English / বাংলা
Editorial News 24

এখন দেখার বিষয়, ওমানের মধ্যস্থতায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালির অচলাবস্থা কাটতে মার্কিন প্রশাসন ইরানের কড়া শর্তগুলো কীভাবে বিবেচনা করে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক, শর্ত জুড়ে দিল ইরান


প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক, শর্ত জুড়ে দিল ইরান

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশ ওমান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক তেলের প্রধান রুটটি উন্মুক্ত করা নিয়ে ইরানের সঙ্গে তাদের আলোচনা 'ইতিবাচক' গতিতে এগোচ্ছে। তবে এই আলোচনা সফল হলেও এবং কোনো সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও হরমুজ প্রণালি এখনই পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে না বলে কড়া সতর্কতা জারি করেছে তেহরান। গত শনিবার ওমান ও ইরান—উভয় দেশের পক্ষ থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় যোগাযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, জলপথটিতে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ যাতায়াত সুরক্ষিত করার বিষয়ে খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, কেবল কাগজপত্রে চুক্তি সই হলেই প্রণালিটি খুলে দেওয়া হবে না। এটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন কর্তৃক গত জুনের চুক্তি লঙ্ঘন এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এছাড়া ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহাম্মদ বাকের জুলকাদর সরকারি সংবাদ সংস্থাকে নিশ্চিত করেছেন যে, ওয়াশিংটন তাদের নেতিবাচক নীতি সংশোধন না করা পর্যন্ত এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া ও সামরিক হুমকি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবিও তুলেছে তেহরান।

অপরদিকে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক জাহাজের ওপর যেকোনো ধরণের সামরিক হামলা বা প্রতিবন্ধকতা তৈরির বিরুদ্ধে ইরানকে সতর্ক করেছে। এই সতর্কবার্তার কারণে দু'পক্ষের চলমান আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়ে থাকে। কিন্তু চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকে ইরানি সামরিক বাহিনী জলপথটিতে কড়া নজরদারি ও অবরোধ বজায় রেখেছে, যার জবাবে মার্কিন নৌবাহিনীও পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বৈশ্বিক তেলের বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে।

উদ্ভূত সংকট নিরসনে মার্কিন প্রশাসন কূটনৈতিক সমাধানের দিকে হাঁটার ইঙ্গিত দিলেও মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিষয়টিতে কিছুটা ধীরগতির ও সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, ইরান ও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে এখনও অনেক পথ বাকি রয়েছে। মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, আমেরিকা তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক কৌশল সমন্বিতভাবে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজের ওপর ইরানের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত টোল বা মাশুল আদায়ের গুঞ্জন ছড়ালেও মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছে যে, তেহরান আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর ওপর এমন কোনো মাশুল না বসানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ওমানের মধ্যস্থতায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালির অচলাবস্থা কাটতে মার্কিন প্রশাসন ইরানের কড়া শর্তগুলো কীভাবে বিবেচনা করে।

বিষয় : ইরান হরমুজ ইরান ওমান হরমুজ

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক, শর্ত জুড়ে দিল ইরান

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশ ওমান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক তেলের প্রধান রুটটি উন্মুক্ত করা নিয়ে ইরানের সঙ্গে তাদের আলোচনা 'ইতিবাচক' গতিতে এগোচ্ছে। তবে এই আলোচনা সফল হলেও এবং কোনো সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও হরমুজ প্রণালি এখনই পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে না বলে কড়া সতর্কতা জারি করেছে তেহরান। গত শনিবার ওমান ও ইরান—উভয় দেশের পক্ষ থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় যোগাযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, জলপথটিতে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ যাতায়াত সুরক্ষিত করার বিষয়ে খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, কেবল কাগজপত্রে চুক্তি সই হলেই প্রণালিটি খুলে দেওয়া হবে না। এটি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন কর্তৃক গত জুনের চুক্তি লঙ্ঘন এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এছাড়া ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহাম্মদ বাকের জুলকাদর সরকারি সংবাদ সংস্থাকে নিশ্চিত করেছেন যে, ওয়াশিংটন তাদের নেতিবাচক নীতি সংশোধন না করা পর্যন্ত এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া ও সামরিক হুমকি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবিও তুলেছে তেহরান।

অপরদিকে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক জাহাজের ওপর যেকোনো ধরণের সামরিক হামলা বা প্রতিবন্ধকতা তৈরির বিরুদ্ধে ইরানকে সতর্ক করেছে। এই সতর্কবার্তার কারণে দু'পক্ষের চলমান আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়ে থাকে। কিন্তু চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকে ইরানি সামরিক বাহিনী জলপথটিতে কড়া নজরদারি ও অবরোধ বজায় রেখেছে, যার জবাবে মার্কিন নৌবাহিনীও পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বৈশ্বিক তেলের বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে।

উদ্ভূত সংকট নিরসনে মার্কিন প্রশাসন কূটনৈতিক সমাধানের দিকে হাঁটার ইঙ্গিত দিলেও মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বিষয়টিতে কিছুটা ধীরগতির ও সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, ইরান ও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে এখনও অনেক পথ বাকি রয়েছে। মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, আমেরিকা তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক কৌশল সমন্বিতভাবে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজের ওপর ইরানের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত টোল বা মাশুল আদায়ের গুঞ্জন ছড়ালেও মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছে যে, তেহরান আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোর ওপর এমন কোনো মাশুল না বসানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ওমানের মধ্যস্থতায় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালির অচলাবস্থা কাটতে মার্কিন প্রশাসন ইরানের কড়া শর্তগুলো কীভাবে বিবেচনা করে।


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0