English / বাংলা
Editorial News 24

তবে এর জন্য তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসতে হবে

শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন হলে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পেতে পারে ইরান: জেডি ভ্যান্স



শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন হলে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পেতে পারে ইরান: জেডি ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচিত শান্তিচুক্তির শর্ত পূরণ করতে পারলে ইরান পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের (৩০ হাজার কোটি ডলার) একটি তহবিলে প্রবেশাধিকার পেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তি বাস্তবায়নে ইরান প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলে দেশটি আবারও বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। তবে এর জন্য তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসতে হবে।ভ্যান্স বলেন, “চুক্তির আওতায় নিজেদের দায়িত্ব পালন করলে ইরান উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। পুনর্গঠন তহবিলটি গালফ কোস্ট কোয়ালিশনের অর্থায়নে গঠিত হবে।”তার দাবি, ইরানের কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো চুক্তি থেকে পাওয়া সম্ভাব্য সুবিধাগুলো তুলে ধরবে, কিন্তু এর বিনিময়ে তেহরানকে যে শর্ত ও ছাড় মেনে নিতে হয়েছে, তা আড়াল করার চেষ্টা করবে।মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে ইরানে সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয়েও তিনি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন।

এদিকে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্সকে ইরানের দাবি অনুযায়ী ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “২৪ বিলিয়ন ডলারের বিষয়টি চুক্তিতে উল্লেখ নেই। তবে জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য আমরা প্রস্তুত।”তিনি বলেন, “ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা থেকে বিরত থাকে, তাহলে তারা নিষেধাজ্ঞামুক্ত অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। আর যদি তারা সেই পথে ফিরে যায়, তাহলে আবারও আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।”

চুক্তিকে ‘দুই ধাপের যাচাই প্রক্রিয়ার’ ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ভ্যান্স। তার ভাষায়, এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে ইরান ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের পথে এগোতে না পারে।

ইসরায়েলের আপত্তির বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ভ্যান্স বলেন, চুক্তির কিছু অংশ ইসরায়েলেরও সমর্থন পেয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশিত হলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আরও স্পষ্ট হবে।ভ্যান্সের দাবি, এই সমঝোতার ফলে ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, “আমরা ইরানকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি—তারা চাইলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফিরে আসতে পারে। তবে সেটি তখনই সম্ভব হবে, যখন তারা চুক্তির প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করবে।”

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সক্ষমতা ধ্বংস করেছে এবং এখন তেহরানের সামনে শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ


আপনার মতামত লিখুন

Editorial News 24

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন হলে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পেতে পারে ইরান: জেডি ভ্যান্স

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচিত শান্তিচুক্তির শর্ত পূরণ করতে পারলে ইরান পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের (৩০ হাজার কোটি ডলার) একটি তহবিলে প্রবেশাধিকার পেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তি বাস্তবায়নে ইরান প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলে দেশটি আবারও বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। তবে এর জন্য তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসতে হবে।ভ্যান্স বলেন, “চুক্তির আওতায় নিজেদের দায়িত্ব পালন করলে ইরান উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। পুনর্গঠন তহবিলটি গালফ কোস্ট কোয়ালিশনের অর্থায়নে গঠিত হবে।”তার দাবি, ইরানের কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো চুক্তি থেকে পাওয়া সম্ভাব্য সুবিধাগুলো তুলে ধরবে, কিন্তু এর বিনিময়ে তেহরানকে যে শর্ত ও ছাড় মেনে নিতে হয়েছে, তা আড়াল করার চেষ্টা করবে।মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে ইরানে সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয়েও তিনি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন।

এদিকে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্সকে ইরানের দাবি অনুযায়ী ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “২৪ বিলিয়ন ডলারের বিষয়টি চুক্তিতে উল্লেখ নেই। তবে জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য আমরা প্রস্তুত।”তিনি বলেন, “ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা থেকে বিরত থাকে, তাহলে তারা নিষেধাজ্ঞামুক্ত অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। আর যদি তারা সেই পথে ফিরে যায়, তাহলে আবারও আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।”

চুক্তিকে ‘দুই ধাপের যাচাই প্রক্রিয়ার’ ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ভ্যান্স। তার ভাষায়, এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে ইরান ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের পথে এগোতে না পারে।

ইসরায়েলের আপত্তির বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ভ্যান্স বলেন, চুক্তির কিছু অংশ ইসরায়েলেরও সমর্থন পেয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশিত হলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আরও স্পষ্ট হবে।ভ্যান্সের দাবি, এই সমঝোতার ফলে ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, “আমরা ইরানকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছি—তারা চাইলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফিরে আসতে পারে। তবে সেটি তখনই সম্ভব হবে, যখন তারা চুক্তির প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করবে।”

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সক্ষমতা ধ্বংস করেছে এবং এখন তেহরানের সামনে শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ



Editorial News 24


© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
google.com, pub-1718561036151648, DIRECT, f08c47fec0942fa0