English / বাংলা
Editorial News 24

এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন।

নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, প্রাণহানি হাজার ছাড়িয়েছে


প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, প্রাণহানি হাজার ছাড়িয়েছে

নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। দুর্যোগের এক সপ্তাহ পরও নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৪৬২ জন। মঙ্গলবার দুই দেশের সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন করে আরও ৮৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক।এ ছাড়া বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ৬৩৯ জনেরও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে নেপাল কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অংশে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে আরও ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক।দুই দেশের তথ্য একত্র করলে এ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৩ জন। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৪৬২ জন। তাদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৮৪৪।

কীভাবে শুরু ভয়াবহ দুর্যোগ

গত ২৬ আগস্ট নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহে ফাটল দেখা দেয়। এরপর বরফ ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে পড়ে। এতে তৈরি হয় প্রচণ্ড কাদামাটি ও পানির স্রোত, যা সীমান্তবর্তী উপত্যকাগুলো দিয়ে নেমে গিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

নেপালের রাসুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং, কাভ্রে ও কাঠমান্ডু উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত বা শিজাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং সীমান্ত এলাকাতেও বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয় বেশি

নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয়। দুই দেশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৭৫ জন ভারতীয় ও ১০০ জন চীনা নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।মরদেহ উদ্ধারের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্ধার ও শনাক্তকাজ আরও জোরদার করা হয়েছে। এ জন্য নেপাল ফ্রিজার, ডিএনএ পরীক্ষার কিট, দুর্গম এলাকায় নজরদারির জন্য রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি এবং ড্রোন চেয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া পৃথক দল পাঠিয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, গিরং সীমান্ত এলাকায় পৌঁছাতে তাদের প্রায় ১০ ঘণ্টা হেঁটে যেতে হয়েছে। সেখানে পৌঁছানোর পর চীনের অংশে অনেক জায়গায় কোনো ভবন বা অবকাঠামোর চিহ্নও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, প্রাণহানি হাজার ছাড়িয়েছে

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। দুর্যোগের এক সপ্তাহ পরও নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৪৬২ জন। মঙ্গলবার দুই দেশের সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন করে আরও ৮৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এতে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি নাগরিক।এ ছাড়া বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ৬৩৯ জনেরও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে নেপাল কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অংশে এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে আরও ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক।দুই দেশের তথ্য একত্র করলে এ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৩ জন। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৪৬২ জন। তাদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৮৪৪।

কীভাবে শুরু ভয়াবহ দুর্যোগ

গত ২৬ আগস্ট নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় একটি হিমবাহে ফাটল দেখা দেয়। এরপর বরফ ও পাথরের বিশাল অংশ ধসে পড়ে। এতে তৈরি হয় প্রচণ্ড কাদামাটি ও পানির স্রোত, যা সীমান্তবর্তী উপত্যকাগুলো দিয়ে নেমে গিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

নেপালের রাসুয়া, নুওয়াকোট, ধাদিং, কাভ্রে ও কাঠমান্ডু উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইভাবে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত বা শিজাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং সীমান্ত এলাকাতেও বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয় বেশি

নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয়। দুই দেশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৭৫ জন ভারতীয় ও ১০০ জন চীনা নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।মরদেহ উদ্ধারের সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্ধার ও শনাক্তকাজ আরও জোরদার করা হয়েছে। এ জন্য নেপাল ফ্রিজার, ডিএনএ পরীক্ষার কিট, দুর্গম এলাকায় নজরদারির জন্য রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি এবং ড্রোন চেয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া পৃথক দল পাঠিয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, গিরং সীমান্ত এলাকায় পৌঁছাতে তাদের প্রায় ১০ ঘণ্টা হেঁটে যেতে হয়েছে। সেখানে পৌঁছানোর পর চীনের অংশে অনেক জায়গায় কোনো ভবন বা অবকাঠামোর চিহ্নও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0