English / বাংলা
Editorial News 24

বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তাঁর প্রয়াত মাকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে এক তরুণীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে স্থানীয় পুলিশ।

যন্তর মন্তরে আপত্তিকর স্লোগান,শিক্ষার্থীদের ক্ষমার আহ্বান মোদির


প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

যন্তর মন্তরে আপত্তিকর স্লোগান,শিক্ষার্থীদের ক্ষমার আহ্বান মোদির

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ চলাকালে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তাঁর প্রয়াত মাকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে এক তরুণীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে স্থানীয় পুলিশ। তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কঠোর আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের পরিবর্তে সংযম ও ক্ষমার বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২৩ জুলাই। দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে শিক্ষার্থীদের এক বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তব্য রাখা ও স্লোগান দেওয়ার সময় দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর প্রয়াত মায়ের বিরুদ্ধে অসংবেদনশীল ও আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং মানহানির বিভিন্ন ধারায় নয়ডায় একটি জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছেন। প্রকাশিত এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, যন্তর মন্তরে যা ঘটেছে তা গোটা দেশ প্রত্যক্ষ করেছে। একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের কটু ভাষা ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। তবে তাঁকে বা তাঁর প্রয়াত পরিবারকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করা হলেও প্রতিশোধ কিংবা বিদ্বেষমূলক মনোভাব কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারে না।

তরুণ প্রজন্মের প্রতি সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী মোদি আরও বলেন, জীবনের এই বয়সে অনেক সময় তরুণ-তরুণীরা আবেগপ্রবণ হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। সেই সাময়িক ভুলের জন্য তাদের কেবল আইন বা কঠোর শাস্তির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিলে পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হবে না। বরং তাদের ভুল বুঝিয়ে সঠিক পথ দেখানো এবং সমাজের মূল ধারায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওই অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো প্রকার ক্ষোভ না রেখে তাদের ক্ষমা করে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

এদিকে এই ঘটনায় আন্দোলনকারী সংগঠনের পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, বিক্ষোভে ব্যবহৃত ভাষা যদি অনভিপ্রেত বা অসংবেদনশীল হয়ে থাকে, তবে তার জন্য দেওয়ানি কিংবা ব্যক্তিগত মানহানির আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। তবে সাধারণ প্রতিবাদকারী ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সরাসরি কঠোর ফৌজদারি মামলা দায়ের করা এবং প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করা গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও বাকস্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক।

সামগ্রিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতি ও নাগরিক সমাজে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একদল যেখানে প্রধানমন্ত্রীর এই ক্ষমাশীল মানবিক বার্তাকে স্বাগত জানাচ্ছে, অন্যদল আন্দোলনকারীদের অধিকার ও প্রশাসনিক আচরণের ওপর নজর রাখছে।

বিষয় : ভারত মোদি রাজনীতি

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


যন্তর মন্তরে আপত্তিকর স্লোগান,শিক্ষার্থীদের ক্ষমার আহ্বান মোদির

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ চলাকালে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তাঁর প্রয়াত মাকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে এক তরুণীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে স্থানীয় পুলিশ। তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কঠোর আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের পরিবর্তে সংযম ও ক্ষমার বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২৩ জুলাই। দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে শিক্ষার্থীদের এক বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তব্য রাখা ও স্লোগান দেওয়ার সময় দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর প্রয়াত মায়ের বিরুদ্ধে অসংবেদনশীল ও আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং মানহানির বিভিন্ন ধারায় নয়ডায় একটি জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়। প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছেন। প্রকাশিত এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, যন্তর মন্তরে যা ঘটেছে তা গোটা দেশ প্রত্যক্ষ করেছে। একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরনের কটু ভাষা ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। তবে তাঁকে বা তাঁর প্রয়াত পরিবারকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করা হলেও প্রতিশোধ কিংবা বিদ্বেষমূলক মনোভাব কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারে না।

তরুণ প্রজন্মের প্রতি সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী মোদি আরও বলেন, জীবনের এই বয়সে অনেক সময় তরুণ-তরুণীরা আবেগপ্রবণ হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। সেই সাময়িক ভুলের জন্য তাদের কেবল আইন বা কঠোর শাস্তির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিলে পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হবে না। বরং তাদের ভুল বুঝিয়ে সঠিক পথ দেখানো এবং সমাজের মূল ধারায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওই অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো প্রকার ক্ষোভ না রেখে তাদের ক্ষমা করে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

এদিকে এই ঘটনায় আন্দোলনকারী সংগঠনের পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, বিক্ষোভে ব্যবহৃত ভাষা যদি অনভিপ্রেত বা অসংবেদনশীল হয়ে থাকে, তবে তার জন্য দেওয়ানি কিংবা ব্যক্তিগত মানহানির আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। তবে সাধারণ প্রতিবাদকারী ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সরাসরি কঠোর ফৌজদারি মামলা দায়ের করা এবং প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করা গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও বাকস্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক।

সামগ্রিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতি ও নাগরিক সমাজে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একদল যেখানে প্রধানমন্ত্রীর এই ক্ষমাশীল মানবিক বার্তাকে স্বাগত জানাচ্ছে, অন্যদল আন্দোলনকারীদের অধিকার ও প্রশাসনিক আচরণের ওপর নজর রাখছে।


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0