নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার তৎপরতা থামেনি। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৫২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সংস্থাটি এ তথ্য প্রকাশ করে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, গত সপ্তাহে হিমালয়ের লাংটাং লিরুং পর্বতের কাছে হিমবাহ ধসে পড়ার পর বিপুল পরিমাণ পাথর, কাদা ও পানি নিচের দিকে নেমে আসে। এতে নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকায় গ্রাম, সড়ক ও সেতু ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এখনো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে দিন-রাত কাজ করছেন সেনা ও উদ্ধারকর্মীরা। নেপাল কর্তৃপক্ষের হিসাবে, দেশটিতে এখনো ৪ হাজার ২১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতে এ দুর্যোগে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫৪১ জন।
নেপালের চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে শত শত শ্রমিক আটকা পড়েছেন। তাদের অনেকেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ টানেলের ভেতরে আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।রাসুয়া জেলার একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেলের প্রবেশমুখে জমে থাকা বিপুল কাদা সরাতে বুলডোজার ব্যবহার করছে সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী দল। নেপালি সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা সঞ্জয় কে সি বলেন, টানেলের ভেতরে এখনও কেউ জীবিত থাকার আশা তারা ছাড়ছেন না। তার ধারণা, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরের বড় কক্ষটি পুরোপুরি পানিতে ডুবে যায়নি।
নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে প্রতিদিন সকালে ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন পরিবারের সদস্যরা। নিখোঁজ এক প্রকৌশলীর ছেলে প্রতীক রানা জানান, বাবাকে জীবিত উদ্ধারের আশায় তিনি প্রতিদিন সেখানে যান। তবে দিন শেষে সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে তার সেই আশা আরও ক্ষীণ হয়ে আসে।পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে হেলিকপ্টারের পাশাপাশি জিপলাইনও ব্যবহার করা হচ্ছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) জানিয়েছে, বন্যা ও কাদাধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অন্তত ২২ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ জমেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নুয়াকোট ও রাসুয়া জেলার ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ অবস্থান করছিলেন। তাদের অধিকাংশই স্কুল ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন।নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এখন পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের কাজও শুরু করা হবে।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধর্মরাজ উপ্রেতির তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২০ হাজার বাড়ি পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।তবে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলো আগের জায়গায় পুনর্নির্মাণ না করে তুলনামূলক নিরাপদ এলাকায় নতুন বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই স্থানে পুনরায় বাড়িঘর নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্যোগে আবারও প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার তৎপরতা থামেনি। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৫২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সংস্থাটি এ তথ্য প্রকাশ করে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, গত সপ্তাহে হিমালয়ের লাংটাং লিরুং পর্বতের কাছে হিমবাহ ধসে পড়ার পর বিপুল পরিমাণ পাথর, কাদা ও পানি নিচের দিকে নেমে আসে। এতে নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকায় গ্রাম, সড়ক ও সেতু ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এখনো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে দিন-রাত কাজ করছেন সেনা ও উদ্ধারকর্মীরা। নেপাল কর্তৃপক্ষের হিসাবে, দেশটিতে এখনো ৪ হাজার ২১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতে এ দুর্যোগে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫৪১ জন।
নেপালের চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে শত শত শ্রমিক আটকা পড়েছেন। তাদের অনেকেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূগর্ভস্থ টানেলের ভেতরে আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।রাসুয়া জেলার একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেলের প্রবেশমুখে জমে থাকা বিপুল কাদা সরাতে বুলডোজার ব্যবহার করছে সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী দল। নেপালি সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা সঞ্জয় কে সি বলেন, টানেলের ভেতরে এখনও কেউ জীবিত থাকার আশা তারা ছাড়ছেন না। তার ধারণা, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরের বড় কক্ষটি পুরোপুরি পানিতে ডুবে যায়নি।
নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে প্রতিদিন সকালে ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন পরিবারের সদস্যরা। নিখোঁজ এক প্রকৌশলীর ছেলে প্রতীক রানা জানান, বাবাকে জীবিত উদ্ধারের আশায় তিনি প্রতিদিন সেখানে যান। তবে দিন শেষে সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে তার সেই আশা আরও ক্ষীণ হয়ে আসে।পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে হেলিকপ্টারের পাশাপাশি জিপলাইনও ব্যবহার করা হচ্ছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) জানিয়েছে, বন্যা ও কাদাধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অন্তত ২২ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ জমেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নুয়াকোট ও রাসুয়া জেলার ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ অবস্থান করছিলেন। তাদের অধিকাংশই স্কুল ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন।নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এখন পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের কাজও শুরু করা হবে।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধর্মরাজ উপ্রেতির তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২০ হাজার বাড়ি পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।তবে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলো আগের জায়গায় পুনর্নির্মাণ না করে তুলনামূলক নিরাপদ এলাকায় নতুন বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই স্থানে পুনরায় বাড়িঘর নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্যোগে আবারও প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন