English / বাংলা
Editorial News 24

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের চার দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তি ও তাঁর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এই উদ্ধার অভিযানে নতুন আশার সঞ্চার হলেও হাজারো নিখোঁজ মানুষের ভাগ্য নিয়ে উদ্বেগ এখনো কাটেনি।

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৪ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে বাবা-ছেলে জীবিত উদ্ধার



ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৪ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে বাবা-ছেলে জীবিত উদ্ধার

ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় রাজ্য লা গুইরায় বিধ্বংসী ভূমিকম্পের চার দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক বাবা ও তাঁর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছেন ফরাসি ও মার্কিন উদ্ধারকর্মীরা। রোববারের এই সফল উদ্ধার অভিযানে এলাকাজুড়ে স্বস্তির আবহ তৈরি হলেও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখনো নিখোঁজদের খোঁজ চলছে।

উদ্ধারের পর কাপড়ের তৈরি অস্থায়ী স্ট্রেচারে করে দুজনকে জরুরি চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাবা-ছেলে দুজনই অত্যন্ত দুর্বল ছিলেন এবং তাঁদের মুখে অক্সিজেন মাস্ক পরানো ছিল।

গত বুধবার আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লা গুইরা রাজ্য। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

উদ্ধারকারী দল জানায়, প্রায় ১২ ঘণ্টার টানা প্রচেষ্টার পর বাবা-ছেলেকে জীবিত বের করে আনা সম্ভব হয়। বিশেষায়িত সার্চ ক্যামেরা ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপের ভেতরে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নড়বড়ে কংক্রিট সরিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ফরাসি সিভিল সিকিউরিটির এক সদস্য বলেন,

"চার দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার কারণে তাঁরা অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছেন। পানিশূন্যতা দূর করা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে উদ্ধারকাজ খুব ধীরগতিতে এগোচ্ছে।"

ওই এলাকায় ফরাসি সিভিল সিকিউরিটির পাশাপাশি ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি আরবান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিমের মার্কিন সদস্যরাও কাজ করছেন। এর আগের দিন একই দল ধ্বংসস্তূপ থেকে এক মা ও তাঁর ৯ মাস বয়সী শিশুকেও জীবিত উদ্ধার করে।

উদ্ধারের আগে আটকে পড়া ব্যক্তিদের শরীরে স্যালাইন (আইভি ড্রিপ) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় এবং চারপাশের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিরাপদ পথ তৈরি করা হয়। একই সময়ে অন্য উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে জীবনের কোনো চিহ্ন আছে কি না, তা অনুসন্ধান চালিয়ে যান।

সপ্তাহের শেষ দিনগুলোতে অন্তত ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও হাজারো মানুষ নিখোঁজ থাকায় জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা দ্রুত কমে আসছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সাধারণত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবুও উদ্ধারকর্মীরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৪ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে বাবা-ছেলে জীবিত উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

ভেনেজুয়েলার উপকূলীয় রাজ্য লা গুইরায় বিধ্বংসী ভূমিকম্পের চার দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক বাবা ও তাঁর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছেন ফরাসি ও মার্কিন উদ্ধারকর্মীরা। রোববারের এই সফল উদ্ধার অভিযানে এলাকাজুড়ে স্বস্তির আবহ তৈরি হলেও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এখনো নিখোঁজদের খোঁজ চলছে।

উদ্ধারের পর কাপড়ের তৈরি অস্থায়ী স্ট্রেচারে করে দুজনকে জরুরি চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাবা-ছেলে দুজনই অত্যন্ত দুর্বল ছিলেন এবং তাঁদের মুখে অক্সিজেন মাস্ক পরানো ছিল।

গত বুধবার আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লা গুইরা রাজ্য। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

উদ্ধারকারী দল জানায়, প্রায় ১২ ঘণ্টার টানা প্রচেষ্টার পর বাবা-ছেলেকে জীবিত বের করে আনা সম্ভব হয়। বিশেষায়িত সার্চ ক্যামেরা ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপের ভেতরে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নড়বড়ে কংক্রিট সরিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ফরাসি সিভিল সিকিউরিটির এক সদস্য বলেন,

"চার দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার কারণে তাঁরা অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছেন। পানিশূন্যতা দূর করা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে উদ্ধারকাজ খুব ধীরগতিতে এগোচ্ছে।"

ওই এলাকায় ফরাসি সিভিল সিকিউরিটির পাশাপাশি ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি আরবান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিমের মার্কিন সদস্যরাও কাজ করছেন। এর আগের দিন একই দল ধ্বংসস্তূপ থেকে এক মা ও তাঁর ৯ মাস বয়সী শিশুকেও জীবিত উদ্ধার করে।

উদ্ধারের আগে আটকে পড়া ব্যক্তিদের শরীরে স্যালাইন (আইভি ড্রিপ) দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় এবং চারপাশের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিরাপদ পথ তৈরি করা হয়। একই সময়ে অন্য উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে জীবনের কোনো চিহ্ন আছে কি না, তা অনুসন্ধান চালিয়ে যান।

সপ্তাহের শেষ দিনগুলোতে অন্তত ৩৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও হাজারো মানুষ নিখোঁজ থাকায় জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা দ্রুত কমে আসছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা সাধারণত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবুও উদ্ধারকর্মীরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।


Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0