বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন। বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির দুজন জ্যেষ্ঠ সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আগামী বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিএনপির মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রায় দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকার পর রাজপথের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। এমন প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক অভিভাবকের আসনে এমন একজন ব্যক্তিকে প্রয়োজন, যিনি যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে শক্ত হাতে হাল ধরতে সক্ষম এবং যার গ্রহণযোগ্যতা দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে রয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপিতে বিশ্বস্ততা ও দুঃসময়ের কাণ্ডারি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সর্বজনস্বীকৃত। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি। রাজপথের আন্দোলন পরিচালনা থেকে শুরু করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি ও চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রবাসে অবস্থানকালে কঠিন সময়ে অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন তিনি। শত শত মামলা, হামলা এবং বারবার কারাবরণ করা সত্ত্বেও দলের প্রতি তার অবিচল আনুগত্য ও সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
দেশের রাজনীতিতে 'সাদামাটা ও সজ্জন' রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত মির্জা ফখরুল। প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিতর্কেও সবসময় শালীনতা ও মার্জিত আচরণ বজায় রাখার জন্য তিনি রাজনৈতিক শিবিরের কাছে বিশেষভাবে শ্রদ্ধেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি পদটি কোনো একক দলের নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রের। মির্জা ফখরুল তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় প্রমাণ করেছেন যে তিনি উগ্রবাদবিরোধী, উদার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষা এবং দেশের সুশীল সমাজের সঙ্গে তার গঠনমূলক সুসম্পর্ক রয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনেও তার বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, যা নতুন সরকারের বৈশ্বিক সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হবে।
১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পারিবারিক ঐতিহ্যও অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। তার বাবা মরহুম রুহুল আমিন ছিলেন সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী। তার বড় চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং পরবর্তীতে আইন ministers পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী মির্জা ফখরুল ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন এবং ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি সরকারের পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরে নিরীক্ষক হিসেবে এবং তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরি ছেড়ে পূর্ণাঙ্গ রাজনীতিতে আসার পর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন। ৭৭ বছর পেরিয়ে আসা এই বর্ষীয়ান রাজনীতিকের দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞাকে রাষ্ট্রপতির মতো অভিভাবকত্ব পদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব।
আইন অনুযায়ী জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে থাকেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার সুবিধার্থে ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের নির্ধারিত অধিবেশন কক্ষে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই এ বিষয়ে প্রস্তুতি জোরদার করবে বিএনপি।
বিষয় : রাজনীতি রাষ্ট্রপতি রাজনীতি বিএনপি রাষ্ট্রপতি
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন। বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির দুজন জ্যেষ্ঠ সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আগামী বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিএনপির মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রায় দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকার পর রাজপথের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। এমন প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক অভিভাবকের আসনে এমন একজন ব্যক্তিকে প্রয়োজন, যিনি যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে শক্ত হাতে হাল ধরতে সক্ষম এবং যার গ্রহণযোগ্যতা দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে রয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপিতে বিশ্বস্ততা ও দুঃসময়ের কাণ্ডারি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সর্বজনস্বীকৃত। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি। রাজপথের আন্দোলন পরিচালনা থেকে শুরু করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি ও চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রবাসে অবস্থানকালে কঠিন সময়ে অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন তিনি। শত শত মামলা, হামলা এবং বারবার কারাবরণ করা সত্ত্বেও দলের প্রতি তার অবিচল আনুগত্য ও সাংগঠনিক কর্মতৎপরতা তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
দেশের রাজনীতিতে 'সাদামাটা ও সজ্জন' রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত মির্জা ফখরুল। প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিতর্কেও সবসময় শালীনতা ও মার্জিত আচরণ বজায় রাখার জন্য তিনি রাজনৈতিক শিবিরের কাছে বিশেষভাবে শ্রদ্ধেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি পদটি কোনো একক দলের নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রের। মির্জা ফখরুল তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় প্রমাণ করেছেন যে তিনি উগ্রবাদবিরোধী, উদার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষা এবং দেশের সুশীল সমাজের সঙ্গে তার গঠনমূলক সুসম্পর্ক রয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনেও তার বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, যা নতুন সরকারের বৈশ্বিক সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হবে।
১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পারিবারিক ঐতিহ্যও অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। তার বাবা মরহুম রুহুল আমিন ছিলেন সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী। তার বড় চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং পরবর্তীতে আইন ministers পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী মির্জা ফখরুল ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন এবং ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি সরকারের পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরে নিরীক্ষক হিসেবে এবং তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরি ছেড়ে পূর্ণাঙ্গ রাজনীতিতে আসার পর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন। ৭৭ বছর পেরিয়ে আসা এই বর্ষীয়ান রাজনীতিকের দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞাকে রাষ্ট্রপতির মতো অভিভাবকত্ব পদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বলে মনে করছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব।
আইন অনুযায়ী জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে থাকেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনার সুবিধার্থে ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের নির্ধারিত অধিবেশন কক্ষে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই এ বিষয়ে প্রস্তুতি জোরদার করবে বিএনপি।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন