English / বাংলা
Editorial News 24

ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ৯৩ ডলারে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৮৯ দশমিক ৪৪ ডলারে দাঁড়ায়।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে তেলের বাজারে উত্তাপ, এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে ৯ শতাংশ


প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে তেলের বাজারে উত্তাপ, এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে ৯ শতাংশ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে তেলের দামে—এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই বেড়েছে ৯ শতাংশের বেশি।বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দিনের শুরুতে তেলের দাম বাড়লেও পরে কিছুটা কমে আসে। দিন শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ৯৩ ডলারে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৮৯ দশমিক ৪৪ ডলারে দাঁড়ায়।

ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইরান বাহরাইন, জর্দান, কুয়েত ও ইরাকে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পদ ও স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে।হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রণালিটি পুনরায় চালু করতে ইরান কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে কি না, তা নিয়ে তিনি ‘একেবারেই মাথা ঘামান না’।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে হওয়া হামলাগুলো প্রায় এক মাস পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের মাত্রা বাড়িয়েছে। এতে যুদ্ধের অবসান নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও কঠিন হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কাও বেড়েছে।তবে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, গত সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ পরিমাণ তেল পরিবহনের ঘটনা বলে জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ওই এলাকায় থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হামলার চেষ্টা করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই মার্কিন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে কমান্ডটি।

আইআরজিসি জানিয়েছে, মার্কিন হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও সীমিত হয়ে পড়বে। সংঘাতের আগে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। বর্তমানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে প্রণালিটি কার্যত বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান।

ইরানি বাহিনী আরও দাবি করেছে, জর্দানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইনে থাকা একটি মার্কিন ঘাঁটিতেও বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।জর্দানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে ১০টি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে। তবে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। কুয়েতও জানিয়েছে, ড্রোন হামলা মোকাবিলায় তাদের সামরিক বাহিনী ব্যবস্থা নিচ্ছে।

অন্যদিকে, গত ২৮ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুদ ২৬ লাখ ব্যারেল কমেছে। একই সময়ে ডিজেল ও হিটিং অয়েলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুদ কমেছে আরও ২ লাখ ৬৫ হাজার ব্যারেল। বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্য উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে তেলের বাজারে উত্তাপ, এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে ৯ শতাংশ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে তেলের দামে—এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই বেড়েছে ৯ শতাংশের বেশি।বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দিনের শুরুতে তেলের দাম বাড়লেও পরে কিছুটা কমে আসে। দিন শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ৯৩ ডলারে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৮৯ দশমিক ৪৪ ডলারে দাঁড়ায়।

ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইরান বাহরাইন, জর্দান, কুয়েত ও ইরাকে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পদ ও স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে।হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, প্রণালিটি পুনরায় চালু করতে ইরান কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে কি না, তা নিয়ে তিনি ‘একেবারেই মাথা ঘামান না’।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে হওয়া হামলাগুলো প্রায় এক মাস পর দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের মাত্রা বাড়িয়েছে। এতে যুদ্ধের অবসান নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও কঠিন হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কাও বেড়েছে।তবে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, গত সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ পরিমাণ তেল পরিবহনের ঘটনা বলে জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ওই এলাকায় থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হামলার চেষ্টা করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই মার্কিন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে কমান্ডটি।

আইআরজিসি জানিয়েছে, মার্কিন হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও সীমিত হয়ে পড়বে। সংঘাতের আগে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। বর্তমানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে প্রণালিটি কার্যত বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান।

ইরানি বাহিনী আরও দাবি করেছে, জর্দানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইনে থাকা একটি মার্কিন ঘাঁটিতেও বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।জর্দানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে ১০টি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে। তবে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। কুয়েতও জানিয়েছে, ড্রোন হামলা মোকাবিলায় তাদের সামরিক বাহিনী ব্যবস্থা নিচ্ছে।

অন্যদিকে, গত ২৮ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুদ ২৬ লাখ ব্যারেল কমেছে। একই সময়ে ডিজেল ও হিটিং অয়েলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুদ কমেছে আরও ২ লাখ ৬৫ হাজার ব্যারেল। বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্য উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে।



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0