দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম, খুন ও গণহত্যার অভিযোগে অন্তত ১০টি মামলার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ও ইন্টারপোলের মাধ্যমে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম আবদুল কাইয়ুম ও সাবেক আইজিপি বাহারুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান কৌঁসুলি জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। তিনি র্যাবের মহাপরিচালক থাকাকালে সংঘটিত গুমের ঘটনাসহ একাধিক মামলায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া চট্টগ্রামের কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ড এবং শাপলা চত্বরের ঘটনার সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত চলছে।তিনি বলেন, বেনজীরের বিরুদ্ধে আরও অন্তত সাত থেকে দশটি মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এসব ঘটনায় তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি ইতোমধ্যে পুলিশের এনসিবিতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিবিকে চিঠি দেওয়া হবে, যা পরবর্তীতে ইন্টারপোলের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে।
২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং তার আগে র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেনজীর আহমেদ। অবসরের পর তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, দুর্নীতি, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের অভিযোগে একাধিক তদন্ত শুরু হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত চলছে।
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়। সেই নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক আইজিপি বাহারুল ইসলাম বলেন, রেড নোটিশ জারির পর ইন্টারপোলের সংশ্লিষ্ট শাখা স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। এরপর দুই দেশের কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
যদিও বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই, তবুও কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা গেলে চলমান মামলাগুলোতে তাকে আদালতে হাজির করা হবে। তদন্তাধীন মামলাগুলোর প্রয়োজনে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হবে। তিনি বলেন, আইনের আওতায় এনে সব অভিযোগের বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সূত্র: বিডিনিউজ
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬
দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম, খুন ও গণহত্যার অভিযোগে অন্তত ১০টি মামলার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ও ইন্টারপোলের মাধ্যমে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম আবদুল কাইয়ুম ও সাবেক আইজিপি বাহারুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান কৌঁসুলি জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। তিনি র্যাবের মহাপরিচালক থাকাকালে সংঘটিত গুমের ঘটনাসহ একাধিক মামলায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া চট্টগ্রামের কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ড এবং শাপলা চত্বরের ঘটনার সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত চলছে।তিনি বলেন, বেনজীরের বিরুদ্ধে আরও অন্তত সাত থেকে দশটি মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এসব ঘটনায় তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি ইতোমধ্যে পুলিশের এনসিবিতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিবিকে চিঠি দেওয়া হবে, যা পরবর্তীতে ইন্টারপোলের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে।
২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং তার আগে র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেনজীর আহমেদ। অবসরের পর তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, দুর্নীতি, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের অভিযোগে একাধিক তদন্ত শুরু হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত চলছে।
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়। সেই নোটিশের ভিত্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সাবেক আইজিপি বাহারুল ইসলাম বলেন, রেড নোটিশ জারির পর ইন্টারপোলের সংশ্লিষ্ট শাখা স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। এরপর দুই দেশের কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
যদিও বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই, তবুও কূটনৈতিক যোগাযোগ ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা গেলে চলমান মামলাগুলোতে তাকে আদালতে হাজির করা হবে। তদন্তাধীন মামলাগুলোর প্রয়োজনে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হবে। তিনি বলেন, আইনের আওতায় এনে সব অভিযোগের বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
সূত্র: বিডিনিউজ
 (1500 x 470 px)_20260524_154935_0000.png)
আপনার মতামত লিখুন