English / বাংলা
Editorial News 24

কৌশলগত শহর দখলের দাবি রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের; ইউক্রেনের ড্রোন হামলার জবাবে আরও অগ্রযাত্রার ইঙ্গিত দিলেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখল করে বার্তা দিলেন পুতিন


প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখল করে বার্তা দিলেন পুতিন

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের দোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ানতিনিভকা দখলের দাবি করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে শহরটির নিয়ন্ত্রণ এখন রুশ বাহিনীর হাতে। তবে এ দাবির বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি সামরিক কমান্ড পোস্ট পরিদর্শন করে শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফিং নেন। সেখানে কোস্তিয়ানতিনিভকা দখলকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

পুতিন বলেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা বলয় আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোস্তিয়ানতিনিভকা দোনবাস অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ও শিল্পকেন্দ্র। শহরটি দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে রুশ সেনাদের জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পাশাপাশি রুশ বাহিনী বর্তমানে কোস্তিয়ানতিনিভকা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত লিমান শহরের দিকেও অগ্রসর হচ্ছে বলে দাবি করেছে মস্কো।

এদিকে পুতিন দাবি করেছেন, লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের পুরো ভূখণ্ড এখন রুশ নিয়ন্ত্রণে। এক যৌথ বাহিনীর অস্থায়ী কমান্ড পোস্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান এগিয়ে চলছে এবং লুহানস্কের সম্পূর্ণ মুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

সফরকালে উত্তরাঞ্চলীয় বাহিনীর প্রধান ইয়েভজেনি নিকিফোরভ পুতিনকে জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। এসব হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু এলাকায় জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়েছে।

এর জবাবে পুতিন বলেন, "শত্রুপক্ষ আমাদের বেসামরিক স্থাপনায় যত বেশি হামলা চালাবে, প্রতিবেশী ভূখণ্ডে আমাদের নিরাপত্তা বলয়ও তত বড় করতে হবে।"

নিকিফোরভ আরও জানান, খারকিভ ও সুমি সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে রুশ বাহিনী উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, চলতি বছরের শুরু থেকে পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়ে গেছে এবং ইউক্রেনীয় বাহিনী কয়েকটি এলাকা পুনর্দখল করেছে। তবে পুতিন এসব বক্তব্যকে "তথ্যযুদ্ধের অংশ" বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

এদিকে গত মাসে জেলেনস্কি সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিলেও ক্রেমলিন তা প্রত্যাখ্যান করে। একই সময়ে ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে মস্কো ও কিয়েভ—উভয় পক্ষই আশা করছে, মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার শিগগিরই সফরে আসতে পারেন।

সূত্র: রয়টার্স

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখল করে বার্তা দিলেন পুতিন

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের দোনেৎস্ক অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ানতিনিভকা দখলের দাবি করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে শহরটির নিয়ন্ত্রণ এখন রুশ বাহিনীর হাতে। তবে এ দাবির বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি সামরিক কমান্ড পোস্ট পরিদর্শন করে শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফিং নেন। সেখানে কোস্তিয়ানতিনিভকা দখলকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

পুতিন বলেন, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা বলয় আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোস্তিয়ানতিনিভকা দোনবাস অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ও শিল্পকেন্দ্র। শহরটি দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে। সেখানে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে রুশ সেনাদের জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। পাশাপাশি রুশ বাহিনী বর্তমানে কোস্তিয়ানতিনিভকা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত লিমান শহরের দিকেও অগ্রসর হচ্ছে বলে দাবি করেছে মস্কো।

এদিকে পুতিন দাবি করেছেন, লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের পুরো ভূখণ্ড এখন রুশ নিয়ন্ত্রণে। এক যৌথ বাহিনীর অস্থায়ী কমান্ড পোস্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান এগিয়ে চলছে এবং লুহানস্কের সম্পূর্ণ মুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

সফরকালে উত্তরাঞ্চলীয় বাহিনীর প্রধান ইয়েভজেনি নিকিফোরভ পুতিনকে জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। এসব হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু এলাকায় জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়েছে।

এর জবাবে পুতিন বলেন, "শত্রুপক্ষ আমাদের বেসামরিক স্থাপনায় যত বেশি হামলা চালাবে, প্রতিবেশী ভূখণ্ডে আমাদের নিরাপত্তা বলয়ও তত বড় করতে হবে।"

নিকিফোরভ আরও জানান, খারকিভ ও সুমি সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে রুশ বাহিনী উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, চলতি বছরের শুরু থেকে পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর হয়ে গেছে এবং ইউক্রেনীয় বাহিনী কয়েকটি এলাকা পুনর্দখল করেছে। তবে পুতিন এসব বক্তব্যকে "তথ্যযুদ্ধের অংশ" বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

এদিকে গত মাসে জেলেনস্কি সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিলেও ক্রেমলিন তা প্রত্যাখ্যান করে। একই সময়ে ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে মস্কো ও কিয়েভ—উভয় পক্ষই আশা করছে, মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার শিগগিরই সফরে আসতে পারেন।

সূত্র: রয়টার্স


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0