English / বাংলা
Editorial News 24

হামাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক সমঝোতার পর প্রায় ৩০০ দিনে গাজা উপত্যকায় অন্তত ৩০০ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে

গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও প্রতিদিন গড়ে এক শিশু নিহত: ইউনিসেফ


প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও প্রতিদিন গড়ে এক শিশু নিহত: ইউনিসেফ

গাজায় ঘোষিত তথাকথিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও বন্ধ হয়নি শিশুদের ওপর সহিংসতা ও নির্মম প্রাণহানি। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক সমঝোতার পর প্রায় ৩০০ দিনে গাজা উপত্যকায় অন্তত ৩০০ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি চলাকালেও সেখানে প্রতিদিন গড়ে অন্তত একজন করে শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ইউনিসেফের এক মানবিক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, নিহত শিশুদের পাশাপাশি এই সময়ে আরও শত শত শিশু গুরুতর আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। সংস্থাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা ও যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতিগুলো কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে অবিলম্বে কার্যকরের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার আঞ্চলিক পরিচালক এদুয়ার বেইগবেদার বলেন, প্রতিদিন যেখানে গড়ে একটি শিশুর মৃত্যু হয়, সেটিকে কোনো অবস্থাতেই সফল বা কার্যকর যুদ্ধবিরতি বলা যায় না। গাজার শিশুরা আজ সহিংসতার চূড়ান্ত অবসানের অপেক্ষায় দিন গুনছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সংঘাতের কারণে গাজার বাসিন্দাদের এখন ভূখণ্ডটির মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় গাদাগাদি করে বসবাস করতে হচ্ছে। অনিরাপদ ধ্বংসস্তূপ, বিধস্ত ভবন ও বিপজ্জনক বর্জ্যের মাঝেই আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার পরিবার। গাজার শিশুরা বর্তমানে চরম অপুষ্টি, নানা সংক্রামক ব্যাধি, অনিরাপদ পানীয় জল এবং স্যানিটেশন সংকটের মুখোমুখি। হাসপাতালে তীব্র ইনকিউবেটর সংকটের দরুন একাধিক অপরিণত নবজাতককে একই যন্ত্র ভাগাভাগি করে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে মোট ৭৩ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী, গাজায় বর্তমানে ৫৮ হাজারের বেশি শিশু তাদের বাবা-মায়ের অন্তত একজনকে বা উভয়কেই হারিয়ে এতিম হয়েছে। প্রায় ১৭ হাজার শিশু পরিবার থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে এবং ১০ লাখেরও বেশি শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা সহায়তার জরুরি প্রয়োজন।

যুদ্ধের ভয়াবহতায় গাজার শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। খেলাধুলার বয়সে অনেক শিশুকে প্রতিদিনের বড় একটা সময় ব্যয় করতে হচ্ছে খাবার পানি সংগ্রহ, ত্রাণের লাইনে অপেক্ষা করা কিংবা রান্নার জন্য জ্বালানি কাঠ কুড়ানোর পেছনে। গাজার সব স্কুল দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিশুরা শিক্ষা কার্যক্রম থেকেও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। ইউনিসেফ সাম্প্রতিক সময়ে কিছু শিক্ষাসামগ্রী পাঠালেও পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা ও স্থায়ী শান্তি ছাড়া এই শিশুদের শৈশব ও ভবিষ্যৎ রক্ষা করা সম্ভব নয় বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি।

সূত্র: আল জাজিরা


বিষয় : গাজা ইউনিসেফ শিশুমৃত্যু

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও প্রতিদিন গড়ে এক শিশু নিহত: ইউনিসেফ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গাজায় ঘোষিত তথাকথিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও বন্ধ হয়নি শিশুদের ওপর সহিংসতা ও নির্মম প্রাণহানি। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক সমঝোতার পর প্রায় ৩০০ দিনে গাজা উপত্যকায় অন্তত ৩০০ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি চলাকালেও সেখানে প্রতিদিন গড়ে অন্তত একজন করে শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ইউনিসেফের এক মানবিক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, নিহত শিশুদের পাশাপাশি এই সময়ে আরও শত শত শিশু গুরুতর আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। সংস্থাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা ও যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতিগুলো কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে অবিলম্বে কার্যকরের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার আঞ্চলিক পরিচালক এদুয়ার বেইগবেদার বলেন, প্রতিদিন যেখানে গড়ে একটি শিশুর মৃত্যু হয়, সেটিকে কোনো অবস্থাতেই সফল বা কার্যকর যুদ্ধবিরতি বলা যায় না। গাজার শিশুরা আজ সহিংসতার চূড়ান্ত অবসানের অপেক্ষায় দিন গুনছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সংঘাতের কারণে গাজার বাসিন্দাদের এখন ভূখণ্ডটির মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় গাদাগাদি করে বসবাস করতে হচ্ছে। অনিরাপদ ধ্বংসস্তূপ, বিধস্ত ভবন ও বিপজ্জনক বর্জ্যের মাঝেই আশ্রয় নিয়েছে হাজার হাজার পরিবার। গাজার শিশুরা বর্তমানে চরম অপুষ্টি, নানা সংক্রামক ব্যাধি, অনিরাপদ পানীয় জল এবং স্যানিটেশন সংকটের মুখোমুখি। হাসপাতালে তীব্র ইনকিউবেটর সংকটের দরুন একাধিক অপরিণত নবজাতককে একই যন্ত্র ভাগাভাগি করে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে মোট ৭৩ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী, গাজায় বর্তমানে ৫৮ হাজারের বেশি শিশু তাদের বাবা-মায়ের অন্তত একজনকে বা উভয়কেই হারিয়ে এতিম হয়েছে। প্রায় ১৭ হাজার শিশু পরিবার থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে এবং ১০ লাখেরও বেশি শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা সহায়তার জরুরি প্রয়োজন।

যুদ্ধের ভয়াবহতায় গাজার শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। খেলাধুলার বয়সে অনেক শিশুকে প্রতিদিনের বড় একটা সময় ব্যয় করতে হচ্ছে খাবার পানি সংগ্রহ, ত্রাণের লাইনে অপেক্ষা করা কিংবা রান্নার জন্য জ্বালানি কাঠ কুড়ানোর পেছনে। গাজার সব স্কুল দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিশুরা শিক্ষা কার্যক্রম থেকেও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। ইউনিসেফ সাম্প্রতিক সময়ে কিছু শিক্ষাসামগ্রী পাঠালেও পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা ও স্থায়ী শান্তি ছাড়া এই শিশুদের শৈশব ও ভবিষ্যৎ রক্ষা করা সম্ভব নয় বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংস্থাটি।

সূত্র: আল জাজিরা



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0