আফগানিস্তানের বিপুল খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ চেয়েছে তালেবান সরকার। বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশটির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা আফগান সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে কাবুল।
আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি জানিয়েছেন, খনি, অবকাঠামো, কৃষি ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে মার্কিন বিনিয়োগকে স্বাগত জানাবে তার সরকার। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে গত দুই দশকের যুদ্ধের দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত।
ভূতাত্ত্বিক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে আনুমানিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজ সম্পদ রয়েছে। দেশটিতে তামা, লৌহ আকরিক, নিওবিয়াম, কোবাল্ট, সোনা ও লিথিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বড় মজুত রয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার কারণে এসব সম্পদের বড় অংশ এখনো বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর চীন ও ইরানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে খনি খাতে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন চুক্তি করেছে আফগানিস্তান। এবার যুক্তরাষ্ট্রকেও দেশটির খনিজ সম্পদ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশীদার করতে আগ্রহী তালেবান।তবে এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে তালেবান সরকারের ওপর থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা। বিদেশি কূটনীতিকদের আশঙ্কা, আফগানিস্তানে বৈদেশিক অর্থের প্রবাহ বাড়লে তালেবান সরকারের আর্থিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হতে পারে।
তালেবান সরকারের প্রত্যাশা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ বাড়লে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিদেশে থাকা আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভও ফেরত পাওয়া সম্ভব হবে।আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ এখনো দেশের বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটি পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তালেবান। তবে কাবুলে বন্ধ থাকা মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালুর জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি।তালেবানের এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতা কমিয়ে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দরজা খোলার চেষ্টা করছে কাবুল।
সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
আফগানিস্তানের বিপুল খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ চেয়েছে তালেবান সরকার। বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশটির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা আফগান সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে কাবুল।
আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি জানিয়েছেন, খনি, অবকাঠামো, কৃষি ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে মার্কিন বিনিয়োগকে স্বাগত জানাবে তার সরকার। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে গত দুই দশকের যুদ্ধের দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত।
ভূতাত্ত্বিক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে আনুমানিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজ সম্পদ রয়েছে। দেশটিতে তামা, লৌহ আকরিক, নিওবিয়াম, কোবাল্ট, সোনা ও লিথিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বড় মজুত রয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার কারণে এসব সম্পদের বড় অংশ এখনো বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর চীন ও ইরানসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে খনি খাতে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন চুক্তি করেছে আফগানিস্তান। এবার যুক্তরাষ্ট্রকেও দেশটির খনিজ সম্পদ ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশীদার করতে আগ্রহী তালেবান।তবে এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে তালেবান সরকারের ওপর থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা। বিদেশি কূটনীতিকদের আশঙ্কা, আফগানিস্তানে বৈদেশিক অর্থের প্রবাহ বাড়লে তালেবান সরকারের আর্থিক ও রাজনৈতিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হতে পারে।
তালেবান সরকারের প্রত্যাশা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ বাড়লে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিদেশে থাকা আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভও ফেরত পাওয়া সম্ভব হবে।আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ এখনো দেশের বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটি পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তালেবান। তবে কাবুলে বন্ধ থাকা মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালুর জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি।তালেবানের এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতা কমিয়ে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দরজা খোলার চেষ্টা করছে কাবুল।
সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন