English / বাংলা
Editorial News 24

'শেখ হাসিনার ঘরে ফেরা' শিরোনামের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কর্মসূচি এবং আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সম্ভাব্য রূপরেখা ঘোষণা করতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে ভারতে শেখ হাসিনার ভাষণ, ঢাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া


প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে ভারতে শেখ হাসিনার ভাষণ, ঢাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া

ভারতে নির্বাসিত থাকা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে আয়োজিত একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন। ২০২৪ সালের অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর এবং আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে তার এই প্রকাশ্য বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) অব সাউথ এশিয়া আয়োজিত এই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

'শেখ হাসিনার ঘরে ফেরা' শিরোনামের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কর্মসূচি এবং আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সম্ভাব্য রূপরেখা ঘোষণা করতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। তবে ঢাকায় ক্ষমতাসীন সরকার দেশের কোনো স্থানীয় বা জাতীয় গণমাধ্যমে এই ভাষণ সম্প্রচার বা প্রচারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনার এই অবস্থান ও বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামিকে ভারতের মাটি থেকে এমন উসকানিমূলক রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পরিপন্থী।

অন্যদিকে নয়াদিল্লি এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের এই কর্মসূচির সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নেই। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, এটি সম্পূর্ণ একটি বেসরকারি সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীন আয়োজন। এতে ভারত সরকার কোনোভাবে যুক্ত নয় এবং অনুষ্ঠানে প্রকাশিত কোনো মতামতকে তারা সমর্থন করে না। ঢাকার পক্ষ থেকে বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফেরত পাঠানোর জন্য বারবার চাপ দেওয়া সত্ত্বেও নয়াদিল্লি আইনি প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক আশ্রয়ের ধারাকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে এখনো শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ সরকারের হাতে তুলে দেয়নি।

পটভূমি হিসেবে উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে চরম বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৫ সালে শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ওই অভ্যুত্থানে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত এবং ২০,০০০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হন। এছাড়া তার ১৭ বছরের শাসনামলে সহস্রাধিক গুমের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। নির্বাচনে বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করা বিএনপি ও এর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের বিষয়ে তাদের কঠোর মনোভাব বজায় রেখেছেন।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চরম আইনি ঝুঁকি এবং মৃত্যুদণ্ডের আদেশ থাকা সত্ত্বেও দেশে ফেরার বার্তা দিয়ে শেখ হাসিনা মূলত তার দলীয় নেতা-কর্মীদের পুনরায় সংঘটিত করার কৌশল নিয়েছেন। আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক অঙ্গনে টিকিয়ে রাখার জন্যই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তাদের ধারণা। তবে আন্দোলনের সময় নিহতদের স্বজন এবং সাধারণ মানুষের মাঝে শেখ হাসিনার এই বক্তব্য নতুন করে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ফলে দুই বছর পর শেখ হাসিনার এই রাজনৈতিক তৎপরতা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

বিষয় : ভারত রাজনীতি শেখহাসিনা রাজনীতি ভারত

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে ভারতে শেখ হাসিনার ভাষণ, ঢাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারতে নির্বাসিত থাকা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে আয়োজিত একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন। ২০২৪ সালের অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর এবং আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে তার এই প্রকাশ্য বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) অব সাউথ এশিয়া আয়োজিত এই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

'শেখ হাসিনার ঘরে ফেরা' শিরোনামের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কর্মসূচি এবং আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার সম্ভাব্য রূপরেখা ঘোষণা করতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। তবে ঢাকায় ক্ষমতাসীন সরকার দেশের কোনো স্থানীয় বা জাতীয় গণমাধ্যমে এই ভাষণ সম্প্রচার বা প্রচারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনার এই অবস্থান ও বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামিকে ভারতের মাটি থেকে এমন উসকানিমূলক রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পরিপন্থী।

অন্যদিকে নয়াদিল্লি এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের এই কর্মসূচির সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নেই। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, এটি সম্পূর্ণ একটি বেসরকারি সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীন আয়োজন। এতে ভারত সরকার কোনোভাবে যুক্ত নয় এবং অনুষ্ঠানে প্রকাশিত কোনো মতামতকে তারা সমর্থন করে না। ঢাকার পক্ষ থেকে বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফেরত পাঠানোর জন্য বারবার চাপ দেওয়া সত্ত্বেও নয়াদিল্লি আইনি প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক আশ্রয়ের ধারাকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে এখনো শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ সরকারের হাতে তুলে দেয়নি।

পটভূমি হিসেবে উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে চরম বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৫ সালে শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ওই অভ্যুত্থানে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত এবং ২০,০০০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হন। এছাড়া তার ১৭ বছরের শাসনামলে সহস্রাধিক গুমের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে। নির্বাচনে বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করা বিএনপি ও এর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের বিষয়ে তাদের কঠোর মনোভাব বজায় রেখেছেন।

আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চরম আইনি ঝুঁকি এবং মৃত্যুদণ্ডের আদেশ থাকা সত্ত্বেও দেশে ফেরার বার্তা দিয়ে শেখ হাসিনা মূলত তার দলীয় নেতা-কর্মীদের পুনরায় সংঘটিত করার কৌশল নিয়েছেন। আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক অঙ্গনে টিকিয়ে রাখার জন্যই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তাদের ধারণা। তবে আন্দোলনের সময় নিহতদের স্বজন এবং সাধারণ মানুষের মাঝে শেখ হাসিনার এই বক্তব্য নতুন করে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ফলে দুই বছর পর শেখ হাসিনার এই রাজনৈতিক তৎপরতা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0