রেকর্ড তাপমাত্রায় পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। ভয়াবহ তাপপ্রবাহ ও প্রচণ্ড গরমে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশের পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ‘হিট ডোম’ বা বিশাল তাপগম্বুজের প্রভাবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
গত শনিবার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতাবার্ষিকী। তবে উৎসবের আবহ ছাপিয়ে গেছে তীব্র গরম। কয়েক দিন ধরেই চলা এই তাপপ্রবাহে দেশটির ২০টিরও বেশি অঙ্গরাজ্যে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। গত রোববারও ১৪ কোটির বেশি মানুষ তাপপ্রবাহ-সংক্রান্ত সতর্কতার আওতায় ছিলেন।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে নিউ জার্সিতে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, অঙ্গরাজ্যটির ১০টি কাউন্টিতে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশির ভাগই মধ্য ও উত্তর নিউ জার্সির বাসিন্দা।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেককে শীতাতপনিয়ন্ত্রণবিহীন বাড়িতে, বাড়ির বাইরে, সড়কে এবং পার্ক করা গাড়ির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার প্রথম তাপজনিত মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। মৃতদের বয়স ৩৫ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে। যদিও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি, প্রাথমিক তদন্তে এগুলোকে তাপপ্রবাহ-সম্পর্কিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক করে বলেছে, ‘এটি গ্রীষ্মের সাধারণ কোনো তাপপ্রবাহ নয়। এ ধরনের তাপপ্রবাহ খুব দ্রুতই সব বয়সী মানুষ ও প্রাণীর জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।’
তবে কিছুটা স্বস্তির খবরও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউএস)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উত্তর দিক থেকে শীতল বাতাস প্রবেশ করায় নিউ জার্সিসহ পূর্বাঞ্চলের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
এদিকে ১৯ জুলাই নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল। তাই আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি আয়োজক ও দর্শকদের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিউ জার্সির বাইরে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের কুক কাউন্টিতে তাপপ্রবাহ-সম্পর্কিত একজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন সরকারি মুখপাত্র নাটালিয়া ডেরেভিয়ানি। এছাড়া মিসিসিপির হাইন্ডস কাউন্টিতে প্রচণ্ড গরমে আরও দুইজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
ক্রমবর্ধমান এই তাপপ্রবাহ আবারও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বা ঠান্ডা স্থানে অবস্থান করাই এখন সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬
রেকর্ড তাপমাত্রায় পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। ভয়াবহ তাপপ্রবাহ ও প্রচণ্ড গরমে দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশের পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় ‘হিট ডোম’ বা বিশাল তাপগম্বুজের প্রভাবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
গত শনিবার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতাবার্ষিকী। তবে উৎসবের আবহ ছাপিয়ে গেছে তীব্র গরম। কয়েক দিন ধরেই চলা এই তাপপ্রবাহে দেশটির ২০টিরও বেশি অঙ্গরাজ্যে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। গত রোববারও ১৪ কোটির বেশি মানুষ তাপপ্রবাহ-সংক্রান্ত সতর্কতার আওতায় ছিলেন।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে নিউ জার্সিতে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, অঙ্গরাজ্যটির ১০টি কাউন্টিতে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশির ভাগই মধ্য ও উত্তর নিউ জার্সির বাসিন্দা।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেককে শীতাতপনিয়ন্ত্রণবিহীন বাড়িতে, বাড়ির বাইরে, সড়কে এবং পার্ক করা গাড়ির ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার প্রথম তাপজনিত মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। মৃতদের বয়স ৩৫ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে। যদিও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি, প্রাথমিক তদন্তে এগুলোকে তাপপ্রবাহ-সম্পর্কিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক করে বলেছে, ‘এটি গ্রীষ্মের সাধারণ কোনো তাপপ্রবাহ নয়। এ ধরনের তাপপ্রবাহ খুব দ্রুতই সব বয়সী মানুষ ও প্রাণীর জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।’
তবে কিছুটা স্বস্তির খবরও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউএস)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উত্তর দিক থেকে শীতল বাতাস প্রবেশ করায় নিউ জার্সিসহ পূর্বাঞ্চলের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
এদিকে ১৯ জুলাই নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল। তাই আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি আয়োজক ও দর্শকদের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিউ জার্সির বাইরে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের কুক কাউন্টিতে তাপপ্রবাহ-সম্পর্কিত একজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন সরকারি মুখপাত্র নাটালিয়া ডেরেভিয়ানি। এছাড়া মিসিসিপির হাইন্ডস কাউন্টিতে প্রচণ্ড গরমে আরও দুইজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
ক্রমবর্ধমান এই তাপপ্রবাহ আবারও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বা ঠান্ডা স্থানে অবস্থান করাই এখন সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন