English / বাংলা
Editorial News 24

শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিনির্ভর শেয়ারবাজার নাসডাকের সূচক ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।

বিশ্ববাজারে শেয়ার ধস, একদিনে ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার হারাল নাসডাক


প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

বিশ্ববাজারে শেয়ার ধস, একদিনে ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার হারাল নাসডাক
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে সম্ভাব্য কঠোর নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হওয়ায় একদিনেই বৈশ্বিক বাজারমূল্য থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ কমে গেছে। বৃহস্পতিবারের এই দরপতনের প্রভাব শুক্রবার এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারেও ছড়িয়ে পড়ে।

শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিনির্ভর শেয়ারবাজার নাসডাকের সূচক ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। এতে সূচকটির অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত বাজারমূল্য থেকে একদিনেই প্রায় ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার কমে যায়। একই সময়ে ওয়াল স্ট্রিটের অন্যান্য প্রধান সূচকেও উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে।বাজারের এই অস্থিরতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। অ্যাপল, এনভিডিয়া ও টেসলাসহ ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ নামে পরিচিত সাতটি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বাজারমূল্য এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি কমেছে। এর মধ্যে এনভিডিয়ার শেয়ারদর ৯ শতাংশের বেশি কমেছে। অন্যদিকে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারদর যথাক্রমে ৮ শতাংশ এবং প্রায় ১১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এতে তার প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট বাজারমূল্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি কমে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে শুরু হওয়া পতনের প্রভাব এশিয়ার প্রযুক্তিনির্ভর বাজারগুলোতে আরও স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। শুক্রবার জাপানের নিক্কেই সূচক ৬ শতাংশ কমে দিনের লেনদেন শেষ করেছে। দেশটির মেমোরি চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কিওক্সিয়া এবং টোকিও ইলেকট্রনের শেয়ারেও বড় ধরনের দরপতন হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি খাতেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়। দেশটির চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সের শেয়ারদর ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। পাশাপাশি সামগ্রিক শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক কসপি একদিনে ৬ শতাংশ হারিয়েছে।

এদিকে শুক্রবার ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতেও নিম্নমুখী প্রবণতায় লেনদেন শুরু হয়। তবে এ অঞ্চলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় এশিয়ার বাজারগুলোর মতো বড় পতন দেখা যায়নি। দিনের শুরুতে যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং জার্মানির ড্যাক্স সূচক ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এজ বেলের বাজার গবেষণা বিভাগের প্রধান ড্যান কোটসওয়ার্থ বলেন, এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও এসব বিনিয়োগ থেকে কবে নাগাদ লাভ আসবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এমনকি প্রত্যাশা অনুযায়ী মুনাফা পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বাড়লে দেশটিতে ডেটা সেন্টার নির্মাণের কার্যক্রম ধীর হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এআই প্রযুক্তি খাতের ওপর নতুন করে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।ড্যান কোটসওয়ার্থের ভাষ্য অনুযায়ী, এআই খাতের বর্তমান প্রবৃদ্ধি এত দিন দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে সেই অগ্রগতির গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


বিশ্ববাজারে শেয়ার ধস, একদিনে ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার হারাল নাসডাক

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে সম্ভাব্য কঠোর নিয়ন্ত্রণের আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হওয়ায় একদিনেই বৈশ্বিক বাজারমূল্য থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ কমে গেছে। বৃহস্পতিবারের এই দরপতনের প্রভাব শুক্রবার এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারেও ছড়িয়ে পড়ে।

শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিনির্ভর শেয়ারবাজার নাসডাকের সূচক ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। এতে সূচকটির অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত বাজারমূল্য থেকে একদিনেই প্রায় ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার কমে যায়। একই সময়ে ওয়াল স্ট্রিটের অন্যান্য প্রধান সূচকেও উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে।বাজারের এই অস্থিরতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। অ্যাপল, এনভিডিয়া ও টেসলাসহ ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ নামে পরিচিত সাতটি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বাজারমূল্য এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি কমেছে। এর মধ্যে এনভিডিয়ার শেয়ারদর ৯ শতাংশের বেশি কমেছে। অন্যদিকে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারদর যথাক্রমে ৮ শতাংশ এবং প্রায় ১১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এতে তার প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট বাজারমূল্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি কমে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে শুরু হওয়া পতনের প্রভাব এশিয়ার প্রযুক্তিনির্ভর বাজারগুলোতে আরও স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। শুক্রবার জাপানের নিক্কেই সূচক ৬ শতাংশ কমে দিনের লেনদেন শেষ করেছে। দেশটির মেমোরি চিপ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কিওক্সিয়া এবং টোকিও ইলেকট্রনের শেয়ারেও বড় ধরনের দরপতন হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি খাতেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়। দেশটির চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সের শেয়ারদর ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। পাশাপাশি সামগ্রিক শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক কসপি একদিনে ৬ শতাংশ হারিয়েছে।

এদিকে শুক্রবার ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতেও নিম্নমুখী প্রবণতায় লেনদেন শুরু হয়। তবে এ অঞ্চলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় এশিয়ার বাজারগুলোর মতো বড় পতন দেখা যায়নি। দিনের শুরুতে যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং জার্মানির ড্যাক্স সূচক ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এজ বেলের বাজার গবেষণা বিভাগের প্রধান ড্যান কোটসওয়ার্থ বলেন, এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও এসব বিনিয়োগ থেকে কবে নাগাদ লাভ আসবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এমনকি প্রত্যাশা অনুযায়ী মুনাফা পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বাড়লে দেশটিতে ডেটা সেন্টার নির্মাণের কার্যক্রম ধীর হয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এআই প্রযুক্তি খাতের ওপর নতুন করে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।ড্যান কোটসওয়ার্থের ভাষ্য অনুযায়ী, এআই খাতের বর্তমান প্রবৃদ্ধি এত দিন দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে সেই অগ্রগতির গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0