English / বাংলা
Editorial News 24

গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের ধারণা, মোজতবা খামেনি তেহরানের কোনো অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার অথবা ধর্মীয় নগরী কোমের গভীর টানেল নেটওয়ার্কের ভেতরে অবস্থান করছেন।

মোজতবা খামেনির খোঁজে সিআইএ ও মোসাদ: দ্য টাইমসের রিপোর্ট


প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

মোজতবা খামেনির খোঁজে সিআইএ ও মোসাদ: দ্য টাইমসের রিপোর্ট

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান শনাক্ত করতে বিশ্বজুড়ে উচ্চমাত্রার গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) এবং ইসরায়েলের মোসাদ। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য টাইমস'-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য বর্তমানে সবচেয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিক গোয়েন্দা অভিযানের বিষয় হয়ে উঠেছে মোজতবা খামেনির গোপন আস্তানা খুঁজে বের করা। কয়েক মাস ধরে জনসমক্ষে না আসা এবং অত্যন্ত কঠোর যোগাযোগ-নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার কারণে তার অবস্থান ও ইরানের নেতৃত্বের ওপর তার কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি গত ৮ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তেহরানে যৌথ হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তিনি এই শীর্ষ পদে আসীন হন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এই দাবির সপক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে কোনো স্বাধীন ও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মোজতবা খামেনি নিজেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল নজরদারির বাইরে রেখেছেন, যা আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য এক বিশাল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত পাঁচ মাসে মোজতবা খামেনির কোনো মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা প্রযুক্তিগত যোগাযোগের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহারের বদলে তিনি কেবল হাতে লেখা চিঠির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অনুশাসন পাঠাচ্ছেন। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও গোপন বাহকদের মাধ্যমেই এই বার্তাগুলো আদান-প্রদান করা হয়। ফলে তার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আড়িপাতা বা ডিজিটাল পদচিহ্ন অনুসরণ করে অবস্থান নির্ণয় করা মোসাদ বা সিআইএ-র মতো সংস্থার জন্যও কঠিন হয়ে পড়েছে।

গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের ধারণা, মোজতবা খামেনি তেহরানের কোনো অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার অথবা ধর্মীয় নগরী কোমের গভীর টানেল নেটওয়ার্কের ভেতরে অবস্থান করছেন। তাছাড়া হামলা এড়াতে ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর নিরাপত্তা কৌশল ব্যবহার করছে বলেও মত সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের। বাবার ওপর হওয়া সামরিক হামলার সময় মোজতবা নিজেও আহত হয়েছিলেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। নওরোজের মতো গুরুত্বপূর্ণ উৎসবে সরাসরি ভাষণ না দিয়ে কেবল টেলিগ্রামে সংক্ষিপ্ত লিখিত বার্তার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

যদিও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেছেন বলে দাবি করেছেন, তবে পশ্চিমা গোয়েন্দারা সেই সাক্ষাতের সুনির্দিষ্ট সময় বা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে পারেনি। সর্বোচ্চ নেতার দীর্ঘ অনুপস্থিতি ও গোপনীয়তার মাঝে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব আরও জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও পারমাণবিক সক্ষমতাকে কেন্দ্র করে অঞ্চলে যে উত্তেজনা চলছে, তাতে মোজতবা খামেনির এই কঠোর আত্মগোপন কৌশল মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও বেশি অনিশ্চিত করে তুলছে।

বিষয় : ইরান ইরান মোসাদ সিআইএ

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


মোজতবা খামেনির খোঁজে সিআইএ ও মোসাদ: দ্য টাইমসের রিপোর্ট

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান শনাক্ত করতে বিশ্বজুড়ে উচ্চমাত্রার গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) এবং ইসরায়েলের মোসাদ। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম 'দ্য টাইমস'-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য বর্তমানে সবচেয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিক গোয়েন্দা অভিযানের বিষয় হয়ে উঠেছে মোজতবা খামেনির গোপন আস্তানা খুঁজে বের করা। কয়েক মাস ধরে জনসমক্ষে না আসা এবং অত্যন্ত কঠোর যোগাযোগ-নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার কারণে তার অবস্থান ও ইরানের নেতৃত্বের ওপর তার কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি গত ৮ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তেহরানে যৌথ হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তিনি এই শীর্ষ পদে আসীন হন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এই দাবির সপক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে কোনো স্বাধীন ও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মোজতবা খামেনি নিজেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল নজরদারির বাইরে রেখেছেন, যা আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য এক বিশাল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত পাঁচ মাসে মোজতবা খামেনির কোনো মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা প্রযুক্তিগত যোগাযোগের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহারের বদলে তিনি কেবল হাতে লেখা চিঠির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অনুশাসন পাঠাচ্ছেন। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও গোপন বাহকদের মাধ্যমেই এই বার্তাগুলো আদান-প্রদান করা হয়। ফলে তার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আড়িপাতা বা ডিজিটাল পদচিহ্ন অনুসরণ করে অবস্থান নির্ণয় করা মোসাদ বা সিআইএ-র মতো সংস্থার জন্যও কঠিন হয়ে পড়েছে।

গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের ধারণা, মোজতবা খামেনি তেহরানের কোনো অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার অথবা ধর্মীয় নগরী কোমের গভীর টানেল নেটওয়ার্কের ভেতরে অবস্থান করছেন। তাছাড়া হামলা এড়াতে ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর নিরাপত্তা কৌশল ব্যবহার করছে বলেও মত সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের। বাবার ওপর হওয়া সামরিক হামলার সময় মোজতবা নিজেও আহত হয়েছিলেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে। নওরোজের মতো গুরুত্বপূর্ণ উৎসবে সরাসরি ভাষণ না দিয়ে কেবল টেলিগ্রামে সংক্ষিপ্ত লিখিত বার্তার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

যদিও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেছেন বলে দাবি করেছেন, তবে পশ্চিমা গোয়েন্দারা সেই সাক্ষাতের সুনির্দিষ্ট সময় বা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে পারেনি। সর্বোচ্চ নেতার দীর্ঘ অনুপস্থিতি ও গোপনীয়তার মাঝে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব আরও জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ও পারমাণবিক সক্ষমতাকে কেন্দ্র করে অঞ্চলে যে উত্তেজনা চলছে, তাতে মোজতবা খামেনির এই কঠোর আত্মগোপন কৌশল মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও বেশি অনিশ্চিত করে তুলছে।


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0