউমিলিয়েটেড এজ বাংলাদেশ ক্লিনচ নাইন-উইকেট ভিক্টরি’, যার অর্থ বাংলাদেশের ৯ উইকেটের দুর্দান্ত জয়ে অপদস্থ হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (এবিসি) তাদের ম্যাচ পর্যালোচনায় উল্লেখ করেছে, প্রথম টেস্টে হয়তো বাংলাদেশকে পুরোপুরি অবমূল্যায়ন করেছিল স্বাগতিকরা। মাঠের ক্রিকেটে সেই সুযোগটিরই পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল।ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই খেলার লাগাম নিজেদের হাতে তুলে নেয় বাংলাদেশ। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে পেসার হাসান মাহমুদের বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে পড়ে অজি ব্যাটাররা। হাসানের দুর্দান্ত ৬ উইকেটের তোপে মাত্র ১৯৮ রানেই গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস। শুরুতেই ব্যাকফুটে চলে যাওয়া স্বাগতিকরা এরপর আর ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি।জবাবে প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে অসাধারণ দৃঢ়তা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলে সফরকারী বাংলাদেশ। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের চমৎকার সেঞ্চুরির পাশাপাশি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, অভিজ্ঞ মুমিনুল হক এবং মেহেদী হাসান মিরাজের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে স্কোরবোর্ডে ৪২৬ রানের পাহাড় গড়ে টাইগাররা। ফলে প্রথম ইনিংসেই ২২৮ রানের বিশাল লিড পায় বাংলাদেশ দল, যা ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই নিশ্চিত করে দেয়।দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর বড় সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে তারা ব্যর্থ হয়। অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন লড়াই করে সেঞ্চুরি হাঁকালেও বাকিদের ব্যর্থতায় অস্ট্রেলিয়া থামে ২৮৪ রানে। ফলে চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। সেই সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। ওপেনার সাদমান ইসলাম এবং মুমিনুল হকের দৃঢ়তায় ঐতিহাসিক এই জয় তুলে নেয় সফরকারীরা।ম্যাচ চলাকালীনই অস্ট্রেলিয়ার সাবেক কিংবদন্তি অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক অ্যাডাম গিলক্রিস্ট সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন যে, বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় বিশ্ব ক্রিকেটে এক বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি করবে। বাস্তবেও ম্যাচ শেষে ডারউইনে বাংলাদেশের এই অবিস্মরণীয় সাফল্যই এখন বৈশ্বিক ও অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের মূল আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।পরাজয়ের পর ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স হারের পেছনে কোনো অজুহাত দেখাননি। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, ম্যাচের প্রথম দিনেই মূলত লড়াইয়ের নিয়ন্ত্রণ অস্ট্রেলিয়ার হাত থেকে বেরিয়ে যায়। একই সঙ্গে পুরো ম্যাচে দারুণ সুশৃঙ্খল ও আগ্রাসী ক্রিকেট উপহার দেওয়ায় বাংলাদেশ দলের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।এই হারের ফলে দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে আসা বাংলাদেশের কাছে মাত্র চার দিনে ম্যাচ হেরে যাওয়ার ঘটনাকে অজি ক্রিকেটের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকেতে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মুখোমুখি হবে দুই দল। সেই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ ড্র করাই এখন অস্ট্রেলিয়ার মূল লক্ষ্য, অন্যদিকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের সামনে রয়েছে ইতিহাস গড়ে সিরিজ জয়ের হাতছানি।

ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে বিধ্বস্ত অস্ট্রেলিয়া, সংবাদমাধ্যমে ঝড়
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0