ইরান যদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালায়, তাহলে সেটিই দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার জন্য ‘শেষ সিদ্ধান্ত’ হয়ে উঠতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।বুধবার সদেরোত এলাকায় একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সময় গাজা যুদ্ধ ও ইরানের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নেতানিয়াহুর দাবি, ইরান পুরো অঞ্চল ও আশপাশের দেশগুলোকে হুমকি দিচ্ছে। তবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা চালালে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা তেহরান জানে বলেই তারা এখনো এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস দেখাচ্ছে না।
গাজা পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইসরায়েল বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে এবং সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ইসরায়েলের জন্য হুমকি তৈরি করা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।এ সময় ৭ অক্টোবরের পর নিহত হামাস ও হিজবুল্লাহর কয়েকজন শীর্ষ নেতার নাম উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ইসরায়েল তার চারপাশের বাস্তবতা পরিবর্তন করছে এবং রাষ্ট্রটির জন্য তৈরি হওয়া হুমকিগুলো একে একে দূর করছে।
অনুষ্ঠানে হেজদের ইয়েশিভার শিক্ষার্থীদের প্রশংসাও করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষ্য, যুদ্ধের শুরু থেকেই এসব শিক্ষার্থী ধর্মীয় শিক্ষা, আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার মাধ্যমে ইসরায়েলি জনগণের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখছে।তবে হিব্রু সংবাদমাধ্যম এন১২ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠান চলাকালে নেতানিয়াহুর উপস্থিতিতেই শিক্ষার্থীদের একাংশ ফিলিস্তিনবিরোধী উগ্র গান পরিবেশন করে। ১৯৯৬ সালে ফিলিস্তিনি হামলায় নিহত এক ইসরায়েলি দম্পতিকে ঘিরে তৈরি একটি বিতর্কিত গান নতুনভাবে পরিবেশন করে তারা প্রতিশোধের বার্তা দেয়।
এদিকে ইরানের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা সূত্রগুলো। আল-মনিটরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, প্রয়োজন হলে খুব অল্প সময়ের নোটিশে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলা চালানোর সক্ষমতা ও প্রস্তুতি ইসরায়েলের রয়েছে।ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরান হয়তো ভবিষ্যতের কোনো কৌশলগত সময়ের জন্য সরাসরি হামলা এড়িয়ে চলছে। আবার ইসরায়েলের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ভয়েও তেহরান সতর্ক থাকতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হতে পারে দেশটির অবশিষ্ট পারমাণবিক স্থাপনাগুলো। ইরানের অস্ত্র তৈরির উপযোগী সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আগের বিভিন্ন অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অবশিষ্ট সক্ষমতা ধ্বংস করাকে অগ্রাধিকার দিতে পারে ইসরায়েল।
অন্যদিকে, ইরানের সাধারণ অবকাঠামো বা কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো তুলনামূলকভাবে পরবর্তী অগ্রাধিকার হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে। তবে নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ একটি কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের জন্য প্রণালিটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ইসরায়েলের কৌশলগত অগ্রাধিকারের তালিকায় এটি শীর্ষে নেই।
সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইরান যদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালায়, তাহলে সেটিই দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার জন্য ‘শেষ সিদ্ধান্ত’ হয়ে উঠতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।বুধবার সদেরোত এলাকায় একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সময় গাজা যুদ্ধ ও ইরানের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নেতানিয়াহুর দাবি, ইরান পুরো অঞ্চল ও আশপাশের দেশগুলোকে হুমকি দিচ্ছে। তবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা চালালে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা তেহরান জানে বলেই তারা এখনো এমন পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস দেখাচ্ছে না।
গাজা পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইসরায়েল বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে এবং সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ইসরায়েলের জন্য হুমকি তৈরি করা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।এ সময় ৭ অক্টোবরের পর নিহত হামাস ও হিজবুল্লাহর কয়েকজন শীর্ষ নেতার নাম উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ইসরায়েল তার চারপাশের বাস্তবতা পরিবর্তন করছে এবং রাষ্ট্রটির জন্য তৈরি হওয়া হুমকিগুলো একে একে দূর করছে।
অনুষ্ঠানে হেজদের ইয়েশিভার শিক্ষার্থীদের প্রশংসাও করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষ্য, যুদ্ধের শুরু থেকেই এসব শিক্ষার্থী ধর্মীয় শিক্ষা, আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার মাধ্যমে ইসরায়েলি জনগণের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখছে।তবে হিব্রু সংবাদমাধ্যম এন১২ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠান চলাকালে নেতানিয়াহুর উপস্থিতিতেই শিক্ষার্থীদের একাংশ ফিলিস্তিনবিরোধী উগ্র গান পরিবেশন করে। ১৯৯৬ সালে ফিলিস্তিনি হামলায় নিহত এক ইসরায়েলি দম্পতিকে ঘিরে তৈরি একটি বিতর্কিত গান নতুনভাবে পরিবেশন করে তারা প্রতিশোধের বার্তা দেয়।
এদিকে ইরানের সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা সূত্রগুলো। আল-মনিটরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, প্রয়োজন হলে খুব অল্প সময়ের নোটিশে তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলা চালানোর সক্ষমতা ও প্রস্তুতি ইসরায়েলের রয়েছে।ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরান হয়তো ভবিষ্যতের কোনো কৌশলগত সময়ের জন্য সরাসরি হামলা এড়িয়ে চলছে। আবার ইসরায়েলের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ভয়েও তেহরান সতর্ক থাকতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হতে পারে দেশটির অবশিষ্ট পারমাণবিক স্থাপনাগুলো। ইরানের অস্ত্র তৈরির উপযোগী সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আগের বিভিন্ন অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অবশিষ্ট সক্ষমতা ধ্বংস করাকে অগ্রাধিকার দিতে পারে ইসরায়েল।
অন্যদিকে, ইরানের সাধারণ অবকাঠামো বা কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো তুলনামূলকভাবে পরবর্তী অগ্রাধিকার হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ রয়েছে। তবে নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ একটি কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের জন্য প্রণালিটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ইসরায়েলের কৌশলগত অগ্রাধিকারের তালিকায় এটি শীর্ষে নেই।
সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন