English / বাংলা
Editorial News 24

অরুণাচল প্রদেশের স্থানীয় ‘নহ্’ সম্প্রদায়ের অভিযোগ—গত ছয় বছরে চীনা সেনাবাহিনী ঐতিহ্যবাহী চারণভূমি, কৃষিজমি ও শিকার এলাকা দখল করেছে; তদন্তের দাবি জনপ্রতিনিধিদের।

ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনা সেনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ, সীমান্তের বিস্তৃত এলাকা দখলের দাবি



ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনা সেনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ, সীমান্তের বিস্তৃত এলাকা দখলের দাবি

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী আপার সুবানসিরি জেলায় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) অনুপ্রবেশ এবং বিস্তীর্ণ এলাকা দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ‘নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ দাবি করেছে, গত ছয় বছরে চীনা সেনারা তাদের ঐতিহ্যবাহী চারণভূমি, কৃষিজমি ও শিকার এলাকার একটি বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকা-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি আপার সুবানসিরির ডেপুটি কমিশনারের কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এই অভিযোগ তুলে ধরেন ‘নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র সভাপতি কেরু চাদের।


স্মারকলিপিতে তিনি বলেন, একসময় যেসব এলাকায় স্থানীয়রা অবাধে যাতায়াত করতেন, গবাদিপশু চরাতেন এবং বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতেন, সেসব জায়গা এখন চীনা সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। এতে স্থানীয়রা ধীরে ধীরে নিজেদের ঐতিহ্যগত ভূমি হারাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।


সংগঠনটির দাবি, আপার সুবানসিরির তাকসিং রাজস্ব সার্কেলের অধীনে থাকা অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চীন কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে ওইং, পানিয়ার, মারপান, পোত্রাং লেক এবং তিনদিংতাং। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব স্থানের কয়েকটি তাদের জন্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে প্রবেশ করে চীনা সেনাবাহিনী সড়ক নির্মাণ এবং স্থায়ী সামরিক অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে এই অঞ্চলে চীনের সামরিক তৎপরতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।


তবে স্থানীয়রা ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেছেন, সীমান্ত রক্ষায় সেনারা দায়িত্ব পালন করলেও চীনা বাহিনীর সাম্প্রতিক কার্যক্রমের ব্যাপকতা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।


এদিকে বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উল্লেখ করে স্থানীয় বিধায়ক নাকাপ নালো অভিযোগগুলোর দ্রুত সরকারি তদন্ত ও বাস্তবতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।


তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আপার সুবানসিরির ডেপুটি কমিশনার বা অরুণাচল প্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে ভারত সরকারও অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত বা অস্বীকার করে কোনো বিবৃতি প্রকাশ করেনি।

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনা সেনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ, সীমান্তের বিস্তৃত এলাকা দখলের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬

featured Image

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী আপার সুবানসিরি জেলায় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) অনুপ্রবেশ এবং বিস্তীর্ণ এলাকা দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ‘নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ দাবি করেছে, গত ছয় বছরে চীনা সেনারা তাদের ঐতিহ্যবাহী চারণভূমি, কৃষিজমি ও শিকার এলাকার একটি বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকা-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি আপার সুবানসিরির ডেপুটি কমিশনারের কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এই অভিযোগ তুলে ধরেন ‘নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’র সভাপতি কেরু চাদের।


স্মারকলিপিতে তিনি বলেন, একসময় যেসব এলাকায় স্থানীয়রা অবাধে যাতায়াত করতেন, গবাদিপশু চরাতেন এবং বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতেন, সেসব জায়গা এখন চীনা সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। এতে স্থানীয়রা ধীরে ধীরে নিজেদের ঐতিহ্যগত ভূমি হারাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।


সংগঠনটির দাবি, আপার সুবানসিরির তাকসিং রাজস্ব সার্কেলের অধীনে থাকা অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চীন কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে ওইং, পানিয়ার, মারপান, পোত্রাং লেক এবং তিনদিংতাং। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব স্থানের কয়েকটি তাদের জন্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে প্রবেশ করে চীনা সেনাবাহিনী সড়ক নির্মাণ এবং স্থায়ী সামরিক অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে এই অঞ্চলে চীনের সামরিক তৎপরতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।


তবে স্থানীয়রা ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেছেন, সীমান্ত রক্ষায় সেনারা দায়িত্ব পালন করলেও চীনা বাহিনীর সাম্প্রতিক কার্যক্রমের ব্যাপকতা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।


এদিকে বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উল্লেখ করে স্থানীয় বিধায়ক নাকাপ নালো অভিযোগগুলোর দ্রুত সরকারি তদন্ত ও বাস্তবতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।


তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আপার সুবানসিরির ডেপুটি কমিশনার বা অরুণাচল প্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে ভারত সরকারও অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত বা অস্বীকার করে কোনো বিবৃতি প্রকাশ করেনি।


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0