২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টায় মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও মরক্কো। টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফ্রান্সকে শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, তাদের হারানো আদৌ সম্ভব কি না—তা নিয়ে মত দিয়েছেন বিবিসি স্পোর্টসের একাধিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক।
পাঁচ ম্যাচে পাঁচ জয়, ১৪ গোল এবং মাত্র দুই গোল হজম—এমন পরিসংখ্যান নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে দিদিয়ের দেশমের দল। কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলে ও ব্র্যাডলি বারকোলার আক্রমণভাগ প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। বেঞ্চেও রয়েছেন দেজিরে দুয়ে ও রায়ান শেরকির মতো প্রতিভাবান ফুটবলার।সাবেক ইংল্যান্ড ও আর্সেনালের তারকা ইয়ান রাইটের মতে, এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে পরিষ্কার ফেভারিট ফ্রান্স। তবে বিবিসির অন্য বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, ফরাসিরা শক্তিশালী হলেও অপ্রতিরোধ্য নয়।
ইয়ান ডেনিস: স্পেনই সবচেয়ে বড় পরীক্ষার নাম
বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভের সিনিয়র ফুটবল প্রতিবেদক ইয়ান ডেনিসের মতে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে পরিপূর্ণ দল স্পেন। তিনি বলেন, বল দখল, রক্ষণ এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে স্পেন অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে। তার মতে, সেনেগাল ও নরওয়ের বিপক্ষে ফ্রান্স রক্ষণে কিছু দুর্বলতা দেখিয়েছে, যা মরক্কো কাজে লাগাতে পারে। তবে সম্ভাব্য সেমিফাইনালে স্পেনের বিপক্ষেই ফ্রান্সের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হবে।
ফিল ম্যাকনাল্টি: ফেভারিট হলেও হারতে পারে ফ্রান্স
বিবিসি স্পোর্টসের প্রধান ফুটবল লেখক ফিল ম্যাকনাল্টির মতে, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কার্যকর ফুটবল খেলেছে ফ্রান্স। তবে টানা ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনাল হলে সেটিই হবে দেশমের দলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তার বিশ্বাস, স্পেনের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডও মনে করবে যে ফ্রান্সকে হারানো সম্ভব।
এলিজাবেথ কনওয়ে: স্পেনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না
বিবিসির সাংবাদিক এলিজাবেথ কনওয়ের মতে, স্পেন অনেকটা আড়ালেই দারুণ ফুটবল খেলছে। লামিন ইয়ামাল পুরোপুরি ফিট না হলেও দলগত পারফরম্যান্সে তারা দুর্দান্ত। পাও কুবার্সি ও আইমেরিক লাপোর্তের রক্ষণজুটি এখন পর্যন্ত কোনো গোল হজম করেনি। রদ্রি ও পেদ্রির নিয়ন্ত্রিত মাঝমাঠও স্পেনকে এগিয়ে রাখছে।
জন মারে: ইতিহাস অন্য কথাও বলে
অভিজ্ঞ ধারাভাষ্যকার জন মারের মতে, সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফুটবল খেললেই বিশ্বকাপ জেতা যায় না। তিনি ১৯৮২ সালের ব্রাজিল, ১৯৮৬ সালের ডেনমার্ক, ২০০৬ সালের জার্মানি এবং ২০১৪ সালের ব্রাজিলের উদাহরণ টেনে বলেন, স্পেনের কাছে ফ্রান্স হারলেও সেটি অস্বাভাবিক হবে না।
নিল জনস্টন: ফ্রান্সের সেরা খেলাটা এখনও দেখা যায়নি
বিবিসির সাংবাদিক নিল জনস্টনের মতে, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে এবং এখনও দলটির প্রকৃত সামর্থ্য পুরোপুরি প্রকাশ পায়নি। এমবাপ্পে, ওলিসে ও দেম্বেলের সম্মিলিত গোল অবদান এবং সালিবা-উপামেকানোর দৃঢ় রক্ষণ ফ্রান্সকে এগিয়ে রাখছে। তার বিশ্বাস, বড় ম্যাচে বেঞ্চের শক্তিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অ্যালেক্স হাওয়েল: ইংল্যান্ডও হতে পারে বাধা
বিবিসির ইংল্যান্ড প্রতিবেদক অ্যালেক্স হাওয়েলের মতে, সম্ভাব্য ফাইনালে ইংল্যান্ড ফ্রান্সকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। ডেকলান রাইস, জুড বেলিংহাম ও এলিয়ট অ্যান্ডারসনের মাঝমাঠ ফরাসিদের বিপক্ষে লড়াইয়ে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
জন বেনেট: আক্রমণভাগই হতে পারে দুর্বলতা
বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের জন বেনেট মনে করেন, ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আক্রমণভাগ। তবে স্পেনের মতো বল দখলে দক্ষ দলের বিপক্ষে অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক কৌশল মাঝমাঠে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে মাইকেল ওলিসের রক্ষণাত্মক দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
গ্যারি রোজ: মরক্কোকেও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই
বিবিসির সাংবাদিক গ্যারি রোজের মতে, নকআউট পর্বে যেকোনো কিছুই সম্ভব। চার বছর আগে সেমিফাইনাল খেলা মরক্কো এখন আরও অভিজ্ঞ ও সংগঠিত দল। শক্তিশালী রক্ষণ এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ ফুটবল খেলতে পারলে তারা ফ্রান্সকে চমকে দিতেও পারে।
বিশ্লেষকদের সামগ্রিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্স নিঃসন্দেহে অন্যতম শক্তিশালী দল এবং শিরোপার বড় দাবিদার। তবে স্পেন, ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনা কিংবা মরক্কোর মতো দল নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারলে ফরাসিদের হারানো অসম্ভব নয়। নকআউট ফুটবলে কোনো ফলই আগে থেকে নিশ্চিত নয়।
সূত্র: বিবিসি
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টায় মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও মরক্কো। টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফ্রান্সকে শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, তাদের হারানো আদৌ সম্ভব কি না—তা নিয়ে মত দিয়েছেন বিবিসি স্পোর্টসের একাধিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক।
পাঁচ ম্যাচে পাঁচ জয়, ১৪ গোল এবং মাত্র দুই গোল হজম—এমন পরিসংখ্যান নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে দিদিয়ের দেশমের দল। কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলে ও ব্র্যাডলি বারকোলার আক্রমণভাগ প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। বেঞ্চেও রয়েছেন দেজিরে দুয়ে ও রায়ান শেরকির মতো প্রতিভাবান ফুটবলার।সাবেক ইংল্যান্ড ও আর্সেনালের তারকা ইয়ান রাইটের মতে, এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে পরিষ্কার ফেভারিট ফ্রান্স। তবে বিবিসির অন্য বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, ফরাসিরা শক্তিশালী হলেও অপ্রতিরোধ্য নয়।
ইয়ান ডেনিস: স্পেনই সবচেয়ে বড় পরীক্ষার নাম
বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভের সিনিয়র ফুটবল প্রতিবেদক ইয়ান ডেনিসের মতে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে পরিপূর্ণ দল স্পেন। তিনি বলেন, বল দখল, রক্ষণ এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে স্পেন অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে। তার মতে, সেনেগাল ও নরওয়ের বিপক্ষে ফ্রান্স রক্ষণে কিছু দুর্বলতা দেখিয়েছে, যা মরক্কো কাজে লাগাতে পারে। তবে সম্ভাব্য সেমিফাইনালে স্পেনের বিপক্ষেই ফ্রান্সের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হবে।
ফিল ম্যাকনাল্টি: ফেভারিট হলেও হারতে পারে ফ্রান্স
বিবিসি স্পোর্টসের প্রধান ফুটবল লেখক ফিল ম্যাকনাল্টির মতে, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কার্যকর ফুটবল খেলেছে ফ্রান্স। তবে টানা ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনাল হলে সেটিই হবে দেশমের দলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তার বিশ্বাস, স্পেনের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডও মনে করবে যে ফ্রান্সকে হারানো সম্ভব।
এলিজাবেথ কনওয়ে: স্পেনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না
বিবিসির সাংবাদিক এলিজাবেথ কনওয়ের মতে, স্পেন অনেকটা আড়ালেই দারুণ ফুটবল খেলছে। লামিন ইয়ামাল পুরোপুরি ফিট না হলেও দলগত পারফরম্যান্সে তারা দুর্দান্ত। পাও কুবার্সি ও আইমেরিক লাপোর্তের রক্ষণজুটি এখন পর্যন্ত কোনো গোল হজম করেনি। রদ্রি ও পেদ্রির নিয়ন্ত্রিত মাঝমাঠও স্পেনকে এগিয়ে রাখছে।
জন মারে: ইতিহাস অন্য কথাও বলে
অভিজ্ঞ ধারাভাষ্যকার জন মারের মতে, সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফুটবল খেললেই বিশ্বকাপ জেতা যায় না। তিনি ১৯৮২ সালের ব্রাজিল, ১৯৮৬ সালের ডেনমার্ক, ২০০৬ সালের জার্মানি এবং ২০১৪ সালের ব্রাজিলের উদাহরণ টেনে বলেন, স্পেনের কাছে ফ্রান্স হারলেও সেটি অস্বাভাবিক হবে না।
নিল জনস্টন: ফ্রান্সের সেরা খেলাটা এখনও দেখা যায়নি
বিবিসির সাংবাদিক নিল জনস্টনের মতে, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে এবং এখনও দলটির প্রকৃত সামর্থ্য পুরোপুরি প্রকাশ পায়নি। এমবাপ্পে, ওলিসে ও দেম্বেলের সম্মিলিত গোল অবদান এবং সালিবা-উপামেকানোর দৃঢ় রক্ষণ ফ্রান্সকে এগিয়ে রাখছে। তার বিশ্বাস, বড় ম্যাচে বেঞ্চের শক্তিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অ্যালেক্স হাওয়েল: ইংল্যান্ডও হতে পারে বাধা
বিবিসির ইংল্যান্ড প্রতিবেদক অ্যালেক্স হাওয়েলের মতে, সম্ভাব্য ফাইনালে ইংল্যান্ড ফ্রান্সকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। ডেকলান রাইস, জুড বেলিংহাম ও এলিয়ট অ্যান্ডারসনের মাঝমাঠ ফরাসিদের বিপক্ষে লড়াইয়ে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
জন বেনেট: আক্রমণভাগই হতে পারে দুর্বলতা
বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের জন বেনেট মনে করেন, ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আক্রমণভাগ। তবে স্পেনের মতো বল দখলে দক্ষ দলের বিপক্ষে অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক কৌশল মাঝমাঠে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে মাইকেল ওলিসের রক্ষণাত্মক দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
গ্যারি রোজ: মরক্কোকেও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই
বিবিসির সাংবাদিক গ্যারি রোজের মতে, নকআউট পর্বে যেকোনো কিছুই সম্ভব। চার বছর আগে সেমিফাইনাল খেলা মরক্কো এখন আরও অভিজ্ঞ ও সংগঠিত দল। শক্তিশালী রক্ষণ এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ ফুটবল খেলতে পারলে তারা ফ্রান্সকে চমকে দিতেও পারে।
বিশ্লেষকদের সামগ্রিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্স নিঃসন্দেহে অন্যতম শক্তিশালী দল এবং শিরোপার বড় দাবিদার। তবে স্পেন, ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনা কিংবা মরক্কোর মতো দল নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারলে ফরাসিদের হারানো অসম্ভব নয়। নকআউট ফুটবলে কোনো ফলই আগে থেকে নিশ্চিত নয়।
সূত্র: বিবিসি
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন