English / বাংলা
Editorial News 24

পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে আগামী কয়েক মাসে তেলের দাম আরও বেড়ে ১২০ থেকে ১৫০ ডলারে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা

ইরান যুদ্ধের প্রভাব: তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা


প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

ইরান যুদ্ধের প্রভাব: তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবের দুটি গুরুত্বপূর্ণ তেল বন্দরে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর ফলে পারস্য উপসাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগরেও যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যাহত হতে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাসের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে আগামী কয়েক মাসে তেলের দাম আরও বেড়ে ১২০ থেকে ১৫০ ডলারে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।এর আগে ২০২২ সালে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৮ ডলারে উঠেছিল। ২০০৮ সালে তা সর্বোচ্চ ১৪৬ ডলারে পৌঁছায়।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে দাবি করেছেন, সৌদি আরবের জিজান ও ইয়ানবু বন্দরে আরামকোর স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর জিজানের শোধনাগার এলাকায় ব্যাপক ধোঁয়া দেখা যায়। তেল ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রও জিজানের জ্বালানি মজুতাগারে ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে।

সৌদির প্রধান তেল রপ্তানিকারক বন্দর ইয়ানবু লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে ইয়ানবু সৌদি আরবের তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হিসেবে বিবেচিত হবে।

হুতি হামলার জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে। মারিব, আল-জফ, হোদেইদাহ, কামারান দ্বীপ ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ঘাঁটিতে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

ইয়েমেনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২২ সাল থেকে চলা অস্ত্রবিরতি ভেঙে নতুন করে সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই পক্ষ। হুতি নেতা আব্দুল মালিক আল-হুতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সৌদি আরব সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে দেশটির তেল স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে। আপাতত ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন। তবে প্রয়োজন হলে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরান কোনো হুমকিতে ভয় পায় না এবং চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।

বিকল্প পথে তেল সরবরাহে নানা বাধা

বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরকে ঘিরে। জেপি মর্গানের তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়। এর মধ্যে সৌদি আরবের প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সৌদি আরব চাইলে সুয়েজ খাল ব্যবহার করে তেল পরিবহনের চেষ্টা করতে পারে। তবে বড় তেলবাহী জাহাজগুলোর জন্য সেখানে গভীরতার সমস্যা রয়েছে। ছোট ট্যাঙ্কার ব্যবহার করলে পরিবহনের সময়ও প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।

এদিকে ইরানকে টোল দিয়ে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার ক্ষেত্রেও বড় বাধা রয়েছে। এমন জাহাজকে বীমা সুবিধা দিতে অনীহা দেখাচ্ছে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেল সরবরাহের পাশাপাশি পরিবহন ও বীমা খরচও বেড়ে যেতে পারে।

ইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছিল বাহরাইন-কুয়েত

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে বাহরাইন ও কুয়েত গোপনে ইরানের ভেতরে বিমান হামলা চালিয়েছিল। হামলায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতাগার লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত না থামলে তেল সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এতে আগামী মাসগুলোতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


ইরান যুদ্ধের প্রভাব: তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবের দুটি গুরুত্বপূর্ণ তেল বন্দরে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর ফলে পারস্য উপসাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগরেও যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যাহত হতে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাসের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে আগামী কয়েক মাসে তেলের দাম আরও বেড়ে ১২০ থেকে ১৫০ ডলারে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।এর আগে ২০২২ সালে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৮ ডলারে উঠেছিল। ২০০৮ সালে তা সর্বোচ্চ ১৪৬ ডলারে পৌঁছায়।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে দাবি করেছেন, সৌদি আরবের জিজান ও ইয়ানবু বন্দরে আরামকোর স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। হামলার পর জিজানের শোধনাগার এলাকায় ব্যাপক ধোঁয়া দেখা যায়। তেল ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রও জিজানের জ্বালানি মজুতাগারে ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে।

সৌদির প্রধান তেল রপ্তানিকারক বন্দর ইয়ানবু লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে ইয়ানবু সৌদি আরবের তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হিসেবে বিবেচিত হবে।

হুতি হামলার জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে। মারিব, আল-জফ, হোদেইদাহ, কামারান দ্বীপ ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ঘাঁটিতে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

ইয়েমেনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২২ সাল থেকে চলা অস্ত্রবিরতি ভেঙে নতুন করে সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই পক্ষ। হুতি নেতা আব্দুল মালিক আল-হুতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সৌদি আরব সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে দেশটির তেল স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে। আপাতত ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন। তবে প্রয়োজন হলে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইরান কোনো হুমকিতে ভয় পায় না এবং চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।

বিকল্প পথে তেল সরবরাহে নানা বাধা

বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরকে ঘিরে। জেপি মর্গানের তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়। এর মধ্যে সৌদি আরবের প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সৌদি আরব চাইলে সুয়েজ খাল ব্যবহার করে তেল পরিবহনের চেষ্টা করতে পারে। তবে বড় তেলবাহী জাহাজগুলোর জন্য সেখানে গভীরতার সমস্যা রয়েছে। ছোট ট্যাঙ্কার ব্যবহার করলে পরিবহনের সময়ও প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।

এদিকে ইরানকে টোল দিয়ে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার ক্ষেত্রেও বড় বাধা রয়েছে। এমন জাহাজকে বীমা সুবিধা দিতে অনীহা দেখাচ্ছে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তেল সরবরাহের পাশাপাশি পরিবহন ও বীমা খরচও বেড়ে যেতে পারে।

ইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছিল বাহরাইন-কুয়েত

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে বাহরাইন ও কুয়েত গোপনে ইরানের ভেতরে বিমান হামলা চালিয়েছিল। হামলায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতাগার লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত না থামলে তেল সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এতে আগামী মাসগুলোতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0