দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপ মোকাবিলা করে আসছে ইরান। এবার দেশটির ওপর আরও বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই পদক্ষেপকে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে, নতুন এই নিষেধাজ্ঞা তেহরানের অর্থনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে?
চলমান যুদ্ধ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো সমাধান না আসায় চাপের মুখে রয়েছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনও সামনে। পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, ইরানের তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা চীন ও ভারত। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য স্থগিত করায় ইরান আরও অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই কৌশল নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে অবশ্য মতভেদ রয়েছে। রিচার্ড গোল্ডবার্গের মতো বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কঠোর অর্থনৈতিক চাপ ইরানকে শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারে। তবে অন্য বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা মিত্র দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।
তবে ওয়াশিংটনের নতুন হুমকিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, পুরোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও চাপ দিয়ে ইরানকে নত করা সম্ভব নয়।
বিশ্লেষক আলী ভায়েজের মতে, নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ফলে ইরানের অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে। কারণ তেহরানের কাছে মার্কিন শর্ত মেনে নেওয়াকে অনেক সময় নিষেধাজ্ঞার অর্থনৈতিক ক্ষতির চেয়েও বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হয়।
ফলে ট্রাম্পের ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে পারলেও, তা দেশটির রাজনৈতিক অবস্থান বদলাতে কতটা সক্ষম হবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপ মোকাবিলা করে আসছে ইরান। এবার দেশটির ওপর আরও বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই পদক্ষেপকে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে, নতুন এই নিষেধাজ্ঞা তেহরানের অর্থনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে?
চলমান যুদ্ধ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো সমাধান না আসায় চাপের মুখে রয়েছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনও সামনে। পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। যদিও নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, ইরানের তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা চীন ও ভারত। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য স্থগিত করায় ইরান আরও অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই কৌশল নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে অবশ্য মতভেদ রয়েছে। রিচার্ড গোল্ডবার্গের মতো বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কঠোর অর্থনৈতিক চাপ ইরানকে শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারে। তবে অন্য বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা মিত্র দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।
তবে ওয়াশিংটনের নতুন হুমকিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, পুরোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও চাপ দিয়ে ইরানকে নত করা সম্ভব নয়।
বিশ্লেষক আলী ভায়েজের মতে, নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ফলে ইরানের অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে। কারণ তেহরানের কাছে মার্কিন শর্ত মেনে নেওয়াকে অনেক সময় নিষেধাজ্ঞার অর্থনৈতিক ক্ষতির চেয়েও বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হয়।
ফলে ট্রাম্পের ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে পারলেও, তা দেশটির রাজনৈতিক অবস্থান বদলাতে কতটা সক্ষম হবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন