ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পুরুষ ও নারী—দুই বিভাগেই প্রথম শ্রেণি, ‘লিস্ট এ’ ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবির কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, পুরুষ ক্রিকেটাররা প্রথম শ্রেণির প্রতি ম্যাচে পাবেন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আগে এ ফি ছিল ৭০ হাজার টাকা। তামিম বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তা বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করেছিলেন।‘লিস্ট এ’ ক্রিকেটে ম্যাচ ফি ৫০ হাজার থেকে দ্বিগুণ করে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে ৪০ হাজার টাকার পরিবর্তে এখন একজন খেলোয়াড় পাবেন ৮০ হাজার টাকা।নারী ক্রিকেটেও ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে। চার দিনের ম্যাচে ২০ হাজার থেকে বেড়ে ৪০ হাজার টাকা, একদিনের ম্যাচে ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং টি-টোয়েন্টিতে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বলেন, ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রস্তাব এসেছিল। তবে তিনি বিষয়টিকে খেলোয়াড় ও বোর্ডের আলাদা পক্ষ হিসেবে দেখতে চান না। তার ভাষায়, ক্রিকেটার, বোর্ড পরিচালক ও সভাপতি—সবাই মিলে দেশের ক্রিকেটের একটি অংশ।তামিম বলেন, বিপিএলে প্রতি বছর ৫০ থেকে ৭০ জন স্থানীয় ক্রিকেটার খেলার সুযোগ পান। কিন্তু প্রথম শ্রেণি, ‘লিস্ট এ’ ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ক্রিকেটার সম্পৃক্ত। এ ছাড়া ঢাকা লিগ থেকে আগের তুলনায় অনেক ক্রিকেটারের আয় কমে গেছে। চলতি বছর বিপিএল না হওয়ায় তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।তার দাবি, এই সিদ্ধান্ত শুধু এক মৌসুমের জন্য নয়; দীর্ঘমেয়াদে ক্রিকেটারদের আর্থিকভাবে স্থিতিশীল করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। পুরো মৌসুম খেললে একজন ঘরোয়া ক্রিকেটার বেতনসহ বছরে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন বলে হিসাব দিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ মাসিক হিসাবে আয় ৩ লাখ টাকারও বেশি হতে পারে।তামিমের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের কাছ থেকেও পেশাদার আচরণ প্রত্যাশা করছে বোর্ড।তিনি স্পষ্ট করে জানান, মৌসুম শুরুর আগে বাধ্যতামূলক ফিটনেস পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হতে পারবেন না, তাদের বিষয়ে কোনো অনুরোধ বা সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না। ক্রিকেটারদের যেসব দাবি পূরণ করা হচ্ছে, একইভাবে বোর্ডের প্রত্যাশাগুলোও খেলোয়াড়দের পূরণ করতে হবে।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান বিসিবি সভাপতি। তার ভাষ্য, বোর্ড যখন ক্রিকেটারদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে, তখন ফিটনেস ও পেশাদারিত্বের বিষয়েও কঠোরতা থাকবে।
এদিকে ক্রিকেট পোর্টাল ক্রিকবাজের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) চার দিনের ও একদিনের প্রতিযোগিতার পুরো আর্থিক দায়িত্ব ভবিষ্যতে এককভাবে বহন করতে আগ্রহী নয় বিসিবি।প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বিসিএলের চার দিনের ও একদিনের ম্যাচ এবং এনসিএল টি-টোয়েন্টিকে একটি বাণিজ্যিক প্যাকেজের আওতায় বাজারজাত করার কথা ভাবছে বোর্ড। এসব প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিমালিকানাধীন ছয়টি দল অংশ নেবে এবং সম্মিলিত সূচির জন্য প্রায় ৬০ দিন বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে বিভাগীয় দলগুলোর অংশগ্রহণে প্রচলিত আট দলের চার দিনের এনসিএল চ্যাম্পিয়নশিপ আগের কাঠামোতেই চালু থাকবে। পাশাপাশি তিন দিনের এনসিএল ‘সেকেন্ড একাদশ’ প্রতিযোগিতাও আয়োজন করা হবে।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পুরুষ ও নারী—দুই বিভাগেই প্রথম শ্রেণি, ‘লিস্ট এ’ ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবির কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, পুরুষ ক্রিকেটাররা প্রথম শ্রেণির প্রতি ম্যাচে পাবেন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আগে এ ফি ছিল ৭০ হাজার টাকা। তামিম বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তা বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করেছিলেন।‘লিস্ট এ’ ক্রিকেটে ম্যাচ ফি ৫০ হাজার থেকে দ্বিগুণ করে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে ৪০ হাজার টাকার পরিবর্তে এখন একজন খেলোয়াড় পাবেন ৮০ হাজার টাকা।নারী ক্রিকেটেও ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে। চার দিনের ম্যাচে ২০ হাজার থেকে বেড়ে ৪০ হাজার টাকা, একদিনের ম্যাচে ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং টি-টোয়েন্টিতে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বলেন, ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে কয়েকটি প্রস্তাব এসেছিল। তবে তিনি বিষয়টিকে খেলোয়াড় ও বোর্ডের আলাদা পক্ষ হিসেবে দেখতে চান না। তার ভাষায়, ক্রিকেটার, বোর্ড পরিচালক ও সভাপতি—সবাই মিলে দেশের ক্রিকেটের একটি অংশ।তামিম বলেন, বিপিএলে প্রতি বছর ৫০ থেকে ৭০ জন স্থানীয় ক্রিকেটার খেলার সুযোগ পান। কিন্তু প্রথম শ্রেণি, ‘লিস্ট এ’ ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ ক্রিকেটার সম্পৃক্ত। এ ছাড়া ঢাকা লিগ থেকে আগের তুলনায় অনেক ক্রিকেটারের আয় কমে গেছে। চলতি বছর বিপিএল না হওয়ায় তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।তার দাবি, এই সিদ্ধান্ত শুধু এক মৌসুমের জন্য নয়; দীর্ঘমেয়াদে ক্রিকেটারদের আর্থিকভাবে স্থিতিশীল করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। পুরো মৌসুম খেললে একজন ঘরোয়া ক্রিকেটার বেতনসহ বছরে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন বলে হিসাব দিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ মাসিক হিসাবে আয় ৩ লাখ টাকারও বেশি হতে পারে।তামিমের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের কাছ থেকেও পেশাদার আচরণ প্রত্যাশা করছে বোর্ড।তিনি স্পষ্ট করে জানান, মৌসুম শুরুর আগে বাধ্যতামূলক ফিটনেস পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হতে পারবেন না, তাদের বিষয়ে কোনো অনুরোধ বা সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না। ক্রিকেটারদের যেসব দাবি পূরণ করা হচ্ছে, একইভাবে বোর্ডের প্রত্যাশাগুলোও খেলোয়াড়দের পূরণ করতে হবে।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান বিসিবি সভাপতি। তার ভাষ্য, বোর্ড যখন ক্রিকেটারদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে, তখন ফিটনেস ও পেশাদারিত্বের বিষয়েও কঠোরতা থাকবে।
এদিকে ক্রিকেট পোর্টাল ক্রিকবাজের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) চার দিনের ও একদিনের প্রতিযোগিতার পুরো আর্থিক দায়িত্ব ভবিষ্যতে এককভাবে বহন করতে আগ্রহী নয় বিসিবি।প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বিসিএলের চার দিনের ও একদিনের ম্যাচ এবং এনসিএল টি-টোয়েন্টিকে একটি বাণিজ্যিক প্যাকেজের আওতায় বাজারজাত করার কথা ভাবছে বোর্ড। এসব প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিমালিকানাধীন ছয়টি দল অংশ নেবে এবং সম্মিলিত সূচির জন্য প্রায় ৬০ দিন বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে বিভাগীয় দলগুলোর অংশগ্রহণে প্রচলিত আট দলের চার দিনের এনসিএল চ্যাম্পিয়নশিপ আগের কাঠামোতেই চালু থাকবে। পাশাপাশি তিন দিনের এনসিএল ‘সেকেন্ড একাদশ’ প্রতিযোগিতাও আয়োজন করা হবে।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন