English / বাংলা
Editorial News 24

মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়কে আইনের পরিপন্থি দাবি; ‘তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৮’ অনুযায়ী সীমিত জবাইয়ের বিধান বহাল রাখার আবেদন

গরু জবাই নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড়াল থালাপতি বিজয়ের সরকার


প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ডাউনলোড কার্ড | ভুল রিপোর্ট
নিউজ পাঠান

গরু জবাই নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড়াল থালাপতি বিজয়ের সরকার

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুতে গরু জবাইয়ের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আইনি লড়াই নতুন মোড় নিয়েছে। মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় নেতৃত্বাধীন তামিলগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে) সরকার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের দাবি—মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায় তামিলনাড়ুর বিদ্যমান আইন এবং আইনসভার ক্ষমতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এর আগে, গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ১৯৭৬ সালের সরকারি আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দিয়ে রাজ্যজুড়ে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর কার্যত পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

তবে সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা স্পেশাল লিভ পিটিশনে (SLP) রাজ্য সরকার যুক্তি দিয়েছে, ‘তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৮’ অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে গরু জবাইয়ের অনুমতি রয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, ১০ বছরের বেশি বয়সী এবং কর্মক্ষমতা বা প্রজনন ক্ষমতা হারানো গরু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে জবাই করা যেতে পারে।

সরকারের মতে, হাইকোর্টের নির্দেশনা এই আইনি বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি রাজ্যের আইনসভার নির্ধারিত ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপের শামিল।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশনার ফলে বিদ্যমান আইনের ব্যাখ্যায় অসঙ্গতি সৃষ্টি হয়েছে এবং এটি বিচারিক এখতিয়ারের সীমা অতিক্রম করেছে।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় ইন্দু মাক্কাল কাচ্চি দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সূর্য দায়ের করা একটি জনস্বার্থ আবেদনের পর। ওই আবেদনে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে গরু জবাই বন্ধে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছিল।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জি. আর. স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি. লক্ষ্মীনারায়ণ সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেন, অনুমোদিত কসাইখানা ছাড়া কোথাও পশু জবাই করা যাবে না। একই সঙ্গে ঈদুল আজহাসহ বছরের যেকোনো সময় গরু ও বাছুর জবাই ঠেকাতে রাজ্যের মুখ্য সচিব ও পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তামিলনাড়ু সরকারের দাবি, আদালতের ওই নির্দেশ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের বিদ্যমান পশু সংরক্ষণ আইন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়বে। তাই বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে রাজ্য সরকার।

এখন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ। এই মামলার রায় শুধু তামিলনাড়ুই নয়, ভারতের অন্যান্য রাজ্যে পশু জবাই-সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


গরু জবাই নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড়াল থালাপতি বিজয়ের সরকার

প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

featured Image

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুতে গরু জবাইয়ের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আইনি লড়াই নতুন মোড় নিয়েছে। মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় নেতৃত্বাধীন তামিলগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে) সরকার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারের দাবি—মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায় তামিলনাড়ুর বিদ্যমান আইন এবং আইনসভার ক্ষমতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এর আগে, গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ১৯৭৬ সালের সরকারি আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দিয়ে রাজ্যজুড়ে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর কার্যত পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

তবে সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা স্পেশাল লিভ পিটিশনে (SLP) রাজ্য সরকার যুক্তি দিয়েছে, ‘তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন, ১৯৫৮’ অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে গরু জবাইয়ের অনুমতি রয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, ১০ বছরের বেশি বয়সী এবং কর্মক্ষমতা বা প্রজনন ক্ষমতা হারানো গরু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে জবাই করা যেতে পারে।

সরকারের মতে, হাইকোর্টের নির্দেশনা এই আইনি বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি রাজ্যের আইনসভার নির্ধারিত ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপের শামিল।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশনার ফলে বিদ্যমান আইনের ব্যাখ্যায় অসঙ্গতি সৃষ্টি হয়েছে এবং এটি বিচারিক এখতিয়ারের সীমা অতিক্রম করেছে।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় ইন্দু মাক্কাল কাচ্চি দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সূর্য দায়ের করা একটি জনস্বার্থ আবেদনের পর। ওই আবেদনে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে গরু জবাই বন্ধে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছিল।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জি. আর. স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি. লক্ষ্মীনারায়ণ সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেন, অনুমোদিত কসাইখানা ছাড়া কোথাও পশু জবাই করা যাবে না। একই সঙ্গে ঈদুল আজহাসহ বছরের যেকোনো সময় গরু ও বাছুর জবাই ঠেকাতে রাজ্যের মুখ্য সচিব ও পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তামিলনাড়ু সরকারের দাবি, আদালতের ওই নির্দেশ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের বিদ্যমান পশু সংরক্ষণ আইন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়বে। তাই বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে রাজ্য সরকার।

এখন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ। এই মামলার রায় শুধু তামিলনাড়ুই নয়, ভারতের অন্যান্য রাজ্যে পশু জবাই-সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0