English / বাংলা
Editorial News 24

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সাম্প্রতিক অবস্থানের সমালোচনা করে বলেছেন, যারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা ও বাণীর কথা বলেন, তাদের আগে নিজেদের রাষ্ট্রীয় নীতি ও আচরণ ইসলামের আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা পর্যালোচনা করা উচিত।

কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল ইরান


প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল ইরান

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সাম্প্রতিক অবস্থানের সমালোচনা করে বলেছেন, যারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা ও বাণীর কথা বলেন, তাদের আগে নিজেদের রাষ্ট্রীয় নীতি ও আচরণ ইসলামের আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা পর্যালোচনা করা উচিত।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, আরবি ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘায়ি বলেন, ইরান একটি প্রাচীন ও সমৃদ্ধ সভ্যতার দেশ। ইসলাম গ্রহণের পর ফিকহ, দর্শন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, গণিত ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইসলামী সভ্যতার বিকাশে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।তিনি কোরআনের সূরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে বলেন, ইসলামে মানুষের মর্যাদা ভাষা, জাতি বা ভৌগোলিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে না; বরং আল্লাহভীতিই প্রকৃত মর্যাদার মানদণ্ড।

বাঘায়ির ভাষ্য, শুধু আরব হওয়া বা আরবি ভাষায় কথা বলার কারণে কেউ মহানবী (সা.)-এর মিশনের প্রকৃত প্রতিনিধি হয়ে যান না। এ ধরনের দাবি তখনই অর্থবহ, যখন তা ইসলামের ন্যায়বিচার, নৈতিকতা ও আদর্শের বাস্তব অনুসরণের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়।তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ইরান সবসময় সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক ও মুসলিম ভ্রাতৃত্বের নীতিকে গুরুত্ব দিয়েছে। এমনকি ইরানের ভূখণ্ড থেকে পৃথক হয়ে গঠিত নতুন রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গেও একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বাঘায়ি কোরআনের শিক্ষা ও মহানবী (সা.)-এর বাণীর প্রসঙ্গ তুলে বলেন, মুসলমানদের কখনো জুলুমকারীদের পক্ষ নেওয়া বা তাদের সহযোগিতা করা উচিত নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানো শক্তিকে সহযোগিতা করা কিংবা মুসলমানদের শত্রুদের আশ্রয় দেওয়া ইসলামের ন্যায়বিচার, সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক ও মুসলিম ঐক্যের শিক্ষার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।তার দাবি, এসব প্রশ্নের উত্তর পবিত্র কোরআন, মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ এবং মুসলিম উম্মাহর বিবেকেই স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়।

সম্প্রতি বাহরাইনের শাসক হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা ইরানকে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে মহানবী (সা.)-এর শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, মহানবী (সা.) ইরানকে অন্ধকার থেকে জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার পথে পরিচালিত করেছিলেন। সেই কৃতজ্ঞতার দৃষ্টান্ত হিসেবে তেহরানের উচিত বাহরাইনে হামলা না করা।

উল্লেখ্য, জুলাইয়ের শুরু থেকে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়ে আসছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে বাহরাইনসহ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

সূত্র: আইআরএনএ


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল ইরান

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সাম্প্রতিক অবস্থানের সমালোচনা করে বলেছেন, যারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা ও বাণীর কথা বলেন, তাদের আগে নিজেদের রাষ্ট্রীয় নীতি ও আচরণ ইসলামের আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা পর্যালোচনা করা উচিত।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, আরবি ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘায়ি বলেন, ইরান একটি প্রাচীন ও সমৃদ্ধ সভ্যতার দেশ। ইসলাম গ্রহণের পর ফিকহ, দর্শন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, গণিত ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইসলামী সভ্যতার বিকাশে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।তিনি কোরআনের সূরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে বলেন, ইসলামে মানুষের মর্যাদা ভাষা, জাতি বা ভৌগোলিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে না; বরং আল্লাহভীতিই প্রকৃত মর্যাদার মানদণ্ড।

বাঘায়ির ভাষ্য, শুধু আরব হওয়া বা আরবি ভাষায় কথা বলার কারণে কেউ মহানবী (সা.)-এর মিশনের প্রকৃত প্রতিনিধি হয়ে যান না। এ ধরনের দাবি তখনই অর্থবহ, যখন তা ইসলামের ন্যায়বিচার, নৈতিকতা ও আদর্শের বাস্তব অনুসরণের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়।তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ইরান সবসময় সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক ও মুসলিম ভ্রাতৃত্বের নীতিকে গুরুত্ব দিয়েছে। এমনকি ইরানের ভূখণ্ড থেকে পৃথক হয়ে গঠিত নতুন রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গেও একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বাঘায়ি কোরআনের শিক্ষা ও মহানবী (সা.)-এর বাণীর প্রসঙ্গ তুলে বলেন, মুসলমানদের কখনো জুলুমকারীদের পক্ষ নেওয়া বা তাদের সহযোগিতা করা উচিত নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানো শক্তিকে সহযোগিতা করা কিংবা মুসলমানদের শত্রুদের আশ্রয় দেওয়া ইসলামের ন্যায়বিচার, সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক ও মুসলিম ঐক্যের শিক্ষার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।তার দাবি, এসব প্রশ্নের উত্তর পবিত্র কোরআন, মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ এবং মুসলিম উম্মাহর বিবেকেই স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়।

সম্প্রতি বাহরাইনের শাসক হামাদ বিন ঈসা আল খলিফা ইরানকে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে মহানবী (সা.)-এর শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, মহানবী (সা.) ইরানকে অন্ধকার থেকে জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার পথে পরিচালিত করেছিলেন। সেই কৃতজ্ঞতার দৃষ্টান্ত হিসেবে তেহরানের উচিত বাহরাইনে হামলা না করা।

উল্লেখ্য, জুলাইয়ের শুরু থেকে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়ে আসছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে বাহরাইনসহ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

সূত্র: আইআরএনএ



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0