ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর তাকে সংবর্ধনা দেওয়াকে কেন্দ্র করে লোকসভায় তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় টানা ৩৭ দিনের শিক্ষার্থী আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করা একজন মন্ত্রীকে বিজেপি সংসদ সদস্যরা সংবর্ধনা দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছে দলটি।
মঙ্গলবার লোকসভায় কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ বলেন, পদত্যাগের পর ধর্মেন্দ্র প্রধানকে এমনভাবে বরণ করে নেওয়া হয়েছে, যেন তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয় করে ফিরেছেন।
সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সোমবার সংসদে প্রবেশের সময় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ঘিরে ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন বিজেপি সাংসদরা। এ সময় এক সাংসদ তার মাথায় ঐতিহ্যবাহী টুপি পরিয়ে দেন এবং আরেকজন কাঁধে শাল তুলে দেন।
এ প্রসঙ্গে গগৈ বলেন, “পদত্যাগের পর তিনি সংসদে প্রবেশ করলে বিজেপি সাংসদরা তাকে এমনভাবে সংবর্ধনা দিয়েছেন, যেন তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করে ফিরেছেন।”
কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও এ ঘটনার সমালোচনা করে বলেন, “আপনারা কি মনে করেন না এটা লজ্জাজনক? ধর্মেন্দ্র প্রধান কী পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করেছেন তা সবাই দেখেছে। কিন্তু সংসদ চত্বরে তাকে এমনভাবে স্বাগত জানানো হলো, যেন তিনি একজন সুপারস্টার।”
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দেওয়া সংবর্ধনার সমালোচনা করেন।
তিনি লেখেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধান দুর্নীতি এবং ভারতের ধ্বংসপ্রাপ্ত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতীক ছিলেন এবং থাকবেন। সেই ব্যবস্থাই ২৬টি শিশুর জীবন কেড়ে নিয়েছে এবং লাখ লাখ যুবককে রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে।”
রাহুল গান্ধীর দাবি, নৈতিক দায় থেকে নয়, বরং তরুণদের ক্ষোভের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “আজ সেই ব্যক্তিকেই সংসদে মালা পরিয়ে সম্মান জানানো হচ্ছে। এটি কোনও সম্মান নয়, বরং লাখো শিক্ষার্থীর নষ্ট হয়ে যাওয়া ভবিষ্যতের উদযাপন। দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থী এই দৃশ্য দেখছে এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রতিটি মুখ মনে রাখবে।”
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হওয়া শিক্ষার্থী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।
গত মে মাসে নিট (এনইইটি) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে এলে সরকার তদন্ত শুরু করে, ফল প্রকাশ স্থগিত রাখে এবং জুন মাসে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়। এতে পরীক্ষার্থীদের আবারও প্রস্তুতি নিতে হয়।
এদিকে, পরীক্ষা-সংক্রান্ত সংকটের জেরে শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর বিষয়ে ভারত সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সিজেপির দাবি, এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানসিক চাপের কারণে অন্তত ২১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।
সূত্র: এনডিটিভি।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬
ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর তাকে সংবর্ধনা দেওয়াকে কেন্দ্র করে লোকসভায় তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় টানা ৩৭ দিনের শিক্ষার্থী আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করা একজন মন্ত্রীকে বিজেপি সংসদ সদস্যরা সংবর্ধনা দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছে দলটি।
মঙ্গলবার লোকসভায় কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ বলেন, পদত্যাগের পর ধর্মেন্দ্র প্রধানকে এমনভাবে বরণ করে নেওয়া হয়েছে, যেন তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জয় করে ফিরেছেন।
সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সোমবার সংসদে প্রবেশের সময় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ঘিরে ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন বিজেপি সাংসদরা। এ সময় এক সাংসদ তার মাথায় ঐতিহ্যবাহী টুপি পরিয়ে দেন এবং আরেকজন কাঁধে শাল তুলে দেন।
এ প্রসঙ্গে গগৈ বলেন, “পদত্যাগের পর তিনি সংসদে প্রবেশ করলে বিজেপি সাংসদরা তাকে এমনভাবে সংবর্ধনা দিয়েছেন, যেন তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করে ফিরেছেন।”
কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও এ ঘটনার সমালোচনা করে বলেন, “আপনারা কি মনে করেন না এটা লজ্জাজনক? ধর্মেন্দ্র প্রধান কী পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করেছেন তা সবাই দেখেছে। কিন্তু সংসদ চত্বরে তাকে এমনভাবে স্বাগত জানানো হলো, যেন তিনি একজন সুপারস্টার।”
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দেওয়া সংবর্ধনার সমালোচনা করেন।
তিনি লেখেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধান দুর্নীতি এবং ভারতের ধ্বংসপ্রাপ্ত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতীক ছিলেন এবং থাকবেন। সেই ব্যবস্থাই ২৬টি শিশুর জীবন কেড়ে নিয়েছে এবং লাখ লাখ যুবককে রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে।”
রাহুল গান্ধীর দাবি, নৈতিক দায় থেকে নয়, বরং তরুণদের ক্ষোভের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “আজ সেই ব্যক্তিকেই সংসদে মালা পরিয়ে সম্মান জানানো হচ্ছে। এটি কোনও সম্মান নয়, বরং লাখো শিক্ষার্থীর নষ্ট হয়ে যাওয়া ভবিষ্যতের উদযাপন। দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থী এই দৃশ্য দেখছে এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রতিটি মুখ মনে রাখবে।”
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হওয়া শিক্ষার্থী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।
গত মে মাসে নিট (এনইইটি) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে এলে সরকার তদন্ত শুরু করে, ফল প্রকাশ স্থগিত রাখে এবং জুন মাসে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়। এতে পরীক্ষার্থীদের আবারও প্রস্তুতি নিতে হয়।
এদিকে, পরীক্ষা-সংক্রান্ত সংকটের জেরে শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর বিষয়ে ভারত সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সিজেপির দাবি, এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানসিক চাপের কারণে অন্তত ২১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।
সূত্র: এনডিটিভি।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন