English / বাংলা
Editorial News 24

পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদ থেকে বৃহত্তর জবাবদিহির আন্দোলন, অবনতিশীল স্বাস্থ্যের মধ্যেও অনশন ভাঙতে নারাজ ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর অনুপ্রেরণা

১৯ দিন ধরে অনশনে সোনম ওয়াংচুক, এবার সংসদ অভিযানের ডাক


প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

১৯ দিন ধরে অনশনে সোনম ওয়াংচুক, এবার সংসদ অভিযানের ডাক

ভারতের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, প্রকৌশলী ও জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন ১৯তম দিনে গড়িয়েছে। রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে তিনি অনির্দিষ্টকালের এই অনশন করছেন পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষাব্যবস্থার অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে। তাঁর অনশন এখন ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা, সরকারি জবাবদিহি এবং তরুণদের ক্ষোভকে ঘিরে বড় রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে।

কী দাবিতে অনশন?

সোনম ওয়াংচুকের বর্তমান অনশন শুরু হয়েছে ককট্রোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতৃত্বে চলা আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি হলো—পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

ভারতে সাম্প্রতিক পরীক্ষাব্যবস্থার নানা অনিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের পর একটি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করতে হয়েছিল, যে পরীক্ষায় প্রায় ২৩ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। পরে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

২৮ জুন শুরু, ১৯তম দিনে পৌঁছেছে অনশন

সোনম ওয়াংচুক ২৮ জুন নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন। ১৪ জুলাই তাঁর অনশন ১৭তম দিনে পৌঁছালে শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর সামনে আসে। ১৬ জুলাই পর্যন্ত তিনি অনশন অব্যাহত রেখেছেন এবং ১৯তম দিনে পৌঁছেছেন বলে প্রতিবেদনগুলোতে জানানো হয়েছে। তাঁর চিকিৎসক জানিয়েছেন, তিনি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ওজন হারিয়েছেন। তবে ওয়াংচুক নিজে জানিয়েছেন, চিকিৎসা পরীক্ষায় তাৎক্ষণিক বড় কোনো বিপদের লক্ষণ ধরা পড়েনি এবং তিনি মানসিকভাবে সচেতন রয়েছেন।

অনশন ভাঙার আহ্বান, কিন্তু সিদ্ধান্তে অনড় ওয়াংচুক

সোনম ওয়াংচুককে অনশন ভাঙার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এই আহ্বান আরও জোরালো হয়েছে।তবে ওয়াংচুক অনশন ভাঙতে রাজি নন। তাঁর বক্তব্য, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো অর্থবহ জবাব বা জবাবদিহির উদ্যোগ ছাড়া অনশন প্রত্যাহার করলে ভুল বার্তা যাবে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—তিনি অনশন ভেঙে ফেললে সরকারের ওপর জবাবদিহির চাপই বা কতটা থাকবে?

তিনি সমর্থকদের অনশন ভাঙার আহ্বান না জানিয়ে আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন।


২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ডাক

অনশনরত অবস্থাতেই ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে একটি শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর সমর্থকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদেরও এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।ওয়াংচুকের মতে, এই পদযাত্রা গণতন্ত্র ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। তিনি নাগরিকদের শুধু কোনো একজন নেতার ওপর নির্ভর না করে নিজেদের দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আন্দোলনের পরিধি বাড়ছে

সোনম ওয়াংচুকের অনশন শুরু হলেও যন্তর মন্তরের আন্দোলন এখন বৃহত্তর তরুণ আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষার অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং সরকারি জবাবদিহির মতো বিষয়গুলো আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তরুণদের মধ্যে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মনে করছে—পরীক্ষার অনিয়মের জন্য শুধু প্রশাসনিক তদন্ত যথেষ্ট নয়, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।

আদালতের হস্তক্ষেপ

সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে দিল্লি হাইকোর্টও বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে। আদালত কর্তৃপক্ষকে তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখতে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে।তবে আদালতের অবস্থান হলো, তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসাগত প্রয়োজন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। এ নিয়ে তাঁর অনশন জোর করে ভাঙানো হবে কি না, তা চিকিৎসা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

সরকারের সঙ্গে আলোচনার দাবি

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সরকারের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা ও জবাবদিহির দাবি জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি মেনে নেওয়ার কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে ওয়াংচুকের দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর প্রতিক্রিয়া না আসায় আন্দোলন আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওয়াংচুক নিজেও জানিয়েছেন, কোনো অর্থবহ সরকারি প্রতিক্রিয়া ছাড়া তিনি অনশন প্রত্যাহার করতে চান না।

কে এই সোনম ওয়াংচুক?

সোনম ওয়াংচুক একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী। লাদাখের শিক্ষাব্যবস্থা ও পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তিনি। তাঁর জীবন ও কাজের কিছু দিক বলিউডের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর একটি চরিত্রকে অনুপ্রাণিত করেছিল বলে ব্যাপকভাবে পরিচিতি রয়েছে।এর আগে লাদাখের পরিবেশ সুরক্ষা, স্থানীয় জনগণের রাজনৈতিক অধিকার এবং অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক আন্দোলন ও অনশন করেছেন তিনি। তবে বর্তমান অনশন মূলত পরীক্ষাব্যবস্থার অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে জবাবদিহির দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে।

এখন কী হতে পারে?

সোনম ওয়াংচুকের অনশন ১৯তম দিনে পৌঁছানোর পর সামনে এখন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—তাঁর শারীরিক অবস্থা, সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিমুখী পদযাত্রা।আন্দোলনকারীরা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না এলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে। অন্যদিকে চিকিৎসক ও রাজনৈতিক নেতারা ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁকে অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছেন।

তবে ওয়াংচুক এখনো তাঁর অবস্থানে অনড়। তাঁর বক্তব্যের সারকথা—শুধু অনশন ভাঙার আহ্বান নয়, বরং যে সমস্যার প্রতিবাদে তিনি অনশন করছেন, সেই সমস্যার সমাধান এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা, এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে, দ্য প্রিন্ট

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


১৯ দিন ধরে অনশনে সোনম ওয়াংচুক, এবার সংসদ অভিযানের ডাক

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

ভারতের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, প্রকৌশলী ও জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন ১৯তম দিনে গড়িয়েছে। রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে তিনি অনির্দিষ্টকালের এই অনশন করছেন পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষাব্যবস্থার অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে। তাঁর অনশন এখন ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা, সরকারি জবাবদিহি এবং তরুণদের ক্ষোভকে ঘিরে বড় রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপ নিয়েছে।

কী দাবিতে অনশন?

সোনম ওয়াংচুকের বর্তমান অনশন শুরু হয়েছে ককট্রোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতৃত্বে চলা আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি হলো—পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

ভারতে সাম্প্রতিক পরীক্ষাব্যবস্থার নানা অনিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থী ও তরুণদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের পর একটি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করতে হয়েছিল, যে পরীক্ষায় প্রায় ২৩ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। পরে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

২৮ জুন শুরু, ১৯তম দিনে পৌঁছেছে অনশন

সোনম ওয়াংচুক ২৮ জুন নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন। ১৪ জুলাই তাঁর অনশন ১৭তম দিনে পৌঁছালে শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর সামনে আসে। ১৬ জুলাই পর্যন্ত তিনি অনশন অব্যাহত রেখেছেন এবং ১৯তম দিনে পৌঁছেছেন বলে প্রতিবেদনগুলোতে জানানো হয়েছে। তাঁর চিকিৎসক জানিয়েছেন, তিনি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ওজন হারিয়েছেন। তবে ওয়াংচুক নিজে জানিয়েছেন, চিকিৎসা পরীক্ষায় তাৎক্ষণিক বড় কোনো বিপদের লক্ষণ ধরা পড়েনি এবং তিনি মানসিকভাবে সচেতন রয়েছেন।

অনশন ভাঙার আহ্বান, কিন্তু সিদ্ধান্তে অনড় ওয়াংচুক

সোনম ওয়াংচুককে অনশন ভাঙার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এই আহ্বান আরও জোরালো হয়েছে।তবে ওয়াংচুক অনশন ভাঙতে রাজি নন। তাঁর বক্তব্য, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো অর্থবহ জবাব বা জবাবদিহির উদ্যোগ ছাড়া অনশন প্রত্যাহার করলে ভুল বার্তা যাবে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—তিনি অনশন ভেঙে ফেললে সরকারের ওপর জবাবদিহির চাপই বা কতটা থাকবে?

তিনি সমর্থকদের অনশন ভাঙার আহ্বান না জানিয়ে আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন।


২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ডাক

অনশনরত অবস্থাতেই ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে একটি শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর সমর্থকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদেরও এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।ওয়াংচুকের মতে, এই পদযাত্রা গণতন্ত্র ও নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। তিনি নাগরিকদের শুধু কোনো একজন নেতার ওপর নির্ভর না করে নিজেদের দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আন্দোলনের পরিধি বাড়ছে

সোনম ওয়াংচুকের অনশন শুরু হলেও যন্তর মন্তরের আন্দোলন এখন বৃহত্তর তরুণ আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষার অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং সরকারি জবাবদিহির মতো বিষয়গুলো আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তরুণদের মধ্যে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মনে করছে—পরীক্ষার অনিয়মের জন্য শুধু প্রশাসনিক তদন্ত যথেষ্ট নয়, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।

আদালতের হস্তক্ষেপ

সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে দিল্লি হাইকোর্টও বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে। আদালত কর্তৃপক্ষকে তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখতে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে।তবে আদালতের অবস্থান হলো, তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসাগত প্রয়োজন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। এ নিয়ে তাঁর অনশন জোর করে ভাঙানো হবে কি না, তা চিকিৎসা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

সরকারের সঙ্গে আলোচনার দাবি

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সরকারের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা ও জবাবদিহির দাবি জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি মেনে নেওয়ার কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে ওয়াংচুকের দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর প্রতিক্রিয়া না আসায় আন্দোলন আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওয়াংচুক নিজেও জানিয়েছেন, কোনো অর্থবহ সরকারি প্রতিক্রিয়া ছাড়া তিনি অনশন প্রত্যাহার করতে চান না।

কে এই সোনম ওয়াংচুক?

সোনম ওয়াংচুক একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী। লাদাখের শিক্ষাব্যবস্থা ও পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তিনি। তাঁর জীবন ও কাজের কিছু দিক বলিউডের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর একটি চরিত্রকে অনুপ্রাণিত করেছিল বলে ব্যাপকভাবে পরিচিতি রয়েছে।এর আগে লাদাখের পরিবেশ সুরক্ষা, স্থানীয় জনগণের রাজনৈতিক অধিকার এবং অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক আন্দোলন ও অনশন করেছেন তিনি। তবে বর্তমান অনশন মূলত পরীক্ষাব্যবস্থার অনিয়ম ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে জবাবদিহির দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে।

এখন কী হতে পারে?

সোনম ওয়াংচুকের অনশন ১৯তম দিনে পৌঁছানোর পর সামনে এখন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—তাঁর শারীরিক অবস্থা, সরকারের প্রতিক্রিয়া এবং ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিমুখী পদযাত্রা।আন্দোলনকারীরা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না এলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে। অন্যদিকে চিকিৎসক ও রাজনৈতিক নেতারা ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাঁকে অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছেন।

তবে ওয়াংচুক এখনো তাঁর অবস্থানে অনড়। তাঁর বক্তব্যের সারকথা—শুধু অনশন ভাঙার আহ্বান নয়, বরং যে সমস্যার প্রতিবাদে তিনি অনশন করছেন, সেই সমস্যার সমাধান এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা, এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে, দ্য প্রিন্ট


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0