English / বাংলা
Editorial News 24

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে দিল্লির জন্তর মন্তরে টানা আন্দোলন; অনলাইন ব্যঙ্গগোষ্ঠী থেকে জাতীয় প্রতিবাদে রূপ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র

৪০ ডিগ্রি গরমেও রাজপথে ‘ককরোচ’ বিক্ষোভকারীরা, প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে উত্তপ্ত ভারত


প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

৪০ ডিগ্রি গরমেও রাজপথে ‘ককরোচ’ বিক্ষোভকারীরা, প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে উত্তপ্ত ভারত

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে তীব্র আকার ধারণ করেছে শিক্ষার্থী আন্দোলন। রাজধানীর জন্তর মন্তর এলাকায় টানা ১০ দিন ধরে শত শত শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী ও অধিকারকর্মী অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা উপেক্ষা করেও আন্দোলন থেকে সরে যাননি তারা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, আন্দোলনকারীরা নিজেদের পরিচয় দিচ্ছেন ‘ককরোচ’ নামে। তারা অনলাইনভিত্তিক ব্যঙ্গধর্মী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র সদস্য।

তাদের প্রধান দাবি, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় নৈতিক দায় স্বীকার করে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় দুর্নীতির অবসান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আন্দোলনে নতুন গতি আসে সুপরিচিত জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করার পর। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবিতেই তিনি আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই আন্দোলনের সূচনা হয় চলতি বছরের মে মাসে। সে সময় ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কিছু তরুণ সাংবাদিক ও কর্মীকে ‘ককরোচ’ ও ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেন। পরে তিনি বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেও বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এরপর যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত ভারতীয় শিক্ষার্থী অভিজিৎ দিপকে সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, "সব ককরোচ যদি একসঙ্গে হয়?"। সেই পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় সংগঠনটির প্রতীক তৈরি করা হয় এবং গড়ে ওঠে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।

শুরুর দিকে এটি ছিল একটি ব্যঙ্গধর্মী অনলাইন উদ্যোগ। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই এটি বেকারত্ব, চাকরির সংকট এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে তরুণদের অন্যতম বড় প্রতিবাদী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠনটির অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ বলে দাবি করা হয়েছে।

গত ৬ জুন দিল্লিতে প্রথম বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। পরে দেশের বিভিন্ন শহরে কর্মসূচি শেষে তারা আবার জন্তর মন্তরে ফিরে আসে। আন্দোলনকারীদের ঘোষণা, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি আন্দোলনকারীদের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের সহযোগী বলে মন্তব্য করেছেন। ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও সংগঠনটির কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন।

সরকার ইতোমধ্যে নতুন করে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও আন্দোলনকারীদের দাবি, কেবল পুনরায় পরীক্ষা নিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তারা শিক্ষা ব্যবস্থায় স্থায়ী সংস্কার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

আন্দোলনস্থলে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবারের দাবি—এমন কয়েকজন শিক্ষার্থীর ছবি ও নাম দিয়ে একটি স্মৃতি দেয়ালও তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিন সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা ও সাধারণ মানুষ।

সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ তাদের দাবির একটি অংশ মাত্র। তাদের মূল লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যেতে পারবে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


৪০ ডিগ্রি গরমেও রাজপথে ‘ককরোচ’ বিক্ষোভকারীরা, প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে উত্তপ্ত ভারত

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে তীব্র আকার ধারণ করেছে শিক্ষার্থী আন্দোলন। রাজধানীর জন্তর মন্তর এলাকায় টানা ১০ দিন ধরে শত শত শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী ও অধিকারকর্মী অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা উপেক্ষা করেও আন্দোলন থেকে সরে যাননি তারা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, আন্দোলনকারীরা নিজেদের পরিচয় দিচ্ছেন ‘ককরোচ’ নামে। তারা অনলাইনভিত্তিক ব্যঙ্গধর্মী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র সদস্য।

তাদের প্রধান দাবি, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় নৈতিক দায় স্বীকার করে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় দুর্নীতির অবসান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আন্দোলনে নতুন গতি আসে সুপরিচিত জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করার পর। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবিতেই তিনি আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই আন্দোলনের সূচনা হয় চলতি বছরের মে মাসে। সে সময় ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কিছু তরুণ সাংবাদিক ও কর্মীকে ‘ককরোচ’ ও ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেন। পরে তিনি বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেও বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এরপর যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত ভারতীয় শিক্ষার্থী অভিজিৎ দিপকে সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, "সব ককরোচ যদি একসঙ্গে হয়?"। সেই পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় সংগঠনটির প্রতীক তৈরি করা হয় এবং গড়ে ওঠে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।

শুরুর দিকে এটি ছিল একটি ব্যঙ্গধর্মী অনলাইন উদ্যোগ। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই এটি বেকারত্ব, চাকরির সংকট এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে তরুণদের অন্যতম বড় প্রতিবাদী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠনটির অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ বলে দাবি করা হয়েছে।

গত ৬ জুন দিল্লিতে প্রথম বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। পরে দেশের বিভিন্ন শহরে কর্মসূচি শেষে তারা আবার জন্তর মন্তরে ফিরে আসে। আন্দোলনকারীদের ঘোষণা, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি আন্দোলনকারীদের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের সহযোগী বলে মন্তব্য করেছেন। ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও সংগঠনটির কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন।

সরকার ইতোমধ্যে নতুন করে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও আন্দোলনকারীদের দাবি, কেবল পুনরায় পরীক্ষা নিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তারা শিক্ষা ব্যবস্থায় স্থায়ী সংস্কার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

আন্দোলনস্থলে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবারের দাবি—এমন কয়েকজন শিক্ষার্থীর ছবি ও নাম দিয়ে একটি স্মৃতি দেয়ালও তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিন সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা ও সাধারণ মানুষ।

সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ তাদের দাবির একটি অংশ মাত্র। তাদের মূল লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যেতে পারবে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0