রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বুধবার ভোরে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও এক ডজনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটারের বেশি দূরে অবস্থিত একটি তেল শোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।
ইউক্রেনের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা জানান, বুধবার ভোরে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় পাঁচটি পেট্রোল স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন নারী নিহত হন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে পার্শ্ববর্তী জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের রাজধানীতে আরেকটি হামলায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে ইউক্রেনীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, পাল্টা অভিযানে ইউক্রেনের বাহিনী রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের উফা শহরের একটি তেল শোধনাগার এবং পেনজা অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের একটি কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, “রাশিয়া আমাদের বিরুদ্ধে যা করছে, তার সম্পূর্ণ ন্যায্য জবাব এটি। আমরা শান্তি চাই, আর রাশিয়ার নেতৃত্বেরও সেটি উপলব্ধি করা উচিত।”
এর একদিন আগে রাশিয়া দাবি করেছিল, তারা দেশজুড়ে ইউক্রেনের ৪১৯টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। মস্কো অঞ্চলে একটি হামলায় ছয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর কথাও জানিয়েছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ।
প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ইউক্রেন।
এদিকে ইউক্রেনের বিমানবাহিনীকে শক্তিশালী করতে মঙ্গলবার সুইডেনের সঙ্গে ১৬টি ব্যবহৃত গ্রিপেন ই যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি হয়েছে। বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Saab জানিয়েছে, চুক্তির মূল্য প্রায় ২৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ২ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন-এর সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী ২০২৭ সালের শুরুতে এসব যুদ্ধবিমান ইউক্রেনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, ২০২২ সালে একতরফাভাবে সংযুক্ত ঘোষণা করা দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া—এই চারটি অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য থেকে রাশিয়া সরে আসবে না। একই সঙ্গে যুদ্ধ সীমিত করার ইউক্রেনের নতুন প্রস্তাবও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বুধবার ভোরে ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং আরও এক ডজনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটারের বেশি দূরে অবস্থিত একটি তেল শোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।
ইউক্রেনের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা জানান, বুধবার ভোরে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় পাঁচটি পেট্রোল স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন নারী নিহত হন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে পার্শ্ববর্তী জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের রাজধানীতে আরেকটি হামলায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে ইউক্রেনীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, পাল্টা অভিযানে ইউক্রেনের বাহিনী রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের উফা শহরের একটি তেল শোধনাগার এবং পেনজা অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের একটি কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, “রাশিয়া আমাদের বিরুদ্ধে যা করছে, তার সম্পূর্ণ ন্যায্য জবাব এটি। আমরা শান্তি চাই, আর রাশিয়ার নেতৃত্বেরও সেটি উপলব্ধি করা উচিত।”
এর একদিন আগে রাশিয়া দাবি করেছিল, তারা দেশজুড়ে ইউক্রেনের ৪১৯টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। মস্কো অঞ্চলে একটি হামলায় ছয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর কথাও জানিয়েছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ।
প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ইউক্রেন।
এদিকে ইউক্রেনের বিমানবাহিনীকে শক্তিশালী করতে মঙ্গলবার সুইডেনের সঙ্গে ১৬টি ব্যবহৃত গ্রিপেন ই যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি হয়েছে। বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Saab জানিয়েছে, চুক্তির মূল্য প্রায় ২৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ২ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন-এর সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী ২০২৭ সালের শুরুতে এসব যুদ্ধবিমান ইউক্রেনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, ২০২২ সালে একতরফাভাবে সংযুক্ত ঘোষণা করা দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া—এই চারটি অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য থেকে রাশিয়া সরে আসবে না। একই সঙ্গে যুদ্ধ সীমিত করার ইউক্রেনের নতুন প্রস্তাবও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন