বিশ্বফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসির বাবা ও দীর্ঘদিনের এজেন্ট হোর্হে মেসি পরলোক গমন করেছেন। বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন ক্রীড়া মাধ্যম গোল ডট কম, মার্কা এবং ডেইলি স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার রোজারিওর একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।
স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে হোর্হে মেসির মৃত্যু হয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত লিওনেল মেসি, তাঁর পরিবার কিংবা তাঁর ক্লাব ইন্টার মায়ামির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক স্পোর্টস মিডিয়াগুলো তাঁর প্রয়াণের তথ্য নিশ্চিত করে সংবাদ প্রকাশ করেছে।
হোর্হে মেসি দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। বিশেষ করে বিগত কাতার বিশ্বকাপের পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। বাবার অসুস্থতার কারণে গত জুলাইয়ের শেষ দিকে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) অল স্টার ম্যাচ থেকে বিরতি নিয়েছিলেন মেসি। চিকিৎসাধীন বাবার পাশে কিছুদিন সময় কাটিয়ে পরবর্তীতে আবারও ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নামেন এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।
লিওনেল মেসির বিশ্বসেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার পেছনে বাবা হোর্হে মেসির অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ছোটবেলা থেকেই মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রতিটি পদক্ষেপে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন তিনি। শৈশবে মেসির শারীরিক বৃদ্ধিজনিত সমস্যার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা থেকে শুরু করে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছিলেন হোর্হে।
পরবর্তী সময়ে পেশাদার ফুটবলার হিসেবে মেসির উত্থানের পর হোর্হে মেসি নিজের ছেলের অফিসিয়াল এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ক্লাব, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও স্পন্সরদের সঙ্গে চুক্তির যাবতীয় আলোচনা পরিচালনা করতেন তিনি। মাঠের বাইরে মেসির সমস্ত ব্যবসায়িক কার্যক্রমও তাঁর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো।
চলতি বছরের জুনে আলজেরিয়ার বিপক্ষে গোল করার পর মাঠে আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন লিওনেল মেসি। ম্যাচ শেষে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তাঁর কান্নার সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই এবং আগের কয়েকটি দিন তাঁকে অত্যন্ত কঠিন পারিবারিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। মেসির সেই বক্তব্যের পর থেকেই তাঁর বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ক্রীড়াজগতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
তখন মেসি পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, শারীরিক অসুস্থতার কারণে হোর্হে মেসি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। একই সঙ্গে পরিবারের এই কঠিন সময়ে সবাইকে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়। হোর্হে মেসির প্রয়াণের খবরে পুরো ফুটবল বিশ্বে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: ডেইলি স্পোর্টস, গোল ডট কম
বিষয় : ফুটবল আর্জেন্টিনা মেসি
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
বিশ্বফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসির বাবা ও দীর্ঘদিনের এজেন্ট হোর্হে মেসি পরলোক গমন করেছেন। বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন ক্রীড়া মাধ্যম গোল ডট কম, মার্কা এবং ডেইলি স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার রোজারিওর একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।
স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে হোর্হে মেসির মৃত্যু হয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত লিওনেল মেসি, তাঁর পরিবার কিংবা তাঁর ক্লাব ইন্টার মায়ামির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক স্পোর্টস মিডিয়াগুলো তাঁর প্রয়াণের তথ্য নিশ্চিত করে সংবাদ প্রকাশ করেছে।
হোর্হে মেসি দীর্ঘদিন ধরেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। বিশেষ করে বিগত কাতার বিশ্বকাপের পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। বাবার অসুস্থতার কারণে গত জুলাইয়ের শেষ দিকে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) অল স্টার ম্যাচ থেকে বিরতি নিয়েছিলেন মেসি। চিকিৎসাধীন বাবার পাশে কিছুদিন সময় কাটিয়ে পরবর্তীতে আবারও ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নামেন এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।
লিওনেল মেসির বিশ্বসেরা ফুটবলার হয়ে ওঠার পেছনে বাবা হোর্হে মেসির অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ছোটবেলা থেকেই মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের প্রতিটি পদক্ষেপে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন তিনি। শৈশবে মেসির শারীরিক বৃদ্ধিজনিত সমস্যার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা থেকে শুরু করে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল অভিভাবকের ভূমিকা পালন করেছিলেন হোর্হে।
পরবর্তী সময়ে পেশাদার ফুটবলার হিসেবে মেসির উত্থানের পর হোর্হে মেসি নিজের ছেলের অফিসিয়াল এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ক্লাব, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও স্পন্সরদের সঙ্গে চুক্তির যাবতীয় আলোচনা পরিচালনা করতেন তিনি। মাঠের বাইরে মেসির সমস্ত ব্যবসায়িক কার্যক্রমও তাঁর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো।
চলতি বছরের জুনে আলজেরিয়ার বিপক্ষে গোল করার পর মাঠে আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন লিওনেল মেসি। ম্যাচ শেষে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তাঁর কান্নার সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই এবং আগের কয়েকটি দিন তাঁকে অত্যন্ত কঠিন পারিবারিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। মেসির সেই বক্তব্যের পর থেকেই তাঁর বাবার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ক্রীড়াজগতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
তখন মেসি পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, শারীরিক অসুস্থতার কারণে হোর্হে মেসি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। একই সঙ্গে পরিবারের এই কঠিন সময়ে সবাইকে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়। হোর্হে মেসির প্রয়াণের খবরে পুরো ফুটবল বিশ্বে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: ডেইলি স্পোর্টস, গোল ডট কম
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন