English / বাংলা
Editorial News 24

নিরামিষ খাবার খেয়েও এড়াতে পারেননি সংক্রমণ; দূষিত শাকসবজির মাধ্যমে শরীরে ঢোকে ফিতাকৃমির ডিম, পরে ধরা পড়ে বিরল নিউরোসিস্টিসারকোসিস রোগ

ভারত সফর শেষে ব্রিটিশ নারীর মস্তিষ্কে মিলল ৩৮ পরজীবী, এক দশকের চিকিৎসায় সুস্থতা


প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

ভারত সফর শেষে ব্রিটিশ নারীর মস্তিষ্কে মিলল ৩৮ পরজীবী, এক দশকের চিকিৎসায় সুস্থতা

ভারত সফর শেষে এক ব্রিটিশ নারীর মস্তিষ্কে ৩৮টি জীবন্ত পরজীবী শনাক্ত হওয়ার ঘটনা চিকিৎসা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় চিকিৎসা নেওয়ার পর অবশেষে তিনি সুস্থ জীবনে ফিরতে শুরু করেছেন। ঘটনাটি সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

ভুক্তভোগী লোরি ডেনম্যান, যিনি পেশায় একজন ব্রিটিশ মিডিয়া কর্মী। ২০০৭ সালে তিন মাসের ভারত সফরে গিয়ে তিনি খাদ্যে বিষক্রিয়া এড়ানোর জন্য মাংস খাওয়া বন্ধ রেখে নিরামিষ খাবার গ্রহণ করতেন। তবে চিকিৎসকদের ধারণা, ঠিকমতো পরিষ্কার না করা শাকসবজি বা কাঁচা খাবারের মাধ্যমে তার শরীরে শূকরের ফিতাকৃমির (Pork Tapeworm) ডিম প্রবেশ করে।

এর কয়েক বছর পর, ২০১০ সালে একটি রেস্তোরাঁর শৌচাগারে তিনি শরীর থেকে প্রায় এক মিটার লম্বা একটি ফিতাকৃমি বের হতে দেখেন। শুরুতে বিষয়টিকে সাধারণ সংক্রমণ মনে হলেও এটি ছিল আরও বড় বিপদের পূর্বাভাস।

২০১১ সালে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা ও কর্মস্থলে খিঁচুনিতে আক্রান্ত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিটি স্ক্যান ও এমআরআই পরীক্ষায় চিকিৎসকরা তার মস্তিষ্কে ৩৮টি ফিতাকৃমির লার্ভা শনাক্ত করেন। পরে তার রোগ নির্ণয় হয় নিউরোসিস্টিসারকোসিস (Neurocysticercosis), যা মস্তিষ্কে ফিতাকৃমির লার্ভা দ্বারা সৃষ্ট একটি বিরল কিন্তু গুরুতর সংক্রমণ।

প্রাথমিকভাবে পরজীবীনাশক ওষুধ ও স্টেরয়েডের মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু কয়েক বছর পর মস্তিষ্কে প্রদাহ বেড়ে যাওয়ায় লোরির মধ্যে মানসিক বিভ্রম, প্যারানয়া এবং অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেয়। এমনকি তিনি নিজের দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন।

লোরির দীর্ঘদিনের বন্ধু নিকোলা ব্রাউন জানান, হাসপাতালে গিয়ে তিনি লোরিকে ছোট শিশুর মতো আচরণ করতে দেখেছিলেন। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা নিয়ে পরিবারও আশাহত হয়ে পড়েছিল।

তবে দীর্ঘ চিকিৎসার পর চিকিৎসকেরা জানান, মস্তিষ্কে থাকা পরজীবীগুলো ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে ক্যালসিফাইড (পাথরের মতো শক্ত) হয়ে গেছে। অস্ত্রোপচার ছাড়াই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ২০১৭ সালের পর থেকে তার আর নতুন করে খিঁচুনি বা মানসিক বিভ্রম দেখা যায়নি।

তবে চিকিৎসকদের মতে, অতীতের এই সংক্রমণের প্রভাবের কারণে লোরিকে ভবিষ্যতেও মৃগীরোগ নিয়ন্ত্রণে ওষুধ সেবন করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিউরোসিস্টিসারকোসিস মূলত দূষিত খাদ্য বা পানির মাধ্যমে শরীরে ফিতাকৃমির ডিম প্রবেশ করলে হতে পারে। তাই বিদেশ ভ্রমণসহ যেকোনো সময় নিরাপদ পানি পান, ফল ও শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


ভারত সফর শেষে ব্রিটিশ নারীর মস্তিষ্কে মিলল ৩৮ পরজীবী, এক দশকের চিকিৎসায় সুস্থতা

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

ভারত সফর শেষে এক ব্রিটিশ নারীর মস্তিষ্কে ৩৮টি জীবন্ত পরজীবী শনাক্ত হওয়ার ঘটনা চিকিৎসা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় চিকিৎসা নেওয়ার পর অবশেষে তিনি সুস্থ জীবনে ফিরতে শুরু করেছেন। ঘটনাটি সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

ভুক্তভোগী লোরি ডেনম্যান, যিনি পেশায় একজন ব্রিটিশ মিডিয়া কর্মী। ২০০৭ সালে তিন মাসের ভারত সফরে গিয়ে তিনি খাদ্যে বিষক্রিয়া এড়ানোর জন্য মাংস খাওয়া বন্ধ রেখে নিরামিষ খাবার গ্রহণ করতেন। তবে চিকিৎসকদের ধারণা, ঠিকমতো পরিষ্কার না করা শাকসবজি বা কাঁচা খাবারের মাধ্যমে তার শরীরে শূকরের ফিতাকৃমির (Pork Tapeworm) ডিম প্রবেশ করে।

এর কয়েক বছর পর, ২০১০ সালে একটি রেস্তোরাঁর শৌচাগারে তিনি শরীর থেকে প্রায় এক মিটার লম্বা একটি ফিতাকৃমি বের হতে দেখেন। শুরুতে বিষয়টিকে সাধারণ সংক্রমণ মনে হলেও এটি ছিল আরও বড় বিপদের পূর্বাভাস।

২০১১ সালে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা ও কর্মস্থলে খিঁচুনিতে আক্রান্ত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিটি স্ক্যান ও এমআরআই পরীক্ষায় চিকিৎসকরা তার মস্তিষ্কে ৩৮টি ফিতাকৃমির লার্ভা শনাক্ত করেন। পরে তার রোগ নির্ণয় হয় নিউরোসিস্টিসারকোসিস (Neurocysticercosis), যা মস্তিষ্কে ফিতাকৃমির লার্ভা দ্বারা সৃষ্ট একটি বিরল কিন্তু গুরুতর সংক্রমণ।

প্রাথমিকভাবে পরজীবীনাশক ওষুধ ও স্টেরয়েডের মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু কয়েক বছর পর মস্তিষ্কে প্রদাহ বেড়ে যাওয়ায় লোরির মধ্যে মানসিক বিভ্রম, প্যারানয়া এবং অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেয়। এমনকি তিনি নিজের দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন।

লোরির দীর্ঘদিনের বন্ধু নিকোলা ব্রাউন জানান, হাসপাতালে গিয়ে তিনি লোরিকে ছোট শিশুর মতো আচরণ করতে দেখেছিলেন। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে, স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা নিয়ে পরিবারও আশাহত হয়ে পড়েছিল।

তবে দীর্ঘ চিকিৎসার পর চিকিৎসকেরা জানান, মস্তিষ্কে থাকা পরজীবীগুলো ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে ক্যালসিফাইড (পাথরের মতো শক্ত) হয়ে গেছে। অস্ত্রোপচার ছাড়াই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ২০১৭ সালের পর থেকে তার আর নতুন করে খিঁচুনি বা মানসিক বিভ্রম দেখা যায়নি।

তবে চিকিৎসকদের মতে, অতীতের এই সংক্রমণের প্রভাবের কারণে লোরিকে ভবিষ্যতেও মৃগীরোগ নিয়ন্ত্রণে ওষুধ সেবন করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিউরোসিস্টিসারকোসিস মূলত দূষিত খাদ্য বা পানির মাধ্যমে শরীরে ফিতাকৃমির ডিম প্রবেশ করলে হতে পারে। তাই বিদেশ ভ্রমণসহ যেকোনো সময় নিরাপদ পানি পান, ফল ও শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0