English / বাংলা
Editorial News 24

নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ঝুঁকি বাড়ার সতর্কতা আইএমএফের


প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ঝুঁকি বাড়ার সতর্কতা আইএমএফের

বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তবে একই সঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের অর্থনীতি এখনও বড় ধরনের চাপে রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আমদানি ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ বেড়েছে। এতে অর্থনীতির ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছে আইএমএফ।

আইএমএফের মিশন প্রধান আইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকা সফর করে। সফর শেষে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সফরের সময় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সরকারের সংস্কার অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচির আকার, শর্ত ও সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে আগামী মাসগুলোতে আরও আলোচনা হবে।

আইএমএফের মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে রাজস্ব, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতি—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক পণ্যমূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় মূল্যস্ফীতির চাপও বেড়েছে। একই সঙ্গে ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি সরকারের সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।

আমদানি ব্যয় বাড়ায় বৈদেশিক লেনদেনেও চাপ তৈরি হয়েছে। তবে শক্তিশালী প্রবাসী আয় অর্থনীতির জন্য কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএমএফ। সংস্থাটির মতে, ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সমন্বিত কৌশল গ্রহণ এবং সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর কার্যকর সংস্কার জরুরি। এতে আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বিনিয়োগও বাড়তে পারে।

অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের জন্য রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি কমানো এবং সেই অর্থ সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন খাতে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। পাশাপাশি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদারের কথাও বলা হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনে কঠোর মুদ্রানীতি ও সতর্ক রাজস্বনীতি অব্যাহত রাখার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। ২০২৫ সালে চালু হওয়া ‘ক্রলিং পেগ’ বিনিময় হার ব্যবস্থাও ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আইএমএফ।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলমান সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এমনকি মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের নিচেও নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে ঢাকা সফরকে ইতিবাচক উল্লেখ করে আইএমএফ জানিয়েছে, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আগামী মাসগুলোতে সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে সংস্থাটি।


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ঝুঁকি বাড়ার সতর্কতা আইএমএফের

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তবে একই সঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের অর্থনীতি এখনও বড় ধরনের চাপে রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আমদানি ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ বেড়েছে। এতে অর্থনীতির ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছে আইএমএফ।

আইএমএফের মিশন প্রধান আইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকা সফর করে। সফর শেষে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সফরের সময় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সরকারের সংস্কার অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন ঋণ কর্মসূচির আকার, শর্ত ও সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে আগামী মাসগুলোতে আরও আলোচনা হবে।

আইএমএফের মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে রাজস্ব, আর্থিক খাত ও মূল্যস্ফীতি—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক পণ্যমূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় মূল্যস্ফীতির চাপও বেড়েছে। একই সঙ্গে ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি সরকারের সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।

আমদানি ব্যয় বাড়ায় বৈদেশিক লেনদেনেও চাপ তৈরি হয়েছে। তবে শক্তিশালী প্রবাসী আয় অর্থনীতির জন্য কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএমএফ। সংস্থাটির মতে, ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সমন্বিত কৌশল গ্রহণ এবং সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর কার্যকর সংস্কার জরুরি। এতে আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বিনিয়োগও বাড়তে পারে।

অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের জন্য রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি কমানো এবং সেই অর্থ সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন খাতে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। পাশাপাশি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদারের কথাও বলা হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনে কঠোর মুদ্রানীতি ও সতর্ক রাজস্বনীতি অব্যাহত রাখার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। ২০২৫ সালে চালু হওয়া ‘ক্রলিং পেগ’ বিনিময় হার ব্যবস্থাও ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আইএমএফ।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলমান সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এমনকি মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশের নিচেও নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে ঢাকা সফরকে ইতিবাচক উল্লেখ করে আইএমএফ জানিয়েছে, বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আগামী মাসগুলোতে সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে সংস্থাটি।



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0