English / বাংলা
Editorial News 24

গত সোমবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জোটের শীর্ষ নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সচিবালয় ঘেরাও ও চার বিভাগে লংমার্চের ডাক দিল জামায়াত জোট


প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

সচিবালয় ঘেরাও ও চার বিভাগে লংমার্চের ডাক দিল জামায়াত জোট

বিদ্যুতের বর্দ্ধিত বিল, তীব্র গ্যাসসংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে মাঠপর্যায়ে কড়া রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। নতুন ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী ৬ আগস্ট সচিবালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি এবং পরবর্তী মাসে দেশের চার বিভাগে ধারাবাহিক লংমার্চ। এ ছাড়া আগামী ১৪ নভেম্বর রাজধানী ঢাকায় একটি মহাসমাবেশ আয়োজনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জোটের শীর্ষ নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত গণসমাবেশ থেকে এসব কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। ওই দিন দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও গণমিছিলের আয়োজন করা হবে।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ আগস্ট রাজধানী ঢাকার সচিবালয়ের সামনে অবস্থান গ্রহণ করবে ১১-দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। একই দিনে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় অবস্থিত গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার কার্যালয়ের সামনেও অনুরূপ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচি শেষে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদ জানিয়ে সচিবালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করবেন জোটের শীর্ষ প্রতিনিধিরা।

জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ জানান, সরকারের নির্লিপ্ততা ও চরম ব্যর্থতার কারণেই আজ সারা দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবন আজ অতিষ্ঠ। এই পরিস্থিতির তীব্র প্রতিবাদ জানাতেই সচিবালয়ের সামনে অবস্থান ও স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী মাস থেকে ঢাকা থেকে চার বিভাগে লংমার্চ কর্মসূচি শুরু করবে জোটটি। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর রুটে এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ঢাকা-খুলনা রুটের তারিখ চূড়ান্ত করার কাজ চলছে এবং ঢাকা-সিলেট রুটে একটি ‘ট্রেনমার্চ’ আয়োজনের পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। জোটের গঠিত লিয়াজোঁ কমিটি খুব শিগগিরই এসব কর্মসূচির পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি চূড়ান্ত করবে।

বৈঠকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ১১-দলীয় জোটের অংশগ্রহণের কৌশল নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে জোটবদ্ধভাবে নাকি পৃথকভাবে নির্বাচনে যাওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। জামায়াত এককভাবে নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিলেও বেশ কয়েকটি শরিক দল জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। এর পাশাপাশি রাজপথে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ জোরদার করতে আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার বিষয়ে প্রচারিত বক্তব্যের প্রসঙ্গ উঠে আসে। তবে জোটের শীর্ষ নেতারা এই বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে খুব বেশি প্রাধান্য না দিয়ে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দলগুলোর নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি ও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

উক্ত বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ সারির নেত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিষয় : রাজনীতি রাজনীতি জামায়াত লংমার্চ

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


সচিবালয় ঘেরাও ও চার বিভাগে লংমার্চের ডাক দিল জামায়াত জোট

প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিদ্যুতের বর্দ্ধিত বিল, তীব্র গ্যাসসংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে মাঠপর্যায়ে কড়া রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট। নতুন ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আগামী ৬ আগস্ট সচিবালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি এবং পরবর্তী মাসে দেশের চার বিভাগে ধারাবাহিক লংমার্চ। এ ছাড়া আগামী ১৪ নভেম্বর রাজধানী ঢাকায় একটি মহাসমাবেশ আয়োজনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জোটের শীর্ষ নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত গণসমাবেশ থেকে এসব কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। ওই দিন দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও গণমিছিলের আয়োজন করা হবে।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ আগস্ট রাজধানী ঢাকার সচিবালয়ের সামনে অবস্থান গ্রহণ করবে ১১-দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। একই দিনে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় অবস্থিত গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার কার্যালয়ের সামনেও অনুরূপ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচি শেষে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদ জানিয়ে সচিবালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করবেন জোটের শীর্ষ প্রতিনিধিরা।

জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ জানান, সরকারের নির্লিপ্ততা ও চরম ব্যর্থতার কারণেই আজ সারা দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবন আজ অতিষ্ঠ। এই পরিস্থিতির তীব্র প্রতিবাদ জানাতেই সচিবালয়ের সামনে অবস্থান ও স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী মাস থেকে ঢাকা থেকে চার বিভাগে লংমার্চ কর্মসূচি শুরু করবে জোটটি। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর রুটে এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া ঢাকা-খুলনা রুটের তারিখ চূড়ান্ত করার কাজ চলছে এবং ঢাকা-সিলেট রুটে একটি ‘ট্রেনমার্চ’ আয়োজনের পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। জোটের গঠিত লিয়াজোঁ কমিটি খুব শিগগিরই এসব কর্মসূচির পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি চূড়ান্ত করবে।

বৈঠকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ১১-দলীয় জোটের অংশগ্রহণের কৌশল নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে জোটবদ্ধভাবে নাকি পৃথকভাবে নির্বাচনে যাওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। জামায়াত এককভাবে নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিলেও বেশ কয়েকটি শরিক দল জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। এর পাশাপাশি রাজপথে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ জোরদার করতে আগামী ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই বৈঠকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার বিষয়ে প্রচারিত বক্তব্যের প্রসঙ্গ উঠে আসে। তবে জোটের শীর্ষ নেতারা এই বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে খুব বেশি প্রাধান্য না দিয়ে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দলগুলোর নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি ও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

উক্ত বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ সারির নেত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0