English / বাংলা
Editorial News 24

অভিযোগকারী সাংবাদিক সাহিন খান ও নাফিজা খান দিল্লির ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ‘৪পিএম’-এ কাজ করেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে সাহিন খানের ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

‘মুসলিম পরিচয় জানার পর মারধর’—দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে দুই নারী সাংবাদিকের অভিযোগ


প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

‘মুসলিম পরিচয় জানার পর মারধর’—দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে দুই নারী সাংবাদিকের অভিযোগ

দিল্লিতে দুই নারী সাংবাদিককে থানায় নিয়ে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী দুই সাংবাদিকের দাবি, তারা মুসলিম—এই পরিচয় জানার পর তাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

অভিযোগকারী সাংবাদিক সাহিন খান ও নাফিজা খান দিল্লির ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ‘৪পিএম’-এ কাজ করেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে সাহিন খানের ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।দুই সাংবাদিকের অভিযোগ, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার পর তাদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ বদলে যায়। পরে পুলিশ তাদের সাকেত থানায় নিয়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে সাহিন ও নাফিজা নিজেদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, থানায় নেওয়ার পরও তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।

কী ঘটেছিল?

দিল্লি পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে সাহিন খান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি লক্ষ্য করেন, সাকেত এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশের তুলনায় সেদিন রাস্তা ও আশপাশ বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একটি হাসপাতালের নতুন ভবন উদ্বোধন করতে সেখানে আসবেন।

সাহিন ও তার সহকর্মী নাফিজা অনুষ্ঠানস্থল থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে একটি ভিডিও ধারণ করেন। সেখানে এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সাহিন। তার বক্তব্য ছিল, সাধারণ সময়ে যেখানে রাস্তা বা হাসপাতালের আশপাশে ময়লা-আবর্জনা দেখা যায়, ভিআইপি অতিথিদের আগমন উপলক্ষে সেখানেই কেন হঠাৎ এতটা পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হলো?সাহিনের অভিযোগ, ভিডিও ধারণের সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের কাছে এসে ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং হুমকি দেন। বিষয়টি ক্যামেরায় ধারণ করতে গেলে সেখানে নারী পুলিশ সদস্যদেরও ডেকে আনা হয়।

এরপর তাদের জোর করে সাকেত থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

থানায় মারধরের অভিযোগ

প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ার দেওয়া এক বিবৃতিতেও ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, থানায় দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা দুই সাংবাদিককে একটি কক্ষে নিয়ে যেতে বলেন। সেখানে নারী পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর তাদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নাফিজা খান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পুলিশের কাছে নিজেদের মুসলিম পরিচয় প্রকাশের পর তাদের ওপর নির্যাতন আরও বেড়ে যায়।তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যরা তাদের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চান। মুসলিম পরিচয় জানার পর তাদের আরও মারধর করা হয়। এমনকি থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) ঘটনাটি দেখেও হাসছিলেন বলেও অভিযোগ করেন নাফিজা।

দুই সাংবাদিক আরও অভিযোগ করেন, তাদের উদ্দেশে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে এবং ভয় দেখিয়ে বলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এমন সব আইনি ধারা প্রয়োগ করা হবে, যা তারা কল্পনাও করতে পারবেন না।

পুলিশের বিরুদ্ধে এফআইআর না নেওয়ার অভিযোগ

ঘটনার পর সাকেত থানার সামনে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলেও পুলিশ এ ঘটনায় এফআইআর নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।সাহিন খান আরও দাবি করেন, থানায় থাকার সময় তারা চিকিৎসা সহায়তা চাইলেও তা পাননি। পরে ১১২ নম্বরে ফোন করার পর সহায়তা পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।

ঘটনাটি নিয়ে প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া প্রতিক্রিয়া জানালেও দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো জবাব মেলেনি।

তবে দুই সাংবাদিকের করা অভিযোগের কোনো অংশই এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করার মতো স্বাধীন প্রমাণও আপাতত সামনে আসেনি।


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


‘মুসলিম পরিচয় জানার পর মারধর’—দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে দুই নারী সাংবাদিকের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দিল্লিতে দুই নারী সাংবাদিককে থানায় নিয়ে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী দুই সাংবাদিকের দাবি, তারা মুসলিম—এই পরিচয় জানার পর তাদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

অভিযোগকারী সাংবাদিক সাহিন খান ও নাফিজা খান দিল্লির ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ‘৪পিএম’-এ কাজ করেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে সাহিন খানের ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।দুই সাংবাদিকের অভিযোগ, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার পর তাদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ বদলে যায়। পরে পুলিশ তাদের সাকেত থানায় নিয়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে সাহিন ও নাফিজা নিজেদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, থানায় নেওয়ার পরও তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।

কী ঘটেছিল?

দিল্লি পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে সাহিন খান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি লক্ষ্য করেন, সাকেত এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশের তুলনায় সেদিন রাস্তা ও আশপাশ বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একটি হাসপাতালের নতুন ভবন উদ্বোধন করতে সেখানে আসবেন।

সাহিন ও তার সহকর্মী নাফিজা অনুষ্ঠানস্থল থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে একটি ভিডিও ধারণ করেন। সেখানে এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সাহিন। তার বক্তব্য ছিল, সাধারণ সময়ে যেখানে রাস্তা বা হাসপাতালের আশপাশে ময়লা-আবর্জনা দেখা যায়, ভিআইপি অতিথিদের আগমন উপলক্ষে সেখানেই কেন হঠাৎ এতটা পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হলো?সাহিনের অভিযোগ, ভিডিও ধারণের সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের কাছে এসে ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং হুমকি দেন। বিষয়টি ক্যামেরায় ধারণ করতে গেলে সেখানে নারী পুলিশ সদস্যদেরও ডেকে আনা হয়।

এরপর তাদের জোর করে সাকেত থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

থানায় মারধরের অভিযোগ

প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ার দেওয়া এক বিবৃতিতেও ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, থানায় দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা দুই সাংবাদিককে একটি কক্ষে নিয়ে যেতে বলেন। সেখানে নারী পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর তাদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নাফিজা খান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পুলিশের কাছে নিজেদের মুসলিম পরিচয় প্রকাশের পর তাদের ওপর নির্যাতন আরও বেড়ে যায়।তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যরা তাদের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চান। মুসলিম পরিচয় জানার পর তাদের আরও মারধর করা হয়। এমনকি থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) ঘটনাটি দেখেও হাসছিলেন বলেও অভিযোগ করেন নাফিজা।

দুই সাংবাদিক আরও অভিযোগ করেন, তাদের উদ্দেশে অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে এবং ভয় দেখিয়ে বলা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এমন সব আইনি ধারা প্রয়োগ করা হবে, যা তারা কল্পনাও করতে পারবেন না।

পুলিশের বিরুদ্ধে এফআইআর না নেওয়ার অভিযোগ

ঘটনার পর সাকেত থানার সামনে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ, সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলেও পুলিশ এ ঘটনায় এফআইআর নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।সাহিন খান আরও দাবি করেন, থানায় থাকার সময় তারা চিকিৎসা সহায়তা চাইলেও তা পাননি। পরে ১১২ নম্বরে ফোন করার পর সহায়তা পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।

ঘটনাটি নিয়ে প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া প্রতিক্রিয়া জানালেও দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো জবাব মেলেনি।

তবে দুই সাংবাদিকের করা অভিযোগের কোনো অংশই এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করার মতো স্বাধীন প্রমাণও আপাতত সামনে আসেনি।



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0