English / বাংলা
Editorial News 24

এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে মোট ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও সংশোধিত প্রস্তাবে তা বেড়ে ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা করা হয়েছে।

দুই মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা


প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

দুই মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা

ঢাকায় বাস্তবায়নাধীন দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে মোট ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও সংশোধিত প্রস্তাবে তা বেড়ে ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা করা হয়েছে। প্রকল্প দুটির সংশোধিত প্রস্তাব বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।প্রকল্প দুটির মধ্যে এমআরটি লাইন-১ কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত অংশে পাতালপথে এবং নর্দ্দা থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত উড়ালপথে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে, এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) সাভার থেকে গাবতলী, মিরপুর ও গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পে পাতাল ও উড়ালপথ—দুই ধরনের অবকাঠামো থাকছে।ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিস্তারিত নকশায় পরিবর্তন, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং বিভিন্ন কারিগরি পরিবর্তনের কারণে ব্যয় বেড়েছে।

২০১৯ সালে এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রস্তাবে এই ব্যয় বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা করা হয়েছে। ৩১ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এই প্রকল্পে ২১টি স্টেশন নির্মাণের কথা রয়েছে। এতে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় পড়বে প্রায় ৩ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা।এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রস্তাবে তা বেড়ে প্রায় ৯৩ হাজার ১৯১ কোটি টাকা হয়েছে। ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পে ১৪টি স্টেশন থাকবে। প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৪ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা।

সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণের সময় প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত নকশা চূড়ান্ত হয়নি। পরবর্তী সময়ে নকশায় পরিবর্তন, মূল্যস্ফীতি, নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে।

প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সালে প্রতি মার্কিন ডলারের মূল্য প্রায় ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা ধরে হিসাব করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে তা বেড়ে প্রায় ১২২ টাকায় পৌঁছায়। এর পাশাপাশি কর-ভ্যাট, ভূমি অধিগ্রহণ, বিভিন্ন সেবা সংস্থার লাইন স্থানান্তর, পরামর্শক ব্যয় এবং নির্মাণকালীন সুদও প্রকল্প ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।তবে ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার ঋণের শর্ত এবং দরপত্রে সীমিত প্রতিযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জাপানি কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা সীমিত থাকায় দরপত্রের মাধ্যমে ব্যয় কমানোর সুযোগও কমেছে।প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নে অর্থায়ন করছে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা।


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


দুই মেট্রোরেল প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঢাকায় বাস্তবায়নাধীন দুটি মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে মোট ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও সংশোধিত প্রস্তাবে তা বেড়ে ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা করা হয়েছে। প্রকল্প দুটির সংশোধিত প্রস্তাব বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।প্রকল্প দুটির মধ্যে এমআরটি লাইন-১ কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত অংশে পাতালপথে এবং নর্দ্দা থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত উড়ালপথে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে, এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) সাভার থেকে গাবতলী, মিরপুর ও গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পে পাতাল ও উড়ালপথ—দুই ধরনের অবকাঠামো থাকছে।ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিস্তারিত নকশায় পরিবর্তন, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব এবং বিভিন্ন কারিগরি পরিবর্তনের কারণে ব্যয় বেড়েছে।

২০১৯ সালে এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রস্তাবে এই ব্যয় বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা করা হয়েছে। ৩১ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ এই প্রকল্পে ২১টি স্টেশন নির্মাণের কথা রয়েছে। এতে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় পড়বে প্রায় ৩ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা।এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রস্তাবে তা বেড়ে প্রায় ৯৩ হাজার ১৯১ কোটি টাকা হয়েছে। ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পে ১৪টি স্টেশন থাকবে। প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৪ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা।

সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণের সময় প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত নকশা চূড়ান্ত হয়নি। পরবর্তী সময়ে নকশায় পরিবর্তন, মূল্যস্ফীতি, নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে।

প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সালে প্রতি মার্কিন ডলারের মূল্য প্রায় ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা ধরে হিসাব করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে তা বেড়ে প্রায় ১২২ টাকায় পৌঁছায়। এর পাশাপাশি কর-ভ্যাট, ভূমি অধিগ্রহণ, বিভিন্ন সেবা সংস্থার লাইন স্থানান্তর, পরামর্শক ব্যয় এবং নির্মাণকালীন সুদও প্রকল্প ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।তবে ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার ঋণের শর্ত এবং দরপত্রে সীমিত প্রতিযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জাপানি কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা সীমিত থাকায় দরপত্রের মাধ্যমে ব্যয় কমানোর সুযোগও কমেছে।প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নে অর্থায়ন করছে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা।



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0