২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দিনটি শুরু হয়েছিল অন্য দিনের মতোই। কিন্তু সকাল ৯টা বাজার আগেই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় বদলে যায় সবকিছু। নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে পরপর দুটি যাত্রীবাহী বিমান আঘাত হানে। একই দিনে আরও দুটি বিমান ছিনতাই করা হয়। হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন।
হামলার জন্য ১৯ জন ছিনতাইকারীকে দায়ী করা হয়, যারা আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত ছিল। ছিনতাই করা চারটি বিমানের মধ্যে অ্যামেরিকান এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ১১ এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ১৭৫ নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে আঘাত করে। প্রথমটি নর্থ টাওয়ারে এবং দ্বিতীয়টি সাউথ টাওয়ারে আঘাত হানে।বিমানের আঘাতের পর দুই ভবনেই ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে সাউথ টাওয়ার ধসে পড়ে। পরে নর্থ টাওয়ারও ধসে যায়।
তৃতীয় বিমানটি ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আঘাত করে। আর ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ৯৩ পেনসিলভেনিয়ার একটি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। ধারণা করা হয়, বিমানের যাত্রীরা ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছিলেন। এ কারণে বিমানটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।
তবে টুইন টাওয়ারের ধস নিয়ে পরবর্তীতে নানা প্রশ্ন ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, আগুনে কি এত বড় স্টিলের ভবন ধসে পড়া সম্ভব?
প্রকৌশলগতভাবে স্টিলের গলে যাওয়া এবং দুর্বল হয়ে যাওয়া এক বিষয় নয়। স্টিল সম্পূর্ণ গলাতে অত্যন্ত বেশি তাপমাত্রা প্রয়োজন হলেও আগুনের তাপে এর শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে বিমানের আঘাতে ভবনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাঠামোগত অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর দীর্ঘ সময়ের আগুন কাঠামোটিকে আরও দুর্বল করে দেয়। এক পর্যায়ে ওপরের অংশের ওজন নিচের কাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং ধস শুরু হয়। প্রকৌশলগতভাবে এটিকে প্রগ্রেসিভ কল্যাপ্স বলা হয়।
তবে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার-৭ বা ডব্লিউটিসি ৭ নিয়ে। ভবনটি কোনো বিমানের সরাসরি আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ফলে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের প্রবক্তাদের কেউ কেউ দাবি করেন, ভবনটির ভেতরে আগে থেকেই বিস্ফোরক স্থাপন করা হয়েছিল এবং এটি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি বা এনআইএসটি এই দাবি সমর্থন করার মতো প্রমাণ পায়নি। সংস্থাটির তদন্ত অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে চলা আগুনের কারণে ডব্লিউটিসি ৭-এর কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে একটি গুরুত্বপূর্ণ কলামের ব্যর্থতা থেকে ধাপে ধাপে ভবনটির ধস শুরু হয়।
৯/১১ নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—টুইন টাওয়ার ও ডব্লিউটিসি ৭-এর ধস নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মতো ছিল, বিমান এত বড় ভবন ধ্বংস করতে পারে না, ডব্লিউটিসি ৭-এর ধস সন্দেহজনক এবং পেন্টাগনে বিমানের আঘাত নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব দাবির ভিত্তিতে কেউ কেউ এমনও দাবি করেন যে হামলার পেছনে মার্কিন সরকার বা অন্য কোনো শক্তি জড়িত ছিল।
তবে ৯/১১ কমিশনের তদন্তে হামলার জন্য আল-কায়েদার পরিকল্পনা এবং ১৯ জন ছিনতাইকারীর ভূমিকার বিষয়টি উঠে আসে। কমিশন একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ব্যবস্থার দুর্বলতা, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের ঘাটতি এবং হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার বিষয়ও বিশদভাবে পর্যালোচনা করে।
অর্থাৎ, ৯/১১ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ অবশ্যই রয়েছে। তবে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি—হামলাটি কীভাবে ঘটেছিল এবং কেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা তা আগে থেকে ঠেকাতে পারেনি। দ্বিতীয় প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে গিয়ে প্রথমটির প্রমাণভিত্তিক ব্যাখ্যাকে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের সঙ্গে মিলিয়ে ফেললে বিষয়টি আরও বিভ্রান্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
তথ্যসূত্র: স্টার নিউজ
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দিনটি শুরু হয়েছিল অন্য দিনের মতোই। কিন্তু সকাল ৯টা বাজার আগেই ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় বদলে যায় সবকিছু। নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে পরপর দুটি যাত্রীবাহী বিমান আঘাত হানে। একই দিনে আরও দুটি বিমান ছিনতাই করা হয়। হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন।
হামলার জন্য ১৯ জন ছিনতাইকারীকে দায়ী করা হয়, যারা আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত ছিল। ছিনতাই করা চারটি বিমানের মধ্যে অ্যামেরিকান এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ১১ এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ১৭৫ নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে আঘাত করে। প্রথমটি নর্থ টাওয়ারে এবং দ্বিতীয়টি সাউথ টাওয়ারে আঘাত হানে।বিমানের আঘাতের পর দুই ভবনেই ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে সাউথ টাওয়ার ধসে পড়ে। পরে নর্থ টাওয়ারও ধসে যায়।
তৃতীয় বিমানটি ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আঘাত করে। আর ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ৯৩ পেনসিলভেনিয়ার একটি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। ধারণা করা হয়, বিমানের যাত্রীরা ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছিলেন। এ কারণে বিমানটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।
তবে টুইন টাওয়ারের ধস নিয়ে পরবর্তীতে নানা প্রশ্ন ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, আগুনে কি এত বড় স্টিলের ভবন ধসে পড়া সম্ভব?
প্রকৌশলগতভাবে স্টিলের গলে যাওয়া এবং দুর্বল হয়ে যাওয়া এক বিষয় নয়। স্টিল সম্পূর্ণ গলাতে অত্যন্ত বেশি তাপমাত্রা প্রয়োজন হলেও আগুনের তাপে এর শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে বিমানের আঘাতে ভবনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাঠামোগত অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর দীর্ঘ সময়ের আগুন কাঠামোটিকে আরও দুর্বল করে দেয়। এক পর্যায়ে ওপরের অংশের ওজন নিচের কাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং ধস শুরু হয়। প্রকৌশলগতভাবে এটিকে প্রগ্রেসিভ কল্যাপ্স বলা হয়।
তবে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার-৭ বা ডব্লিউটিসি ৭ নিয়ে। ভবনটি কোনো বিমানের সরাসরি আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ফলে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের প্রবক্তাদের কেউ কেউ দাবি করেন, ভবনটির ভেতরে আগে থেকেই বিস্ফোরক স্থাপন করা হয়েছিল এবং এটি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি বা এনআইএসটি এই দাবি সমর্থন করার মতো প্রমাণ পায়নি। সংস্থাটির তদন্ত অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে চলা আগুনের কারণে ডব্লিউটিসি ৭-এর কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে একটি গুরুত্বপূর্ণ কলামের ব্যর্থতা থেকে ধাপে ধাপে ভবনটির ধস শুরু হয়।
৯/১১ নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—টুইন টাওয়ার ও ডব্লিউটিসি ৭-এর ধস নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মতো ছিল, বিমান এত বড় ভবন ধ্বংস করতে পারে না, ডব্লিউটিসি ৭-এর ধস সন্দেহজনক এবং পেন্টাগনে বিমানের আঘাত নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব দাবির ভিত্তিতে কেউ কেউ এমনও দাবি করেন যে হামলার পেছনে মার্কিন সরকার বা অন্য কোনো শক্তি জড়িত ছিল।
তবে ৯/১১ কমিশনের তদন্তে হামলার জন্য আল-কায়েদার পরিকল্পনা এবং ১৯ জন ছিনতাইকারীর ভূমিকার বিষয়টি উঠে আসে। কমিশন একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ব্যবস্থার দুর্বলতা, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের ঘাটতি এবং হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার বিষয়ও বিশদভাবে পর্যালোচনা করে।
অর্থাৎ, ৯/১১ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ অবশ্যই রয়েছে। তবে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি—হামলাটি কীভাবে ঘটেছিল এবং কেন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা তা আগে থেকে ঠেকাতে পারেনি। দ্বিতীয় প্রশ্নটির উত্তর খুঁজতে গিয়ে প্রথমটির প্রমাণভিত্তিক ব্যাখ্যাকে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের সঙ্গে মিলিয়ে ফেললে বিষয়টি আরও বিভ্রান্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
তথ্যসূত্র: স্টার নিউজ
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন