ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ওপরে উঠেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও আড়াই শতাংশের বেশি বেড়েছে।
সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল পৌনে ৯টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৫১ ডলার বা ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৬১ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ১৩ ডলার বা ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে ৮৫ দশমিক ৫৩ ডলারে ওঠে।রোববার হরমুজ প্রণালির ইরানি লারাক দ্বীপে থাকা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। জুলাইয়ের শেষের পর উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের কোনো স্থাপনায় এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হামলা বলে জানা গেছে।
এর জবাবে ইরান জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের বরাতে জানানো হয়, কিং হুসেইন ও আজরাক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আইজি মার্কেটের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, পরিস্থিতি আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে। এই সংঘাত কতদিন চলবে, তা এখনই বলা কঠিন—কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
তার মতে, সংঘাত আরও তীব্র হলে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ৮০ থেকে ৮৫ দশমিক ৯০ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধস্তর অতিক্রম করতে পারে। সেটি হলে প্রথমে ৮৭ দশমিক ৬৯ ডলার এবং পরবর্তী সময়ে জুলাইয়ের সর্বোচ্চ ৯৩ দশমিক ৫০ ডলারের দিকে দাম এগিয়ে যেতে পারে।
এদিকে সংঘাত নিরসনে চলমান আলোচনা আপাতত অচলাবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীরা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের ওপর প্রতি সপ্তাহে নতুন করে ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করতে পারে ওয়াশিংটন। এর মাধ্যমে ইরানকে বৈশ্বিক ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।তবে আগস্টজুড়ে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম সামগ্রিকভাবে কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা। এর আগে গত সপ্তাহে দুই ধরনের তেলের দামই ৪ শতাংশের বেশি কমেছিল।এএনজেডের বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়ে এখনো স্পষ্ট সমাধান না এলেও সাম্প্রতিক সময়ে ওই পথে তেল পরিবহন বাড়ায় সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।
তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে প্রণালিটি দিয়ে দৃশ্যমান পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা দিনে মাত্র পাঁচটিতে নেমে আসে। জাহাজে হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন শিপিং কোম্পানি সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় একটি ট্যাংকারে প্রজেক্টাইল আঘাত হানে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সাম্প্রতিক একটি চুক্তির আওতায় পাওয়া তেল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত পুনরায় পূরণ করা হবে। দেশটির এই মজুত প্রায় ৪৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ওপরে উঠেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও আড়াই শতাংশের বেশি বেড়েছে।
সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল পৌনে ৯টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৫১ ডলার বা ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৬১ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ১৩ ডলার বা ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে ৮৫ দশমিক ৫৩ ডলারে ওঠে।রোববার হরমুজ প্রণালির ইরানি লারাক দ্বীপে থাকা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। জুলাইয়ের শেষের পর উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের কোনো স্থাপনায় এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হামলা বলে জানা গেছে।
এর জবাবে ইরান জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের বরাতে জানানো হয়, কিং হুসেইন ও আজরাক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে এবং এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আইজি মার্কেটের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, পরিস্থিতি আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে। এই সংঘাত কতদিন চলবে, তা এখনই বলা কঠিন—কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
তার মতে, সংঘাত আরও তীব্র হলে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ৮০ থেকে ৮৫ দশমিক ৯০ ডলারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধস্তর অতিক্রম করতে পারে। সেটি হলে প্রথমে ৮৭ দশমিক ৬৯ ডলার এবং পরবর্তী সময়ে জুলাইয়ের সর্বোচ্চ ৯৩ দশমিক ৫০ ডলারের দিকে দাম এগিয়ে যেতে পারে।
এদিকে সংঘাত নিরসনে চলমান আলোচনা আপাতত অচলাবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীরা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের ওপর প্রতি সপ্তাহে নতুন করে ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করতে পারে ওয়াশিংটন। এর মাধ্যমে ইরানকে বৈশ্বিক ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।তবে আগস্টজুড়ে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম সামগ্রিকভাবে কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা। এর আগে গত সপ্তাহে দুই ধরনের তেলের দামই ৪ শতাংশের বেশি কমেছিল।এএনজেডের বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়ে এখনো স্পষ্ট সমাধান না এলেও সাম্প্রতিক সময়ে ওই পথে তেল পরিবহন বাড়ায় সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।
তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে প্রণালিটি দিয়ে দৃশ্যমান পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা দিনে মাত্র পাঁচটিতে নেমে আসে। জাহাজে হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন শিপিং কোম্পানি সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় একটি ট্যাংকারে প্রজেক্টাইল আঘাত হানে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সাম্প্রতিক একটি চুক্তির আওতায় পাওয়া তেল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত পুনরায় পূরণ করা হবে। দেশটির এই মজুত প্রায় ৪৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন