ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীরে সাম্প্রতিক সময়ে অন্য রাজ্য থেকে আসা বহিরাগত শ্রমিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পরিচালিত লক্ষ্যভিত্তিক একাধিক হামলার পেছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার (এলইটি) শীর্ষ কমান্ডার লতিফ ভাট ও তার সহযোগীদের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে তীব্র সন্দেহ করছে দেশটির গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বর্তমানে সমগ্র কাশ্মীর উপত্যকাজুড়ে যৌথ বাহিনীর তল্লাশি ও বিশেষ চিরুনি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি কুলগাম জেলায় এক সন্ত্রাসী হামলায় ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্য থেকে আসা দুই নিরীহ শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনাসহ উপত্যকার সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পরিকল্পনা ও লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছে লতিফ ভাটের দল। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কুলগামে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অতর্কিত গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা দীপক নিহত হন। ওই ঘটনায় গুরুতর আহত অন্য শ্রমিক ভূপেন্দরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্যমতে, গত মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে কাশ্মীর উপত্যকায় এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা। এর কিছুদিন আগে আনন্তনাগেও এক পুলিশ সদস্যকে একইভাবে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। পরপর সংঘটিত এই সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে সমগ্র কাশ্মীরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে তল্লাশি চৌকি বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দুটি হামলার কোনোটিতেই প্রথাগত ভারী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র বা একে-৪৭ ব্যবহার করা হয়নি। তার পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে ছোট ক্যালিবারের অস্ত্র, যা মূলত পিস্তল বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, এই ধরনের গোপন আক্রমণের কৌশল মূলত ‘হাইব্রিড সন্ত্রাসীদের’ কার্যপদ্ধতির সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয়ভাবে সদ্য নিয়োগ পাওয়া ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কারদের ব্যবহার করা হয়। তারা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার পরপরই কোনো চিহ্ন না রেখে সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে যায়। তদন্তকারীদের দাবি, এই হামলার ধরণ লস্কর-ই-তাইয়েবার ছায়া সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের (টিআরএফ) সুপরিচিত কৌশলের অনুরূপ। ছোট পিস্তল ব্যবহারের কারণে তারা অতি সহজেই জনতার ভিড়ে আত্মগোপন করতে পারে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে হামলাকারীদের শনাক্ত করা বেশ কঠিন করে তোলে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, বহিরাগত শ্রমিকদের ওপর এই ধরনের হামলা চালানোর প্রধান উদ্দেশ্য হলো কাশ্মীরের সাধারণ জনগণের মধ্যে চরম ভয় ও আতঙ্ক তৈরি করা। একই সঙ্গে কাশ্মীর উপত্যকার শান্তি ও স্বাভাবিকতা এখনো অত্যন্ত ভঙ্গুর—এমন একটি বার্তা আন্তর্জাতিক মহলে পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে এই জোড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই প্রধান সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করতে নিরাপত্তা বাহিনী বিশেষ দল গঠন করে পুরো অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, লস্কর কমান্ডার লতিফ ভাটের নাম প্রথম প্রকাশ্যে আসে শোপিয়ানে ভারতীয় বাহিনীর এক বড় ধরনের সামরিক অভিযানের সময়। ওই অভিযানে লস্করের শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার জাকির গনাই নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হলেও লতিফ ভাট কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, ওই ঘটনার পর থেকে সীমান্তের অপর পারের নির্দেশনায় লতিফ ভাট পুনরায় নতুন স্লিপার সেল সক্রিয় করছেন এবং নতুন করে সাধারণ অস্থানীয় নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিশানা করছেন। তবে এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক কোনো স্বাধীন সংস্থা থেকে এখনো আলাদা করে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিষয় : কাশ্মীর লস্কর সন্ত্রাসবাদ
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীরে সাম্প্রতিক সময়ে অন্য রাজ্য থেকে আসা বহিরাগত শ্রমিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর পরিচালিত লক্ষ্যভিত্তিক একাধিক হামলার পেছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তাইয়েবার (এলইটি) শীর্ষ কমান্ডার লতিফ ভাট ও তার সহযোগীদের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে তীব্র সন্দেহ করছে দেশটির গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বর্তমানে সমগ্র কাশ্মীর উপত্যকাজুড়ে যৌথ বাহিনীর তল্লাশি ও বিশেষ চিরুনি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি কুলগাম জেলায় এক সন্ত্রাসী হামলায় ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্য থেকে আসা দুই নিরীহ শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনাসহ উপত্যকার সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পরিকল্পনা ও লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছে লতিফ ভাটের দল। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কুলগামে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী অতর্কিত গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা দীপক নিহত হন। ওই ঘটনায় গুরুতর আহত অন্য শ্রমিক ভূপেন্দরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্যমতে, গত মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে কাশ্মীর উপত্যকায় এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা। এর কিছুদিন আগে আনন্তনাগেও এক পুলিশ সদস্যকে একইভাবে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। পরপর সংঘটিত এই সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে সমগ্র কাশ্মীরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে তল্লাশি চৌকি বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দুটি হামলার কোনোটিতেই প্রথাগত ভারী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র বা একে-৪৭ ব্যবহার করা হয়নি। তার পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে ছোট ক্যালিবারের অস্ত্র, যা মূলত পিস্তল বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, এই ধরনের গোপন আক্রমণের কৌশল মূলত ‘হাইব্রিড সন্ত্রাসীদের’ কার্যপদ্ধতির সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয়ভাবে সদ্য নিয়োগ পাওয়া ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কারদের ব্যবহার করা হয়। তারা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার পরপরই কোনো চিহ্ন না রেখে সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে যায়। তদন্তকারীদের দাবি, এই হামলার ধরণ লস্কর-ই-তাইয়েবার ছায়া সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের (টিআরএফ) সুপরিচিত কৌশলের অনুরূপ। ছোট পিস্তল ব্যবহারের কারণে তারা অতি সহজেই জনতার ভিড়ে আত্মগোপন করতে পারে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে হামলাকারীদের শনাক্ত করা বেশ কঠিন করে তোলে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, বহিরাগত শ্রমিকদের ওপর এই ধরনের হামলা চালানোর প্রধান উদ্দেশ্য হলো কাশ্মীরের সাধারণ জনগণের মধ্যে চরম ভয় ও আতঙ্ক তৈরি করা। একই সঙ্গে কাশ্মীর উপত্যকার শান্তি ও স্বাভাবিকতা এখনো অত্যন্ত ভঙ্গুর—এমন একটি বার্তা আন্তর্জাতিক মহলে পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে এই জোড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই প্রধান সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করতে নিরাপত্তা বাহিনী বিশেষ দল গঠন করে পুরো অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, লস্কর কমান্ডার লতিফ ভাটের নাম প্রথম প্রকাশ্যে আসে শোপিয়ানে ভারতীয় বাহিনীর এক বড় ধরনের সামরিক অভিযানের সময়। ওই অভিযানে লস্করের শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার জাকির গনাই নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হলেও লতিফ ভাট কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, ওই ঘটনার পর থেকে সীমান্তের অপর পারের নির্দেশনায় লতিফ ভাট পুনরায় নতুন স্লিপার সেল সক্রিয় করছেন এবং নতুন করে সাধারণ অস্থানীয় নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিশানা করছেন। তবে এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক কোনো স্বাধীন সংস্থা থেকে এখনো আলাদা করে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন